ঢাকা ০৭:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রেরণার উৎস: প্রধানমন্ত্রী

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২০:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে শুধু অতীত ইতিহাস নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অফুরন্ত প্রেরণার উৎস হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, নজরুল আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অপরিহার্য অংশ।

বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আয়োজনে এক ভার্চুয়াল সভায় (জুম প্ল্যাটফর্ম) বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সরকার ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কালকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। একই অনুষ্ঠানে কবির স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ ঘোষণার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিষয়টিও জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিটি রাষ্ট্র ও সমাজে এমন কিছু ক্ষণজন্মা মানুষ জন্ম নেন, যারা আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক জীবন, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সামাজিক মূল্যবোধ এবং মনোজগতে গভীর প্রভাব ফেলেন। কবি নজরুল তেমনই এক বিরল ব্যক্তিত্ব, যার প্রভাব কৈশোর থেকে পরিণত বয়স পর্যন্ত আমাদের জীবনের সকল স্তরে অপরিসীম। তিনি বিদ্রোহী কবি, প্রেমের কবি, বিরহের কবি, তারুণ্যের কবি এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্যের কবি হিসেবে আমাদের জাতীয়, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম। পরাধীন ও পর্যুদস্ত জাতির ভাগ্যাকাশে তাঁর আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো।

প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, পরাধীনতা, জুলুম, নির্যাতন, শোষণ, অসাম্য, বৈষম্য, কুসংস্কার—যা কিছু অন্যায়, অবিচার ও অসুন্দর, তার বিরুদ্ধে কবির কলম ছিল এক শাণিত অস্ত্র। বিপ্লব, বিদ্রোহ, রণসঙ্গীত, ইসলামী তাহজীব তমদ্দুন, ইসলামী মূল্যবোধের গান, ভজন-কীর্তন, শ্যামা সঙ্গীত, প্রেম, প্রকৃতি কিংবা মানবিক মূল্যবোধ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই নজরুলের প্রকাশ ছিল শুদ্ধ ও কালজয়ী। মাতৃভূমিকে ভালোবাসার ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান দিশারি। আমাদের জীবন, আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন, সংগ্রাম, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য তাঁর রচনার মধ্যে মহিমাময় হিসেবে উচ্চারিত হয়েছে। কবি নজরুলের সৃষ্টিশীলতার মধ্যে সকল কালের, সকল মানুষের জন্য আতিথ্য রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

এইচএসসির প্রথম দিনে অনুপস্থিত প্রায় ২৫ হাজার পরীক্ষার্থী, বহিষ্কার ৭

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রেরণার উৎস: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৫:২০:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে শুধু অতীত ইতিহাস নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অফুরন্ত প্রেরণার উৎস হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, নজরুল আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অপরিহার্য অংশ।

বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আয়োজনে এক ভার্চুয়াল সভায় (জুম প্ল্যাটফর্ম) বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সরকার ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কালকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। একই অনুষ্ঠানে কবির স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ ঘোষণার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিষয়টিও জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিটি রাষ্ট্র ও সমাজে এমন কিছু ক্ষণজন্মা মানুষ জন্ম নেন, যারা আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক জীবন, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সামাজিক মূল্যবোধ এবং মনোজগতে গভীর প্রভাব ফেলেন। কবি নজরুল তেমনই এক বিরল ব্যক্তিত্ব, যার প্রভাব কৈশোর থেকে পরিণত বয়স পর্যন্ত আমাদের জীবনের সকল স্তরে অপরিসীম। তিনি বিদ্রোহী কবি, প্রেমের কবি, বিরহের কবি, তারুণ্যের কবি এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্যের কবি হিসেবে আমাদের জাতীয়, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম। পরাধীন ও পর্যুদস্ত জাতির ভাগ্যাকাশে তাঁর আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো।

প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, পরাধীনতা, জুলুম, নির্যাতন, শোষণ, অসাম্য, বৈষম্য, কুসংস্কার—যা কিছু অন্যায়, অবিচার ও অসুন্দর, তার বিরুদ্ধে কবির কলম ছিল এক শাণিত অস্ত্র। বিপ্লব, বিদ্রোহ, রণসঙ্গীত, ইসলামী তাহজীব তমদ্দুন, ইসলামী মূল্যবোধের গান, ভজন-কীর্তন, শ্যামা সঙ্গীত, প্রেম, প্রকৃতি কিংবা মানবিক মূল্যবোধ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই নজরুলের প্রকাশ ছিল শুদ্ধ ও কালজয়ী। মাতৃভূমিকে ভালোবাসার ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান দিশারি। আমাদের জীবন, আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন, সংগ্রাম, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য তাঁর রচনার মধ্যে মহিমাময় হিসেবে উচ্চারিত হয়েছে। কবি নজরুলের সৃষ্টিশীলতার মধ্যে সকল কালের, সকল মানুষের জন্য আতিথ্য রয়েছে।