ঢাকা ০৮:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

রেমিট্যান্সে বড় ধাক্কা: আট মাসে সর্বনিম্ন, জুনে কমেছে ৬১ কোটি ৯০ লাখ ডলার

সদ্য সমাপ্ত জুন মাসে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। এ মাসে প্রবাসী আয় নেমে এসেছে ২ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলারে, যা গত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগের মাস মে মাসের তুলনায় রেমিট্যান্স কমেছে ৬১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। একই সঙ্গে এটি ২০২৫ সালের জুনের তুলনায়ও ২ কোটি ৩০ লাখ ডলার কম। এর মধ্য দিয়ে ডিসেম্বর থেকে টানা ছয় মাস ধরে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রবাসী আয় আসার ধারার অবসান ঘটেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুনে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮০ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এর আগের মাস মে মাসে এ পরিমাণ ছিল ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। আর ২০২৫ সালের জুনে দেশে এসেছিল ২৮২ কোটি ৩০ লাখ ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত টানা ছয় মাস রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলারের ওপরে ছিল। ডিসেম্বর মাসে আসে ৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার, জানুয়ারিতে ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন, ফেব্রুয়ারিতে ৩ দশমিক ০১ বিলিয়ন, মার্চে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন, এপ্রিলে ৩ দশমিক ১২ বিলিয়ন এবং মে মাসে ৩ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। তবে অর্থবছরের শেষ মাস জুনে তা কমে ২ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসায় টানা ছয় মাস পর মাসিক রেমিট্যান্স আবারও ৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমেছে।

তবে মাসভিত্তিক কিছুটা কমলেও পুরো অর্থবছরের চিত্র ছিল ইতিবাচক। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে মোট ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। এটি আগের অর্থবছরের ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি। অর্থনীতিবিদদের মতে, ঈদ-পরবর্তী মৌসুমি প্রভাব এবং বিভিন্ন গন্তব্য দেশে কর্মসংস্থানের স্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণে জুন মাসে রেমিট্যান্স কিছুটা কমেছে। তবে সামনের মাসগুলোতে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ আবারও বাড়বে বলে তারা আশাবাদী।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মোবাইল নয়, কোরআনেই হোক শৈশবের শুরু

রেমিট্যান্সে বড় ধাক্কা: আট মাসে সর্বনিম্ন, জুনে কমেছে ৬১ কোটি ৯০ লাখ ডলার

আপডেট সময় : ০৭:২৩:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

সদ্য সমাপ্ত জুন মাসে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। এ মাসে প্রবাসী আয় নেমে এসেছে ২ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলারে, যা গত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগের মাস মে মাসের তুলনায় রেমিট্যান্স কমেছে ৬১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। একই সঙ্গে এটি ২০২৫ সালের জুনের তুলনায়ও ২ কোটি ৩০ লাখ ডলার কম। এর মধ্য দিয়ে ডিসেম্বর থেকে টানা ছয় মাস ধরে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রবাসী আয় আসার ধারার অবসান ঘটেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুনে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮০ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এর আগের মাস মে মাসে এ পরিমাণ ছিল ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। আর ২০২৫ সালের জুনে দেশে এসেছিল ২৮২ কোটি ৩০ লাখ ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত টানা ছয় মাস রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলারের ওপরে ছিল। ডিসেম্বর মাসে আসে ৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার, জানুয়ারিতে ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন, ফেব্রুয়ারিতে ৩ দশমিক ০১ বিলিয়ন, মার্চে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন, এপ্রিলে ৩ দশমিক ১২ বিলিয়ন এবং মে মাসে ৩ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। তবে অর্থবছরের শেষ মাস জুনে তা কমে ২ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসায় টানা ছয় মাস পর মাসিক রেমিট্যান্স আবারও ৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমেছে।

তবে মাসভিত্তিক কিছুটা কমলেও পুরো অর্থবছরের চিত্র ছিল ইতিবাচক। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে মোট ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। এটি আগের অর্থবছরের ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি। অর্থনীতিবিদদের মতে, ঈদ-পরবর্তী মৌসুমি প্রভাব এবং বিভিন্ন গন্তব্য দেশে কর্মসংস্থানের স্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণে জুন মাসে রেমিট্যান্স কিছুটা কমেছে। তবে সামনের মাসগুলোতে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ আবারও বাড়বে বলে তারা আশাবাদী।