একসময় ভোরের আলো ফোটার আগেই গ্রামের প্রতিটি বাড়ি থেকে ভেসে আসত ঢেঁকির সেই চিরচেনা ‘ঢকর ঢকর’ শব্দ। নিস্তব্ধ রাত ভেঙে পাড়ায় পাড়ায় ধান ভানা কিংবা পিঠা তৈরির জন্য চালের গুঁড়া করার যে ধুম পড়ত, তা আজ যান্ত্রিক সভ্যতার ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে। আধুনিক রাইস মিল আর বিদ্যুৎচালিত মেশিনের দাপটে গ্রামীণ ঐতিহ্যের ধারক এই কাঠের যন্ত্রটি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, আগের মতো এখন আর বাড়ির উঠানে ঢেঁকির দেখা মেলে না। প্রবীণরা স্মৃতিচারণ করে জানান, দুই-তিন দশক আগেও ঢেঁকি ছাড়া গ্রামীণ জীবন কল্পনা করা অসম্ভব ছিল। বিশেষ করে শীতের সকালে নতুন ধানের চাল দিয়ে পিঠা তৈরির উৎসবে ঢেঁকিই ছিল প্রধান ভরসা। প্রতিবেশী নারীরা মিলেমিশে কাজ করার সেই আনন্দময় পরিবেশ এখন কেবলই ধূসর স্মৃতি।
শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মীদের মতে, ঢেঁকি কেবল ধান ভানার যন্ত্র ছিল না, এটি ছিল আমাদের শেকড় এবং সম্প্রীতির প্রতীক। নতুন প্রজন্মের কাছে ঢেঁকি এখন রূপকথার গল্পের মতো। আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে এই প্রাচীন নিদর্শনগুলোকে সংরক্ষণ করা জরুরি। যান্ত্রিকতা আমাদের কাজ সহজ করলেও কেড়ে নিয়েছে শেকড়ের সেই প্রাণের স্পন্দন ও পারস্পরিক উষ্ণতা।
রিপোর্টারের নাম 

























