বাংলাদেশে চলতি বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হতে পারে বলে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কীটতত্ত্ববিদ এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের বিশাল চাপ কীভাবে সামলানো হবে তা নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ এবং দুর্ঘটনার শিকার রোগীদের পাশাপাশি হাম ও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ডাক্তার ও নার্সদের প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে।
দেশের সবচেয়ে বড় চিকিৎসাকেন্দ্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তাদের ছাব্বিশ শত শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে। হাম ও ডেঙ্গু আক্রান্তদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে অধিকাংশ স্বাস্থ্যকর্মীকে দিনরাত হাসপাতালে অবস্থান করতে হচ্ছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী শুক্রবার সকাল পর্যন্ত হামে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছেন সাতশ ঊনত্রিশ জন। অন্যদিকে চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ছয় হাজার চারশ আটান্ন জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং প্রাণ হারিয়েছেন উনিশ জন। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবের বাইরেও ডেঙ্গুতে মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে।
কীটতত্ত্ববিদরা সতর্ক করে বলেছেন এবার রাজধানীর তুলনায় ঢাকার বাইরের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এডিস মশার প্রজনন অনেক বেশি। গত বছর বরগুনা জেলাসহ বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা দেখা গিয়েছিল। রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড গোলাম ছারোয়ার জানান দেশব্যাপী মশা নিধনে এখনই ক্রাশ প্রোগ্রাম চালু করা প্রয়োজন। রাজশাহী নগরীতেও এডিস মশার প্রজনন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত উচ্চ ঝুঁকির সীমার ওপরে অবস্থান করছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ডা বেনজির আহমেদ এবং জনস্বাস্থ্যবিদ ডা মোস্তাক হোসেন উভয়ই গ্রামাঞ্চলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা আবু হোসেন মোহাম্মদ মইনুল আহাসান জানিয়েছেন দেশব্যাপী মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করতে সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসক এবং পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























