শিশুর শৈশব তার ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি। এই সময়ে সে যা শেখে, দেখে ও অনুশীলন করে, তা তার চরিত্র, মূল্যবোধ ও জীবনদর্শনে গভীর প্রভাব ফেলে। তাই একজন মুসলিম শিশুর প্রথম পরিচয় হওয়া উচিত পবিত্র কোরআনের সঙ্গে, শুধু মোবাইল বা ডিজিটাল ডিভাইসের সঙ্গে নয়।
বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি শিশুদের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। তবে নিয়ন্ত্রণহীন মোবাইল ব্যবহার শিশুদের মনোযোগ, ভাষা বিকাশ, পড়াশোনার আগ্রহ, সামাজিক দক্ষতা ও মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি অল্প বয়সে অনুপযুক্ত বিষয়বস্তুর সংস্পর্শে আসার ঝুঁকিও বাড়ে। তাই প্রযুক্তির ব্যবহার হতে হবে সীমিত ও অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে।
ইসলামে ছোটবেলা থেকেই কোরআন শিক্ষার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ শৈশবে স্মৃতিশক্তি সবচেয়ে প্রখর থাকে এবং এ সময় শেখা বিষয় দীর্ঘস্থায়ী হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন,
“নিশ্চয় এই কোরআন এমন পথ প্রদর্শন করে, যা সর্বাধিক সরল ও সঠিক।”
(সুরা আল-ইসরা: ৯)
আরও ইরশাদ হয়েছে,
“আমি অবশ্যই কোরআনকে উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ করে দিয়েছি। অতএব, উপদেশ গ্রহণকারী কি কেউ আছে?”
(সুরা আল-কামার: ১৭)
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
“তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে কোরআন শিক্ষা করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়।”
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০২৭)
অন্য হাদিসে তিনি বলেন,
“তোমরা কোরআন তিলাওয়াত করো। কেননা কিয়ামতের দিন এটি তার পাঠকারীদের জন্য সুপারিশকারী হিসেবে উপস্থিত হবে।”
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮০৪)
সাহাবায়ে কেরাম ও সালাফে সালেহিনও তাদের সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই কোরআনের শিক্ষা ও ভালোবাসায় গড়ে তুলতেন। তাদের বিশ্বাস ছিল, কোরআনের আলোয় বেড়ে ওঠা সন্তানই নৈতিকতা, তাকওয়া ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী হয়।
যে শিশু ছোটবেলা থেকেই কোরআনের সঙ্গে বেড়ে ওঠে, তার মধ্যে আল্লাহভীতি, সত্যবাদিতা, দয়া, নম্রতা, দায়িত্ববোধ ও ইবাদতের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এ ক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাবা-মা নিজেরা কোরআন তিলাওয়াত করলে শিশুদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় কোরআন পড়া, ছোট ছোট সূরা মুখস্থ করানো, সহজ অর্থ শেখানো, নবীদের ঘটনা শোনানো এবং ভালো কাজের জন্য উৎসাহ দেওয়া শিশুদের কোরআনের প্রতি ভালোবাসা গড়ে তুলতে সহায়ক।
মোবাইল শিশুদের সাময়িক বিনোদন দিতে পারে, কিন্তু চরিত্র গঠন করতে পারে না। কোরআন মানুষকে আল্লাহর পরিচয় দেয়, নৈতিকতা শেখায়, সঠিক পথ দেখায় এবং দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার দিকনির্দেশনা দেয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
“হে মানুষ! তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে উপদেশ, অন্তরের রোগের আরোগ্য, মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত এসেছে।”
(সুরা ইউনুস: ৫৭)
তাই অভিভাবকদের উচিত প্রযুক্তির প্রয়োজনীয় ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিশুদের হৃদয়ে কোরআনের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করা। কারণ আজকের শিশুরাই আগামী দিনের সমাজ ও জাতির নেতৃত্ব দেবে। তাদের প্রথম সঙ্গী যদি কোরআন হয়, তবে তারা নৈতিকতা, মানবিকতা ও তাকওয়ার আলোয় আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।
রিপোর্টারের নাম 























