ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে (ডাকসু) ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেওয়া ‘আজীবন সদস্যপদ’ বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছেন নবনির্বাচিত ডাকসু প্রতিনিধিরা। ২০১৯ সালের বিতর্কিত এই সিদ্ধান্তটি বাতিল করার প্রক্রিয়ায় নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সিদ্ধান্তের পটভূমি ও পূর্ববর্তী বিতর্ক
২০১৯ সালের ২৩ মার্চ ডাকসুর প্রথম কার্যনির্বাহী সভায় তৎকালীন আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাহরিমা তানজিনা অর্নি প্রথম শেখ হাসিনাকে আজীবন সদস্য করার প্রস্তাব দেন। পরে ৩০ মে তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানীর উদ্যোগে প্রস্তাবটি ‘সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত’ বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।
সে সময় ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর এবং সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন তীব্র বিরোধিতা করেন। তাদের দাবি ছিল—ডাকসুর গঠনতন্ত্রে আজীবন সদস্য পদের কোনো বিধান নেই, এবং আগে এ ধরনের বিধান থাকলেও তা বাতিল করা হয়েছিল।
গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার সদস্যপদের বিরোধিতা করায় তৎকালীন সরকার নুরের ওপর একাধিকবার হামলা চালিয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতি ও বাতিলের উদ্যোগ
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে প্রায় ছয় বছর পর নতুন করে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টিতে জয়ী হয়ে ২০২৫ সালের ডাকসুতে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভারতে পলায়নরত শেখ হাসিনার এই সদস্যপদ নিয়ে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
নবনির্বাচিত ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিরীহ মানুষের রক্তে হাত রাঙানো ‘খুনি শেখ হাসিনার’ নাম ডাকসুর সদস্য হিসেবে থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি মনে করেন, ডাকসু শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক মঞ্চ, এখানে স্বৈরশাসন বা খুনির স্থান হতে পারে না। ২০১৯ সালে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই সদস্যপদ দেওয়া হয়েছিল, যা ডাকসুর ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়।
অন্যান্য প্রতিনিধিদের মতামত: ডাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মহিউদ্দিন খান জানান, ডাকসুর আগামী সাধারণ সভায় তাঁরা শেখ হাসিনার সদস্যপদ বাতিলের দাবি উত্থাপন করবেন এবং এটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হবে বলে আশা করেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মো: ইকবাল হায়দার এটিকে অযৌক্তিক ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেন। কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক উম্মে ছালমা এবং কার্যনির্বাহী সদস্য রাইসুল ইসলাম ও মিফতাহুল হোসেইন আল মারুফ দ্রুত এই ‘স্বৈরশাসকের’ সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কথা জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া: শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এ বিষয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে এই সিদ্ধান্তকে ডাকসুর ইতিহাসে ‘সবচেয়ে অপমানজনক’ এবং আইনগতভাবে অবৈধ বলে মন্তব্য করে নতুন ডাকসুর কাছে ভুল সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 





















