ঢাকা ০১:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চিহ্নিত অপরাধীদের ‘সেফ এক্সিট’ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ সোচ্চার থাকবে: ডাকসু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) গুম, খুন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নির্দেশদাতা শেখ হাসিনা ও তার ফ্যাসিবাদী প্রশাসনের সকল সদস্যের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের এই মঞ্চটি বলেছে, ডিজিএফআই, র‍্যাবসহ সংশ্লিষ্ট সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যেসব কর্মকর্তা এই ধরনের অপরাধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন, তাদেরও আইনের আওতায় আনা আবশ্যক।

শনিবার (১১ অক্টোবর) ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ এবং এজিএস মহিউদ্দিন খান এক যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য জানান। একইসঙ্গে তারা ঘোষণা করেন যে, চিহ্নিত অপরাধীদের ‘সেফ এক্সিট’ বা দায়মুক্তি দেওয়ার যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ সচেতন ও সোচ্চার থাকবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনামল ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার সময়। ওই সময়ে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত গুম, খুন, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল। গুম কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী ইতোমধ্যে ১৮০০-এর অধিক গুমের অভিযোগ জমা পড়েছে। এর শিকার হয়েছেন সাধারণ নাগরিক, শিক্ষার্থী, নারী, শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। এমনকি শিশুরাও এই নৃশংসতা থেকে রেহাই পায়নি।

এতে আরও বলা হয়, বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শিক্ষার্থী এই গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন। তাদের অনেককে রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে আটক, নির্যাতন ও গুম করা হয়েছে। এখনও অনেক শিক্ষার্থী ও ছাত্র নেতার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি এবং তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা আমাদের অজানা।

বিবৃতিতে আরও উদ্বেগজনকভাবে উঠে এসেছে যে, গুম কমিশনের প্রতিবেদনে গুম-খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধে একটি পার্শ্ববর্তী দেশের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়েছে। এই বিষয়টি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি এক গভীর হুমকি বলে তারা মনে করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই গুম-খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য শুধু স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ও তার রাজনৈতিক মহলই দায়ী নন। র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সংস্থা এবং তাদের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সরাসরি এই কাজে যুক্ত ছিলেন। ‘আয়নাঘর’সহ গোপন বন্দিশালায় যে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা সভ্য সমাজে অত্যন্ত লজ্জাজনক ও নিন্দনীয়। রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে অসংখ্য নাগরিককে জোরপূর্বক গুম করে ফেলা, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং তাদের ‘জঙ্গি’ হিসেবে প্রচার করা ছিল রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের একটি পরিকল্পিত কৌশল।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং একটি সংস্থার প্রধানসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে গুম, গোপন আটক ও নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। এই পদক্ষেপ গুম ও রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের দীর্ঘদিনের বেদনা-বিক্ষোভে কিছুটা আশার আলো জাগিয়েছে। তবে এটি যথেষ্ট নয় বলেও তারা মনে করেন।

বিবৃতিতে ডাকসু জোর দিয়ে বলেছে, গুম-খুন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের নির্দেশদাতা শেখ হাসিনা ও তার ফ্যাসিবাদী প্রশাসনের সব সদস্যের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। র‍্যাবসহ সংশ্লিষ্ট সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যেসব কর্মকর্তা এই অপরাধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। গুম কমিশনের তদন্তকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে পরিচালনা করতে হবে যাতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ন্যায়বিচার পায়। তারা পুনরায় হুঁশিয়ারি দেন যে, চিহ্নিত অপরাধীদের ‘সেফ এক্সিট’ বা দায়মুক্তি দেওয়ার যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ সোচ্চার থাকবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথের বেদখল হল উদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস এমপি হামিদের

চিহ্নিত অপরাধীদের ‘সেফ এক্সিট’ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ সোচ্চার থাকবে: ডাকসু

আপডেট সময় : ০৪:৩১:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) গুম, খুন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নির্দেশদাতা শেখ হাসিনা ও তার ফ্যাসিবাদী প্রশাসনের সকল সদস্যের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের এই মঞ্চটি বলেছে, ডিজিএফআই, র‍্যাবসহ সংশ্লিষ্ট সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যেসব কর্মকর্তা এই ধরনের অপরাধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন, তাদেরও আইনের আওতায় আনা আবশ্যক।

শনিবার (১১ অক্টোবর) ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ এবং এজিএস মহিউদ্দিন খান এক যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য জানান। একইসঙ্গে তারা ঘোষণা করেন যে, চিহ্নিত অপরাধীদের ‘সেফ এক্সিট’ বা দায়মুক্তি দেওয়ার যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ সচেতন ও সোচ্চার থাকবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনামল ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার সময়। ওই সময়ে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত গুম, খুন, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল। গুম কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী ইতোমধ্যে ১৮০০-এর অধিক গুমের অভিযোগ জমা পড়েছে। এর শিকার হয়েছেন সাধারণ নাগরিক, শিক্ষার্থী, নারী, শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। এমনকি শিশুরাও এই নৃশংসতা থেকে রেহাই পায়নি।

এতে আরও বলা হয়, বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শিক্ষার্থী এই গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন। তাদের অনেককে রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে আটক, নির্যাতন ও গুম করা হয়েছে। এখনও অনেক শিক্ষার্থী ও ছাত্র নেতার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি এবং তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা আমাদের অজানা।

বিবৃতিতে আরও উদ্বেগজনকভাবে উঠে এসেছে যে, গুম কমিশনের প্রতিবেদনে গুম-খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধে একটি পার্শ্ববর্তী দেশের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়েছে। এই বিষয়টি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি এক গভীর হুমকি বলে তারা মনে করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই গুম-খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য শুধু স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ও তার রাজনৈতিক মহলই দায়ী নন। র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সংস্থা এবং তাদের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সরাসরি এই কাজে যুক্ত ছিলেন। ‘আয়নাঘর’সহ গোপন বন্দিশালায় যে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা সভ্য সমাজে অত্যন্ত লজ্জাজনক ও নিন্দনীয়। রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে অসংখ্য নাগরিককে জোরপূর্বক গুম করে ফেলা, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং তাদের ‘জঙ্গি’ হিসেবে প্রচার করা ছিল রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের একটি পরিকল্পিত কৌশল।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং একটি সংস্থার প্রধানসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে গুম, গোপন আটক ও নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। এই পদক্ষেপ গুম ও রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের দীর্ঘদিনের বেদনা-বিক্ষোভে কিছুটা আশার আলো জাগিয়েছে। তবে এটি যথেষ্ট নয় বলেও তারা মনে করেন।

বিবৃতিতে ডাকসু জোর দিয়ে বলেছে, গুম-খুন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের নির্দেশদাতা শেখ হাসিনা ও তার ফ্যাসিবাদী প্রশাসনের সব সদস্যের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। র‍্যাবসহ সংশ্লিষ্ট সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যেসব কর্মকর্তা এই অপরাধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। গুম কমিশনের তদন্তকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে পরিচালনা করতে হবে যাতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ন্যায়বিচার পায়। তারা পুনরায় হুঁশিয়ারি দেন যে, চিহ্নিত অপরাধীদের ‘সেফ এক্সিট’ বা দায়মুক্তি দেওয়ার যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ সোচ্চার থাকবে।