ঢাকা ০২:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬

দারিদ্র্য জয়ের অদম্য লড়াই: দিনে কলেজ, রাতে চা বিক্রি করেন শিক্ষার্থী জিহাদ

জামালপুর শহরের পাঁচ রাস্তা মোড়ে সন্ধ্যার ব্যস্ততায় যখন ধোঁয়া ওঠা চায়ের আড্ডা জমে ওঠে, তখন হাসিমুখে ক্রেতাদের হাতে কাপ তুলে দেন ১৮ বছর বয়সি তরুণ জিহাদ। তবে জিহাদের পরিচয় শুধু একজন চা বিক্রেতা হিসেবে নয়; তিনি একজন স্বপ্নবাজ সংগ্রামী শিক্ষার্থী। জামালপুর শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের এই ছাত্র প্রতিদিন সকালে কলেজে ক্লাস করেন এবং বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বাবার চায়ের দোকানে কাজ করেন।

জিহাদের বাবা আব্দুর রশিদ দীর্ঘ দিন ধরে চা বিক্রি করে পাঁচ সদস্যের সংসার চালাচ্ছেন। অভাবের সংসারে বাবার কষ্ট লাঘব করতে এবং নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাতে জিহাদ এই কঠোর পরিশ্রম বেছে নিয়েছেন। সারাদিন কাজ শেষে রাতে বাড়িতে ফিরে শুরু হয় তার গভীর রাত পর্যন্ত পড়াশোনা। দারিদ্র্যকে জয় করে উচ্চশিক্ষিত হওয়ার এক অদম্য ইচ্ছা তাকে প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগায়।

ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা শেষ করে দেশের উন্নয়নে কাজ করার পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে চান জিহাদ। তার বাবা আব্দুর রশিদ জানান, শত অভাব থাকলেও ছেলেকে সুশিক্ষিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই তার একমাত্র লক্ষ্য। প্রতিকূলতার মাঝেও জিহাদের এই হার না মানা মানসিকতা বর্তমান প্রজন্মের অনেক শিক্ষার্থীর জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলনের অগ্রসেনানী মাহের ইউনুসের জীবনাবসান

দারিদ্র্য জয়ের অদম্য লড়াই: দিনে কলেজ, রাতে চা বিক্রি করেন শিক্ষার্থী জিহাদ

আপডেট সময় : ০১:১০:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

জামালপুর শহরের পাঁচ রাস্তা মোড়ে সন্ধ্যার ব্যস্ততায় যখন ধোঁয়া ওঠা চায়ের আড্ডা জমে ওঠে, তখন হাসিমুখে ক্রেতাদের হাতে কাপ তুলে দেন ১৮ বছর বয়সি তরুণ জিহাদ। তবে জিহাদের পরিচয় শুধু একজন চা বিক্রেতা হিসেবে নয়; তিনি একজন স্বপ্নবাজ সংগ্রামী শিক্ষার্থী। জামালপুর শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের এই ছাত্র প্রতিদিন সকালে কলেজে ক্লাস করেন এবং বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বাবার চায়ের দোকানে কাজ করেন।

জিহাদের বাবা আব্দুর রশিদ দীর্ঘ দিন ধরে চা বিক্রি করে পাঁচ সদস্যের সংসার চালাচ্ছেন। অভাবের সংসারে বাবার কষ্ট লাঘব করতে এবং নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাতে জিহাদ এই কঠোর পরিশ্রম বেছে নিয়েছেন। সারাদিন কাজ শেষে রাতে বাড়িতে ফিরে শুরু হয় তার গভীর রাত পর্যন্ত পড়াশোনা। দারিদ্র্যকে জয় করে উচ্চশিক্ষিত হওয়ার এক অদম্য ইচ্ছা তাকে প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগায়।

ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা শেষ করে দেশের উন্নয়নে কাজ করার পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে চান জিহাদ। তার বাবা আব্দুর রশিদ জানান, শত অভাব থাকলেও ছেলেকে সুশিক্ষিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই তার একমাত্র লক্ষ্য। প্রতিকূলতার মাঝেও জিহাদের এই হার না মানা মানসিকতা বর্তমান প্রজন্মের অনেক শিক্ষার্থীর জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা।