দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি)-এর নতুন ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক ও কীটতত্ত্ববিদ প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান। সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের আদেশক্রমে জারি করা প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন সহকারী সচিব মো. শাহ আলম সিরাজ।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে পবিপ্রবির এন্টোমোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহানকে তাঁর বর্তমান পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে ভাইস-চ্যান্সেলর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, তিনি যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী চার বছর এই দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি তাঁর বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা এবং বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। এছাড়াও, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তিনি সার্বক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। তবে, রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনবোধে যেকোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করার অধিকার সংরক্ষণ করেন।
প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান ১৯৭৭ সালের ২৮ অক্টোবর পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার রামপুর গ্রামের এক শিক্ষানুরাগী ও সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক পরিবেশ থেকেই তিনি শিক্ষা, নৈতিকতা ও সমাজসেবার আদর্শে বেড়ে ওঠেন। তাঁর পিতা অ্যাডভোকেট মাওলানা আ.ফ.ম. শাহজাহান ছিলেন একজন বিশিষ্ট আলেম, আইনজীবী ও সমাজচিন্তক। অন্যদিকে, তাঁর মা বেগম লতিফা জাহান একজন শিক্ষিকা, যিনি সন্তানদের ভবিষ্যৎ গঠনের জন্য নিজের কর্মজীবন বিসর্জন দিয়েছিলেন।
শৈশব থেকেই মেধাবী ড. হেমায়েত জাহান উচ্চশিক্ষার জন্য এন্টোমোলজি বা কীটতত্ত্ব বিষয়কে বেছে নেন। পরবর্তীতে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার বিখ্যাত Kyungpook National University থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। সেখানে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি বৈজ্ঞানিক জগতে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন। তাঁর গবেষণাকর্ম কৃষি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। ২০০৩ সালে তিনি পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্টোমোলজি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। দুই দশকেরও বেশি সময়ের শিক্ষকতা জীবনে তিনি অধ্যাপক পদে উন্নীত হন এবং শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি একজন প্রিয় শিক্ষক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
রিপোর্টারের নাম 



















