ঢাকা ০৫:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

ইরান ইস্যুতে সম্পর্কে ফাটল, সৌদি আরব থেকে সেনা কমানোর চিন্তাভাবনা যুক্তরাষ্ট্রের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১০:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে। ওয়াশিংটনের ইরান যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তে রিয়াদ ক্ষুব্ধ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরব থেকে তাদের সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের একটি গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক আগের তুলনায় অনেক বেশি শীতল হয়ে পড়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালও তাদের এক প্রতিবেদনে একই ধরনের তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলো নিরাপদে বের করে এনে ইরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেছিল। এই অভিযানে সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু সৌদি সরকার এতে অনুমতি না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পনাটি বাতিল করতে বাধ্য হয়।

সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় তিনি দুই দিনেরও কম সময়ের মধ্যে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, সৌদি আরবের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে হোয়াইট হাউস রিয়াদের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ স্থগিত রাখার হুমকি দেয়। সৌদি আরব এই ইন্টারসেপ্টরগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করতে ব্যবহার করছিল।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র এখন সৌদি আরবে তাদের সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে আনার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপসাগরীয় অঞ্চল সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইন গেলেও সৌদি আরব সফর করেননি, যা রিয়াদকে কূটনৈতিক অবজ্ঞা হিসেবে দেখার সুযোগ তৈরি করেছে। এর এক সপ্তাহ আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন, যেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন। এই ঘটনাগুলো ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় ওয়াশিংটনের ভূমিকার প্রতি সৌদি অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগে সৌদি আরব ট্রাম্প প্রশাসনকে সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিল। রিয়াদের আশঙ্কা ছিল যে ইরানের সরকার উৎখাত হলে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ শহীদদের স্মরণে সরকারি উদাসীনতা দুঃখজনক: জামায়াত নেতা

ইরান ইস্যুতে সম্পর্কে ফাটল, সৌদি আরব থেকে সেনা কমানোর চিন্তাভাবনা যুক্তরাষ্ট্রের

আপডেট সময় : ০৪:১০:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে। ওয়াশিংটনের ইরান যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তে রিয়াদ ক্ষুব্ধ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরব থেকে তাদের সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের একটি গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক আগের তুলনায় অনেক বেশি শীতল হয়ে পড়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালও তাদের এক প্রতিবেদনে একই ধরনের তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলো নিরাপদে বের করে এনে ইরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেছিল। এই অভিযানে সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু সৌদি সরকার এতে অনুমতি না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পনাটি বাতিল করতে বাধ্য হয়।

সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় তিনি দুই দিনেরও কম সময়ের মধ্যে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, সৌদি আরবের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে হোয়াইট হাউস রিয়াদের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ স্থগিত রাখার হুমকি দেয়। সৌদি আরব এই ইন্টারসেপ্টরগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করতে ব্যবহার করছিল।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র এখন সৌদি আরবে তাদের সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে আনার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপসাগরীয় অঞ্চল সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইন গেলেও সৌদি আরব সফর করেননি, যা রিয়াদকে কূটনৈতিক অবজ্ঞা হিসেবে দেখার সুযোগ তৈরি করেছে। এর এক সপ্তাহ আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন, যেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন। এই ঘটনাগুলো ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় ওয়াশিংটনের ভূমিকার প্রতি সৌদি অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগে সৌদি আরব ট্রাম্প প্রশাসনকে সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিল। রিয়াদের আশঙ্কা ছিল যে ইরানের সরকার উৎখাত হলে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে।