প্রখর দাবদাহে প্রকৃতি যখন ক্লান্ত ও শুষ্ক, ঠিক তখনই চারপাশকে উজ্জ্বল করে ফোটে সোনালু ফুল। গ্রীষ্মের তামাটে রোদের বুক চিরে এর হলুদ পুষ্পমঞ্জুরি যেন প্রকৃতির বুকে নেমে আসে এক সোনালি বৃষ্টির ধারা। গ্রামের মেঠো পথ থেকে শুরু করে শহরের কংক্রিটের কাঠামো পর্যন্ত সর্বত্র সোনালুর এই দৃষ্টিনন্দন উপস্থিতি গ্রীষ্মের কঠোরতাকে এক ভিন্ন রূপ দেয়।
সোনালু, বৈজ্ঞানিকভাবে যা Cassia fistula নামে পরিচিত, ‘ফ্যাবেসি’ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একটি মাঝারি আকারের বৃক্ষ। এর শাখা-প্রশাখা তুলনামূলকভাবে কম। সোনালুর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর দীর্ঘ লতানো পুষ্পমঞ্জুরি, যা এক থেকে দেড় ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। ফুলগুলো দেখতে অনেকটা আঙুর ফলের থোকার মতো নিচের দিকে ঝুলে থাকে এবং প্রতিটি ফুলে পাঁচটি পাপড়ি ও মাঝখানে কাস্তের মতো বাঁকানো পুংকেশর থাকে। সোনালুর বিশেষত্ব হলো, ফুল ফোটার সময় গাছে খুব কম পাতা থাকে, যার ফলে পুরো গাছটিই সোনালি রঙে আবৃত হয়ে এক অসাধারণ রূপ ধারণ করে।
বাংলার প্রকৃতিতে সোনালুর বিভিন্ন নাম প্রচলিত। কেউ একে ‘সোঁদাল’ বলেন, আবার কেউ এর ফলের আকৃতির কারণে একে ‘বানরলাঠি’ নামে ডাকেন। সোনালুর ফলগুলো এক থেকে দুই ফুট লম্বা লাঠির মতো হয়; কাঁচা অবস্থায় সবুজ থাকলেও পাকার পর তা কালচে খয়েরি রঙ ধারণ করে। গ্রামের শিশুরা অনেক সময় এই ফল নিয়ে খেলাধুলা করে, যেখান থেকে ‘বানরলাঠি’ নামটি এসেছে বলে ধারণা করা হয়।
সোনালু কেবল তার সৌন্দর্যের জন্যই নয়, এর রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ঔষধি গুণাগুণ। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে সোনালুর পাতা, বাকল এবং ফলের শাঁস বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এবং চর্মরোগ নিরাময়ে এটি অত্যন্ত কার্যকর বলে বিবেচিত।
বর্তমানে নগরায়ণের বিস্তার এবং দ্রুত বর্ধনশীল বিদেশি গাছের আধিপত্যের কারণে আমাদের এই দেশি সোনালু গাছ বিলুপ্তির পথে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং গ্রীষ্মের এই নান্দনিক সোনালি রূপ ধরে রাখতে রাস্তার ধারে, পার্কে বা বাড়ির আঙিনায় আরও বেশি করে সোনালু গাছ রোপণ করা অপরিহার্য।
রিপোর্টারের নাম 
























