লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় গত ৬০ দিনের মধ্যে অন্তত ৯টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় জনমনে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। পারিবারিক বিরোধ, মাদক প্রতিরোধ, জমি-সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব, অপহরণ এবং রহস্যজনক ঘটনাগুলোর জেরে এসব প্রাণহানি ঘটেছে। একের পর এক এই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডগুলো উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটে গত ২৫ জুন সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকায়। একটি ভাড়া বাসায় শাহীনুর বেগম (৩৮), তার কলেজপড়ুয়া বড় মেয়ে সাইমা, মেজো মেয়ে ইকরা আক্তার (১৮) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)-কে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর সন্দেহভাজন এক যুবক গণপিটুনিতে নিহত হন। একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার এই লোমহর্ষক ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
এর আগে, মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত টাইলস মিস্ত্রি সাগর (৩২) টানা ১৮ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার এই মৃত্যু মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এ ছাড়া, উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের পূর্ব চরপাতা এলাকায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধে মো. হানিফ (৬২) নিহত হন। একই সময়ে কেরোয়া ইউনিয়নের নয়ারহাট এলাকায় নিখোঁজের একদিন পর শিশু সানি আল ফারাবির লাশ একটি খাল থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। অন্যদিকে, দক্ষিণ গাইয়ারচর এলাকায় অপহরণের পর হত্যা করা হয় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক রাজিব (১৮)-কে। পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবির একদিন পর একটি বাগান থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়, যেখানে নিহতের মাথায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
টানা এই হত্যাকাণ্ডগুলোর কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় হলেও, অপরাধ প্রতিরোধে আরও কার্যকর ও গোয়েন্দাভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। সচেতন মহলের মতে, ক্রমবর্ধমান এসব হত্যাকাণ্ড রায়পুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরাধ দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত টহল জোরদার করা অত্যাবশ্যক।
রিপোর্টারের নাম 























