ঢাকা ০৫:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় জুলাই: কোটা আন্দোলন থেকে নবাব সিরাজউদ্দৌলার শাহাদাত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১২:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের ইতিহাসে জুলাই মাসটি নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী। উচ্চশিক্ষা, রাজনৈতিক অধিকার আদায়, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং সাম্প্রতিক সময়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন—সবকিছুই এই মাসের বিভিন্ন দিনে স্থান করে নিয়েছে।

১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে, যা পূর্ববঙ্গের উচ্চশিক্ষা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। এর আট বছর পর, ১৯২৯ সালের ১ জুলাই বাংলার কৃষক, প্রজা ও সাধারণ জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত হয় ‘নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি’। এই সংগঠনটি জমিদার প্রথার কারণে বঞ্চিত কৃষক সমাজের দাবি-দাওয়া তুলে ধরতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির সংগ্রামের এক বেদনাদায়ক অধ্যায় রচিত হয়েছিল ১৭৫৭ সালের ২ জুলাই। পলাশীর যুদ্ধে পরাজয়ের পর এদিন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে মুর্শিদাবাদে বন্দি অবস্থায় মীরনের নির্দেশে হত্যা করা হয়। প্রায় দুই শতাব্দী পর, ব্রিটিশ ভারতের শেষ পর্যায়ে ১৯৪৬ সালের ৩ জুলাই অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, যা ছিল তৎকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভারত বিভাগের পূর্ববর্তী ঘটনাবলির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের ইতিহাসে সাঁওতাল বিদ্রোহও এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৮৫৫ সালের ৭ জুলাই সিধু মুরমু ও কানু মুরমুর নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই ‘হুল’ (বিদ্রোহ) দ্রুত ব্যাপকতা লাভ করে। ভোগনাদিহে হাজার হাজার সাঁওতাল সমবেত হয়ে ব্রিটিশ শাসন, জমিদার ও মহাজনদের শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রামের শপথ গ্রহণ করে।

সাম্প্রতিক সময়ে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসও দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ১ জুলাই সরকারের কোটা বাতিলের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করে এবং তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। এরপর ২ থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচি পালন করে। ৭ জুলাই শিক্ষার্থীরা ‘বাংলা ব্লকেড’-এর ডাক দেয়, যার আওতায় তারা বিক্ষোভ সমাবেশ, মিছিল এবং মহাসড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচি অব্যাহত রাখে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ শহীদদের স্মরণে সরকারি উদাসীনতা দুঃখজনক: জামায়াত নেতা

বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় জুলাই: কোটা আন্দোলন থেকে নবাব সিরাজউদ্দৌলার শাহাদাত

আপডেট সময় : ০৪:১২:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের ইতিহাসে জুলাই মাসটি নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী। উচ্চশিক্ষা, রাজনৈতিক অধিকার আদায়, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং সাম্প্রতিক সময়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন—সবকিছুই এই মাসের বিভিন্ন দিনে স্থান করে নিয়েছে।

১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে, যা পূর্ববঙ্গের উচ্চশিক্ষা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। এর আট বছর পর, ১৯২৯ সালের ১ জুলাই বাংলার কৃষক, প্রজা ও সাধারণ জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত হয় ‘নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি’। এই সংগঠনটি জমিদার প্রথার কারণে বঞ্চিত কৃষক সমাজের দাবি-দাওয়া তুলে ধরতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির সংগ্রামের এক বেদনাদায়ক অধ্যায় রচিত হয়েছিল ১৭৫৭ সালের ২ জুলাই। পলাশীর যুদ্ধে পরাজয়ের পর এদিন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে মুর্শিদাবাদে বন্দি অবস্থায় মীরনের নির্দেশে হত্যা করা হয়। প্রায় দুই শতাব্দী পর, ব্রিটিশ ভারতের শেষ পর্যায়ে ১৯৪৬ সালের ৩ জুলাই অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, যা ছিল তৎকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভারত বিভাগের পূর্ববর্তী ঘটনাবলির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের ইতিহাসে সাঁওতাল বিদ্রোহও এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৮৫৫ সালের ৭ জুলাই সিধু মুরমু ও কানু মুরমুর নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই ‘হুল’ (বিদ্রোহ) দ্রুত ব্যাপকতা লাভ করে। ভোগনাদিহে হাজার হাজার সাঁওতাল সমবেত হয়ে ব্রিটিশ শাসন, জমিদার ও মহাজনদের শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রামের শপথ গ্রহণ করে।

সাম্প্রতিক সময়ে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসও দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ১ জুলাই সরকারের কোটা বাতিলের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করে এবং তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। এরপর ২ থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচি পালন করে। ৭ জুলাই শিক্ষার্থীরা ‘বাংলা ব্লকেড’-এর ডাক দেয়, যার আওতায় তারা বিক্ষোভ সমাবেশ, মিছিল এবং মহাসড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচি অব্যাহত রাখে।