প্রজাপতি, লেপিডোপ্টেরা বর্গের এক বিস্ময়কর পতঙ্গ, তার উজ্জ্বল রঙ এবং আকর্ষণীয় রূপে সহজেই মানুষের নজর কাড়ে। বেশিরভাগ প্রজাপতিই দিনের বেলায় সক্রিয় থাকে, যা তাদের সৌন্দর্যকে আরও বেশি দৃশ্যমান করে তোলে। এদের মাথায় থাকে গোলাকার পুঞ্জাক্ষি বা গুচ্ছচোখ এবং দেহ ১০টি খণ্ডে বিভক্ত, যার শেষ কয়েকটি খণ্ড প্রজনন অঙ্গে রূপান্তরিত হয়।
জানা যায়, প্রায় ১০ কোটি বছর আগে উত্তর আমেরিকার আকাশে প্রথম প্রজাপতির আগমন ঘটেছিল। এদের একটি বিশেষ ক্ষমতা হলো পা দিয়ে ভেজা মাটি থেকে পানি শোষণ করতে পারা। প্রজাপতির জীবনচক্র ডিম থেকে শুরু হয়ে চারটি ধাপে সম্পূর্ণ হয়: ডিম, লার্ভা (শুঁয়োপোকা), পিউপা এবং পূর্ণাঙ্গ প্রজাপতি। আমাদের দেশে সাধারণত ‘পিলিয়ো ডেমোলিয়াস’ (Papilio demoleus) প্রজাতির প্রজাপতি বেশি দেখা যায়।
স্ত্রী প্রজাপতি সাধারণত গাছের পাতার নিচের তলে ডিম পাড়ে, যা আকন্দ, মুলো বা সরষের মতো গাছে বেশি দেখা যায়। একটি স্ত্রী প্রজাপতি একবারে ৫০০ থেকে এক হাজার পর্যন্ত ডিম পাড়তে পারে। দেখতে পোস্তদানার মতো ছোট, প্রায় এক মিলিমিটার লম্বা এবং শূন্য দশমিক ৫ মিলিমিটার চওড়া এই ডিমগুলো প্রথমে হলুদ থাকে, পরে ধূসর বর্ণ ধারণ করে। ডিমের গায়ে লম্বা রেখা ও আড়াআড়ি খাঁজ দেখা যায়।
চার-পাঁচ দিন পর ডিম থেকে লার্ভা বেরিয়ে আসে, যা শুঁয়োপোকা বা ক্যাটারপিলার নামে পরিচিত। লার্ভা ডিমের খোলস খেয়ে তার জীবন শুরু করে। এদের শরীরে প্রচুর শুঁয়ো থাকে এবং এরা প্রচুর পরিমাণে পাতা খেয়ে দ্রুত বড় হয়। পূর্ণাঙ্গ লার্ভা হওয়ার আগে এরা পাঁচবার খোলস ত্যাগ করে এবং এই সময়ে তারা খাওয়া বন্ধ রাখে। একটি পরিণত লার্ভা প্রায় ৪৫ মিলিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এবং এর দেহে ১৪টি দেহখণ্ডক থাকে, যার মধ্যে প্রথমটি মাথা এবং পরের তিনটি বুক গঠন করে।
রিপোর্টারের নাম 

























