ঢাকা ০৪:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আর নেই

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫১:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ অক্টোবর ২০২৫
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক, খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক এবং প্রাবন্ধিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম মারা গেছেন। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

অন্যপ্রকাশ-এর প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে তাঁর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

মাজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের মরদেহ শনিবার (১১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে যাওয়া হবে। বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে জানাজা শেষে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে মাজহারুল ইসলাম এক ফেসবুক পোস্টে জানান, অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হওয়ায় তাঁকে শুক্রবার সকালে পুনরায় লাইফসাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। সে সময় তিনি লিখেছিলেন, স্যারের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং চিকিৎসকরা প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (৩ অক্টোবর) অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে যাওয়ার পথে গাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর গাড়িচালক একজনের সহায়তায় তাঁকে প্রথমে মোহাম্মদপুরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাঁকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, তাঁর ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। এরপর অস্ত্রোপচার করে তাঁর দুটি রিং পরানো হয়।

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম সিলেট শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম ছিল সৈয়দ আমীরুল ইসলাম এবং মায়ের নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৬ সালে মাধ্যমিক এবং সিলেট এমসি কলেজ থেকে ১৯৬৮ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭১ ও ১৯৭২ সালে তিনি যথাক্রমে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৮১ সালে কানাডার কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইয়েটস-এর কবিতায় ইমানুয়েল সুইডেনবার্গের দর্শনের প্রভাব নিয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

তিনি সত্তর দশকে লেখালেখি শুরু করলেও, স্বেচ্ছাবিরতির পর আশির দশকে বাংলা কথাসাহিত্যে তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম নিয়মিত কলাম লিখতেন; একদম শুরুর দিকে সংবাদ সাময়িকীতে প্রকাশিত তাঁর ‘অলস দিনের হাওয়া’ কলামটি তাঁকে পাঠক মহলে পরিচিত করে তোলে। তিনি মূলত বিদেশি সাহিত্য ও সাহিত্যিকদের নিয়ে আলোচনা করতেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে— স্বনিরবাচিত শ্রেষ্ঠ গল্প (১৯৯৪), থাকা না থাকার গল্প (১৯৯৫), কাচ ভাঙ্গা রাতের গল্প (১৯৯৮), অন্ধকার ও আলো দেখার গল্প (২০০১), প্রেম ও প্রার্থনার গল্প (২০০৫), সুখদুঃখের গল্প, বেলা অবেলার গল্প।

তাঁর উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে— আধখানা মানুষ্য (২০০৬), দিনরাত্রিগুলি, আজগুবি রাত, তিন পর্বের জীবন, যোগাযোগের গভীর সমস্যা নিয়ে কয়েকজন একা একা লোক (ব্রাত্য রাইসু’র সহযোগে), কানাগলির মানুষেরা।

এছাড়াও তাঁর প্রবন্ধ ও গবেষণাগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: নন্দনতত্ত্ব (১৯৮৬), কতিপয় প্রবন্ধ (১৯৯২), অলস দিনের হাওয়া, মোহাম্মদ কিবরিয়া এবং সুবীর চৌধুরীর সহযোগে রবীন্দ্রানাথের জ্যামিতি ও অন্যান্য শিল্পপ্রসঙ্গ।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর, বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছে তাওসিফ সামি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আর নেই

আপডেট সময় : ০৭:৫১:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ অক্টোবর ২০২৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক, খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক এবং প্রাবন্ধিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম মারা গেছেন। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

অন্যপ্রকাশ-এর প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে তাঁর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

মাজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের মরদেহ শনিবার (১১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে যাওয়া হবে। বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে জানাজা শেষে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে মাজহারুল ইসলাম এক ফেসবুক পোস্টে জানান, অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হওয়ায় তাঁকে শুক্রবার সকালে পুনরায় লাইফসাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। সে সময় তিনি লিখেছিলেন, স্যারের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং চিকিৎসকরা প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (৩ অক্টোবর) অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে যাওয়ার পথে গাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর গাড়িচালক একজনের সহায়তায় তাঁকে প্রথমে মোহাম্মদপুরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাঁকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, তাঁর ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। এরপর অস্ত্রোপচার করে তাঁর দুটি রিং পরানো হয়।

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম সিলেট শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম ছিল সৈয়দ আমীরুল ইসলাম এবং মায়ের নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৬ সালে মাধ্যমিক এবং সিলেট এমসি কলেজ থেকে ১৯৬৮ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭১ ও ১৯৭২ সালে তিনি যথাক্রমে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৮১ সালে কানাডার কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইয়েটস-এর কবিতায় ইমানুয়েল সুইডেনবার্গের দর্শনের প্রভাব নিয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

তিনি সত্তর দশকে লেখালেখি শুরু করলেও, স্বেচ্ছাবিরতির পর আশির দশকে বাংলা কথাসাহিত্যে তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম নিয়মিত কলাম লিখতেন; একদম শুরুর দিকে সংবাদ সাময়িকীতে প্রকাশিত তাঁর ‘অলস দিনের হাওয়া’ কলামটি তাঁকে পাঠক মহলে পরিচিত করে তোলে। তিনি মূলত বিদেশি সাহিত্য ও সাহিত্যিকদের নিয়ে আলোচনা করতেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে— স্বনিরবাচিত শ্রেষ্ঠ গল্প (১৯৯৪), থাকা না থাকার গল্প (১৯৯৫), কাচ ভাঙ্গা রাতের গল্প (১৯৯৮), অন্ধকার ও আলো দেখার গল্প (২০০১), প্রেম ও প্রার্থনার গল্প (২০০৫), সুখদুঃখের গল্প, বেলা অবেলার গল্প।

তাঁর উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে— আধখানা মানুষ্য (২০০৬), দিনরাত্রিগুলি, আজগুবি রাত, তিন পর্বের জীবন, যোগাযোগের গভীর সমস্যা নিয়ে কয়েকজন একা একা লোক (ব্রাত্য রাইসু’র সহযোগে), কানাগলির মানুষেরা।

এছাড়াও তাঁর প্রবন্ধ ও গবেষণাগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: নন্দনতত্ত্ব (১৯৮৬), কতিপয় প্রবন্ধ (১৯৯২), অলস দিনের হাওয়া, মোহাম্মদ কিবরিয়া এবং সুবীর চৌধুরীর সহযোগে রবীন্দ্রানাথের জ্যামিতি ও অন্যান্য শিল্পপ্রসঙ্গ।