বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে যুক্তরাষ্ট্র এখন থেকে সহায়তাভিত্তিক সম্পর্কের পরিবর্তে বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জানিয়েছেন যে পারস্পরিক স্বার্থ ও সমান সুযোগের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই অর্থনৈতিক সম্পর্কই আগামী দিনে দুই দেশের সহযোগিতার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। শনিবার ঢাকায় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি উল্লেখ করেন যে আমেরিকা ফার্স্ট নীতির অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র একা চলবে বরং তারা এমন একটি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চায় যা দুই দেশের মানুষের জন্যই নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরও জানান যে বাংলাদেশের শক্তিশালী বেসরকারি খাত এবং তরুণ জনশক্তি ও ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এই দেশটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত করার সক্ষমতা রাখে। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি মনে করেন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস করা এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও ভালোভাবে কাজে লাগাতে সক্ষম হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যসেবাসহ প্রতিরক্ষা খাতেও দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিন জানান যে সরকার দেশে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বাড়াতে নানামুখী নীতিগত সহায়তা প্রদান করছে এবং দেশি বিদেশি সকল বিনিয়োগকারীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন বিদেশি বিনিয়োগের ফলে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রাজস্ব বৃদ্ধি ও প্রযুক্তির পাশাপাশি উদ্ভাবনী খাতেরও দ্রুত বিকাশ ঘটবে। বাংলাদেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী এবং সম্প্রসারিত অভ্যন্তরীণ বাজার ও অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ হাইটেক পার্কগুলো আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় পরিবেশ তৈরি করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন গত তিন দশকে টেলিযোগাযোগ থেকে শুরু করে তৈরি পোশাক ও চিকিৎসা সরঞ্জাম খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ আনতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং ভবিষ্যতেও এই বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণে তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাবেন।
রিপোর্টারের নাম 
























