ঢাকা ১১:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

পারিবারিক ও রাজনৈতিক বিরোধে শ্রমিকদল নেতা রিপন কাজী খুন, বাবা-চাচাতো ভাই অভিযুক্ত

বরগুনার আমতলী উপজেলায় পারিবারিক ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে শ্রমিকদল নেতা রিপন কাজী (৩৫) খুন হয়েছেন। এ হত্যাকাণ্ডে তার বাবা মিজানুর ওরফে ভুট্টো কাজী এবং চাচাতো ভাইদের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। পটুয়াখালীর গগণ খা এলাকায় মঙ্গলবার রাতে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।

নিহত রিপন কাজী আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি ছিলেন এবং তার বাড়ি একই ইউনিয়নের কালীবাড়ী গ্রামে। পরিবারের অভিযোগ, রিপন দীর্ঘদিন ধরে তার বাবার একাধিক বিয়ের প্রতিবাদ করে আসছিলেন, যা বাবা-ছেলের মধ্যে তীব্র বিরোধের জন্ম দেয়। একইসঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক আধিপত্য নিয়েও রিপনের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই, গুলিশাখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রিফাত কাজীর বিরোধ ছিল। এসব বিরোধের জের ধরেই রিপনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন নিহতের ছোট ভাই সাব্বির কাজী।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের চাচাতো ভাই রাজিব কাজি জানান, মঙ্গলবার রাতে তারা মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে গগণখা এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন তাদের গতিরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিপনের ওপর হামলা চালায়। হামলায় রিপন গুরুতর আহত হন এবং পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ছোট ভাই সাব্বির কাজী অভিযোগ করেছেন, তার বাবা মিজানুর কাজী, চাচাতো ভাই রিফাত কাজী, সজিব কাজী এবং তাদের সহযোগীরা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে রয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। নিহতের মা আমেনা বেগমও হত্যাকারীদের কঠোর বিচার চেয়েছেন।

ঘটনার পর স্থানীয়রা মোস্তফা কাজী ও ফিরোজ কাজী নামে দুজনকে আটক করে আমতলী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে তাদের পটুয়াখালী সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন জানিয়েছেন, যেহেতু ঘটনাস্থল পটুয়াখালী সদর থানার আওতাধীন, সেহেতু আইনগত ব্যবস্থা সেখান থেকেই নেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উপাচার্যের আশ্বাসে আস্থা নেই, আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বেরোবি কর্মকর্তারা

পারিবারিক ও রাজনৈতিক বিরোধে শ্রমিকদল নেতা রিপন কাজী খুন, বাবা-চাচাতো ভাই অভিযুক্ত

আপডেট সময় : ০৯:৪৩:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

বরগুনার আমতলী উপজেলায় পারিবারিক ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে শ্রমিকদল নেতা রিপন কাজী (৩৫) খুন হয়েছেন। এ হত্যাকাণ্ডে তার বাবা মিজানুর ওরফে ভুট্টো কাজী এবং চাচাতো ভাইদের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। পটুয়াখালীর গগণ খা এলাকায় মঙ্গলবার রাতে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।

নিহত রিপন কাজী আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি ছিলেন এবং তার বাড়ি একই ইউনিয়নের কালীবাড়ী গ্রামে। পরিবারের অভিযোগ, রিপন দীর্ঘদিন ধরে তার বাবার একাধিক বিয়ের প্রতিবাদ করে আসছিলেন, যা বাবা-ছেলের মধ্যে তীব্র বিরোধের জন্ম দেয়। একইসঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক আধিপত্য নিয়েও রিপনের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই, গুলিশাখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রিফাত কাজীর বিরোধ ছিল। এসব বিরোধের জের ধরেই রিপনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন নিহতের ছোট ভাই সাব্বির কাজী।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের চাচাতো ভাই রাজিব কাজি জানান, মঙ্গলবার রাতে তারা মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে গগণখা এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন তাদের গতিরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিপনের ওপর হামলা চালায়। হামলায় রিপন গুরুতর আহত হন এবং পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ছোট ভাই সাব্বির কাজী অভিযোগ করেছেন, তার বাবা মিজানুর কাজী, চাচাতো ভাই রিফাত কাজী, সজিব কাজী এবং তাদের সহযোগীরা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে রয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। নিহতের মা আমেনা বেগমও হত্যাকারীদের কঠোর বিচার চেয়েছেন।

ঘটনার পর স্থানীয়রা মোস্তফা কাজী ও ফিরোজ কাজী নামে দুজনকে আটক করে আমতলী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে তাদের পটুয়াখালী সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন জানিয়েছেন, যেহেতু ঘটনাস্থল পটুয়াখালী সদর থানার আওতাধীন, সেহেতু আইনগত ব্যবস্থা সেখান থেকেই নেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।