ঢাকা ০৫:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

ব্যস্ত নগরজীবনে ‘একলা চলো রে’: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলো

ব্যস্ত নগরজীবনে যেখানে মানুষ প্রায়শই নিজের গণ্ডিতে আবদ্ধ, সেখানে কিছু মানুষ আছেন যারা অন্যের জীবনে পরিবর্তনের আলো জ্বালানোর স্বপ্ন দেখেন। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটানো, তাদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা এবং মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার এমনই এক মহৎ প্রচেষ্টার নাম ‘একলা চলো রে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়’।

অলাভজনক এই সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়েছিল ঢাকায়। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এর কার্যক্রম শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংগঠনটি শুধু একটি উদ্যোগ হিসেবে নয়, বরং একটি মানবিক আন্দোলনের রূপ নিতে শুরু করেছে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য। বর্তমানে সংগঠনটি একটি নির্বাচিত কমিটির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। সম্প্রতি ‘একলা চলো রে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়’-এর জন্য ৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম সমন্বয় এবং পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন।

শুধু শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করাই নয়, শিশুদের সামগ্রিক বিকাশের বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে সংগঠনটি। বর্তমানে সপ্তাহে দুদিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল স্টেশন প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত ক্লাস নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় ৬০ জন শিক্ষার্থী এবং ২৫ জন নিয়মিত শিক্ষক যুক্ত রয়েছেন। এসব শিক্ষার্থীর অনেকেই সমাজের বিভিন্ন সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সন্তান, যাদের অনেকের জন্য নিয়মিত শিক্ষার সুযোগ পাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করছে ‘একলা চলো রে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়’।

সংগঠনটির শিক্ষাদান পদ্ধতি কেবল বইয়ের পাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীদের সামাজিক আচরণ, স্বাস্থ্যবিধি, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং নৈতিক শিক্ষার বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে শেখানো হয়। কারণ শিক্ষার প্রকৃত অর্থ কেবল পরীক্ষায় ভালো ফল করা নয়, বরং একজন সচেতন ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠা। বিশেষত নারী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়েও কাজ করছে সংগঠনটি। নারী শিক্ষকদের মাধ্যমে ছাত্রীদের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা-বিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়, যা সমাজে এখনও অনেক ক্ষেত্রে উপেক্ষিত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ভূমিকার গুরুত্ব অপরিসীম: সেলিম উদ্দিন

ব্যস্ত নগরজীবনে ‘একলা চলো রে’: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলো

আপডেট সময় : ০২:৫৯:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

ব্যস্ত নগরজীবনে যেখানে মানুষ প্রায়শই নিজের গণ্ডিতে আবদ্ধ, সেখানে কিছু মানুষ আছেন যারা অন্যের জীবনে পরিবর্তনের আলো জ্বালানোর স্বপ্ন দেখেন। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটানো, তাদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা এবং মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার এমনই এক মহৎ প্রচেষ্টার নাম ‘একলা চলো রে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়’।

অলাভজনক এই সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়েছিল ঢাকায়। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এর কার্যক্রম শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংগঠনটি শুধু একটি উদ্যোগ হিসেবে নয়, বরং একটি মানবিক আন্দোলনের রূপ নিতে শুরু করেছে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য। বর্তমানে সংগঠনটি একটি নির্বাচিত কমিটির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। সম্প্রতি ‘একলা চলো রে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়’-এর জন্য ৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম সমন্বয় এবং পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন।

শুধু শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করাই নয়, শিশুদের সামগ্রিক বিকাশের বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে সংগঠনটি। বর্তমানে সপ্তাহে দুদিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল স্টেশন প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত ক্লাস নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় ৬০ জন শিক্ষার্থী এবং ২৫ জন নিয়মিত শিক্ষক যুক্ত রয়েছেন। এসব শিক্ষার্থীর অনেকেই সমাজের বিভিন্ন সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সন্তান, যাদের অনেকের জন্য নিয়মিত শিক্ষার সুযোগ পাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করছে ‘একলা চলো রে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়’।

সংগঠনটির শিক্ষাদান পদ্ধতি কেবল বইয়ের পাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীদের সামাজিক আচরণ, স্বাস্থ্যবিধি, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং নৈতিক শিক্ষার বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে শেখানো হয়। কারণ শিক্ষার প্রকৃত অর্থ কেবল পরীক্ষায় ভালো ফল করা নয়, বরং একজন সচেতন ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠা। বিশেষত নারী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়েও কাজ করছে সংগঠনটি। নারী শিক্ষকদের মাধ্যমে ছাত্রীদের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা-বিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়, যা সমাজে এখনও অনেক ক্ষেত্রে উপেক্ষিত।