চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে কোটা সংস্কার আন্দোলন এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত ৫ জুন ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সৈয়ব আহমেদ সিয়াম এবং দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী রাসেল আহমদের প্ল্যাকার্ড হাতে ব্যতিক্রমী প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুতই ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা নেয়ামত উল্লাহ ফারাবীর উদ্যোগে ফেসবুকে ‘কোটা পুনর্বহাল চলবে না, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়’ নামক একটি গ্রুপ খোলার পর আন্দোলন আরও সংগঠিত রূপ লাভ করে। প্রাথমিক পর্যায়ে ছাত্রশিবির গোপনে ব্যানার ও মাইকসহ বিভিন্ন লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করে।
ঈদের ছুটির পর ১ জুলাই থেকে চবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি শুরু হয়। ৪ জুলাই শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়ক অবরোধ করেন। পরদিন ষোলশহরে একটি কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চট্টগ্রাম শহরে ছড়িয়ে পড়ে। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক রাসেল আহমদ, সহ-সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফী, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের বর্তমান সভাপতি আবদুর রহমান প্রমুখ। তাদের নেতৃত্বে ছাত্রশিবির, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেন। এসব কর্মসূচিতে ছাত্রীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। পাশাপাশি ছাত্রলীগের একটি অংশও এই আন্দোলনে শরিক হয়।
১১ জুলাই রেল ও সড়কপথ অবরোধের পর টাইগারপাসে পুলিশের লাঠিচার্জ এবং ১৪ জুলাই আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ আখ্যা দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই রাতেই চবির জিরো পয়েন্টে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে ‘তুমি কে, আমি কে?, রাজাকার রাজাকার’ স্লোগান দিলে ছাত্রলীগের ক্যাডাররা তাদের ওপর চড়াও হয়। পরদিন সহ-সমন্বয়ক রাফীকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা প্রক্টর কার্যালয়ে তুলে নেওয়াকে কেন্দ্র করে আবারও হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চাকসুর বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান গুরুতর আহত হন। একই দিন বিকেলে ষোলশহর রেলস্টেশনে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। শিক্ষার্থীরা পাথর নিক্ষেপ করে তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করে।
এরপর ১৬ জুলাই মুরাদপুরের একটি কর্মসূচিতে চবি, বিভিন্ন সরকারি কলেজ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এদিন শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণ করে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ছাত্রদল নেতা… (এখানে খবরের শেষাংশ অসম্পূর্ণ রয়েছে)।
রিপোর্টারের নাম 
























