ঢাকা ১২:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

হলি আর্টিজান হামলার ১০ বছর: উগ্রবাদ কি সত্যিই নিয়ন্ত্রণে, নাকি আত্মতুষ্টির আড়ালে নতুন ঝুঁকি?

২০১৬ সালের ১ জুলাই ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে সংঘটিত জঙ্গি হামলা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলাগুলোর একটি। ওই দিন সন্ধ্যার পর সশস্ত্র হামলাকারীরা রেস্তোরাঁটিতে ঢুকে জিম্মি সংকট তৈরি করে। প্রায় ১২ ঘণ্টাব্যাপী ওই ঘটনায় ১৭ জন বিদেশি নাগরিক, দুজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং তিন বাংলাদেশিসহ মোট ২২ জন নিহত হন। পরদিন সকালে সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডো সদস্যদের পরিচালিত ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’-এর মাধ্যমে জিম্মি সংকটের অবসান ঘটে এবং পাঁচ হামলাকারী নিহত হয়। এই হামলা শুধু বাংলাদেশ নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল। একই সঙ্গে এটি দেখিয়ে দেয় যে, উচ্চশিক্ষিত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের তরুণদের মধ্যেও উগ্রবাদী মতাদর্শ বিস্তার লাভ করতে পারে।

হামলার পর সরকার জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে। দেশজুড়ে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসব অভিযানে নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতা তামিম আহমেদ চৌধুরীসহ হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযুক্ত একাধিক ব্যক্তি নিহত হন। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মামলার রায় ঘোষণা করে সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন এবং একজনকে খালাস দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে হামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হলেও উগ্রবাদী মতাদর্শ পুরোপুরি নির্মূল হয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন এখনও আলোচনায় রয়েছে।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন কিছু বাস্তবতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, উগ্রবাদে অভিযুক্ত তিন শতাধিক বন্দির কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং তাদের অনেককে এখনও গ্রেপ্তার করা না যাওয়ায় নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত হিযবুত তাহরীরের প্রকাশ্য কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক উগ্রবাদী সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে কয়েকজনের গ্রেপ্তার এবং বিভিন্ন স্থানে উগ্রবাদ-সংশ্লিষ্ট তৎপরতার অভিযোগ নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে বারবার বলা হয়েছে, দেশে বড় ধরনের জঙ্গি তৎপরতা নেই। তবে বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, “জঙ্গি নেই” বা “উগ্রবাদ নিয়ন্ত্রণে”—এ ধরনের বক্তব্য বাস্তব পরিস্থিতিকে পুরোপুরি প্রতিফলিত করে না। তাদের মতে, বড় ধরনের হামলা না ঘটলেও মতাদর্শগত উগ্রবাদ, অনলাইন র‍্যাডিক্যালাইজেশন এবং ছোট ছোট সাংগঠনিক তৎপরতা এখনও বিদ্যমান। ফলে আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, উগ্রবাদকে রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় না বানিয়ে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন হিসেবে দেখা উচিত। তাঁর মতে, সরকারগুলো অনেক সময় ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য শব্দচয়ন পরিবর্তন করলেও বাস্তবে উগ্রবাদী মতাদর্শের উপস্থিতি অস্বীকার করা যায় না। বরং এ ধরনের প্রবণতা আড়াল করা হলে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পায়। তাই রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং নাগরিক সমাজকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনের মূল্যায়ন কিছুটা ভিন্ন। তাঁর মতে, বৈশ্বিকভাবে বড় আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলোর সক্ষমতা আগের তুলনায় অনেক কমেছে এবং বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় হলি আর্টিজানের মতো বড় হামলার আশঙ্কা আগের চেয়ে কম। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে না দিয়ে সতর্ক নজরদারি অব্যাহত রাখার পক্ষেও তিনি মত দেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অনলাইনভিত্তিক উগ্রবাদ। অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও প্ল্যাটফর্ম এবং বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে ছড়ানো উগ্রবাদী প্রচারণা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে এককভাবে উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ হয়ে হামলার চেষ্টা—যাকে ‘লোন উলফ’ বলা হয়—তা প্রতিরোধে সাইবার নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। র‍্যাবও জানিয়েছে, তাদের সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে এবং উগ্রবাদ-সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নিষিদ্ধ ঘোষিত হিযবুত তাহরীরের সাম্প্রতিক তৎপরতাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংগঠনটি বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে কর্মসূচি পালন করলেও পুলিশ সদর দপ্তর স্পষ্ট করেছে যে, সংগঠনটির সব ধরনের কার্যক্রম আইনত নিষিদ্ধ এবং এর সভা, সমাবেশ, মিছিল বা প্রচারণা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় দণ্ডনীয় অপরাধ।

ইসলামি চিন্তাবিদ শায়খ আহমাদুল্লাহও উগ্রবাদ প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইসলামে ‘জিহাদ’ একটি পবিত্র বিধান, কিন্তু এটিকে সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদের সমার্থক হিসেবে উপস্থাপন করা ভুল। একই সঙ্গে জিহাদের নামে নিরপরাধ মানুষ হত্যা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কিংবা চরমপন্থী কর্মকাণ্ড ইসলামে বৈধ নয়। তিনি তরুণদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক উগ্রবাদী প্রচারণা থেকে সতর্ক থাকার এবং ধর্মীয় বিষয়ে মূলধারার যোগ্য আলেমদের কাছ থেকে সঠিক শিক্ষা গ্রহণের আহ্বান জানান।

হলি আর্টিজান হামলার এক দশক পর বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত বলে বিভিন্ন পক্ষের দাবি থাকলেও অধিকাংশ নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের অভিমত, উগ্রবাদকে কখনোই অতীতের বিষয় হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। মতাদর্শের বিস্তার, অনলাইন চরমপন্থা, বিচ্ছিন্ন সাংগঠনিক তৎপরতা এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সতর্কতা, কার্যকর গোয়েন্দা নজরদারি, সাইবার পর্যবেক্ষণ এবং সামাজিক সচেতনতা অব্যাহত রাখাই ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশ পিছিয়ে, এগিয়ে ইন্দোনেশিয়া

হলি আর্টিজান হামলার ১০ বছর: উগ্রবাদ কি সত্যিই নিয়ন্ত্রণে, নাকি আত্মতুষ্টির আড়ালে নতুন ঝুঁকি?

আপডেট সময় : ১০:৫০:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

২০১৬ সালের ১ জুলাই ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে সংঘটিত জঙ্গি হামলা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলাগুলোর একটি। ওই দিন সন্ধ্যার পর সশস্ত্র হামলাকারীরা রেস্তোরাঁটিতে ঢুকে জিম্মি সংকট তৈরি করে। প্রায় ১২ ঘণ্টাব্যাপী ওই ঘটনায় ১৭ জন বিদেশি নাগরিক, দুজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং তিন বাংলাদেশিসহ মোট ২২ জন নিহত হন। পরদিন সকালে সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডো সদস্যদের পরিচালিত ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’-এর মাধ্যমে জিম্মি সংকটের অবসান ঘটে এবং পাঁচ হামলাকারী নিহত হয়। এই হামলা শুধু বাংলাদেশ নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল। একই সঙ্গে এটি দেখিয়ে দেয় যে, উচ্চশিক্ষিত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের তরুণদের মধ্যেও উগ্রবাদী মতাদর্শ বিস্তার লাভ করতে পারে।

হামলার পর সরকার জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে। দেশজুড়ে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসব অভিযানে নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতা তামিম আহমেদ চৌধুরীসহ হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযুক্ত একাধিক ব্যক্তি নিহত হন। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মামলার রায় ঘোষণা করে সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন এবং একজনকে খালাস দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে হামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হলেও উগ্রবাদী মতাদর্শ পুরোপুরি নির্মূল হয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন এখনও আলোচনায় রয়েছে।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন কিছু বাস্তবতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, উগ্রবাদে অভিযুক্ত তিন শতাধিক বন্দির কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং তাদের অনেককে এখনও গ্রেপ্তার করা না যাওয়ায় নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত হিযবুত তাহরীরের প্রকাশ্য কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক উগ্রবাদী সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে কয়েকজনের গ্রেপ্তার এবং বিভিন্ন স্থানে উগ্রবাদ-সংশ্লিষ্ট তৎপরতার অভিযোগ নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে বারবার বলা হয়েছে, দেশে বড় ধরনের জঙ্গি তৎপরতা নেই। তবে বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, “জঙ্গি নেই” বা “উগ্রবাদ নিয়ন্ত্রণে”—এ ধরনের বক্তব্য বাস্তব পরিস্থিতিকে পুরোপুরি প্রতিফলিত করে না। তাদের মতে, বড় ধরনের হামলা না ঘটলেও মতাদর্শগত উগ্রবাদ, অনলাইন র‍্যাডিক্যালাইজেশন এবং ছোট ছোট সাংগঠনিক তৎপরতা এখনও বিদ্যমান। ফলে আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, উগ্রবাদকে রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় না বানিয়ে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন হিসেবে দেখা উচিত। তাঁর মতে, সরকারগুলো অনেক সময় ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য শব্দচয়ন পরিবর্তন করলেও বাস্তবে উগ্রবাদী মতাদর্শের উপস্থিতি অস্বীকার করা যায় না। বরং এ ধরনের প্রবণতা আড়াল করা হলে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পায়। তাই রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং নাগরিক সমাজকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনের মূল্যায়ন কিছুটা ভিন্ন। তাঁর মতে, বৈশ্বিকভাবে বড় আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলোর সক্ষমতা আগের তুলনায় অনেক কমেছে এবং বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় হলি আর্টিজানের মতো বড় হামলার আশঙ্কা আগের চেয়ে কম। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে না দিয়ে সতর্ক নজরদারি অব্যাহত রাখার পক্ষেও তিনি মত দেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অনলাইনভিত্তিক উগ্রবাদ। অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও প্ল্যাটফর্ম এবং বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে ছড়ানো উগ্রবাদী প্রচারণা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে এককভাবে উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ হয়ে হামলার চেষ্টা—যাকে ‘লোন উলফ’ বলা হয়—তা প্রতিরোধে সাইবার নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। র‍্যাবও জানিয়েছে, তাদের সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে এবং উগ্রবাদ-সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নিষিদ্ধ ঘোষিত হিযবুত তাহরীরের সাম্প্রতিক তৎপরতাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংগঠনটি বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে কর্মসূচি পালন করলেও পুলিশ সদর দপ্তর স্পষ্ট করেছে যে, সংগঠনটির সব ধরনের কার্যক্রম আইনত নিষিদ্ধ এবং এর সভা, সমাবেশ, মিছিল বা প্রচারণা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় দণ্ডনীয় অপরাধ।

ইসলামি চিন্তাবিদ শায়খ আহমাদুল্লাহও উগ্রবাদ প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইসলামে ‘জিহাদ’ একটি পবিত্র বিধান, কিন্তু এটিকে সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদের সমার্থক হিসেবে উপস্থাপন করা ভুল। একই সঙ্গে জিহাদের নামে নিরপরাধ মানুষ হত্যা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কিংবা চরমপন্থী কর্মকাণ্ড ইসলামে বৈধ নয়। তিনি তরুণদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক উগ্রবাদী প্রচারণা থেকে সতর্ক থাকার এবং ধর্মীয় বিষয়ে মূলধারার যোগ্য আলেমদের কাছ থেকে সঠিক শিক্ষা গ্রহণের আহ্বান জানান।

হলি আর্টিজান হামলার এক দশক পর বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত বলে বিভিন্ন পক্ষের দাবি থাকলেও অধিকাংশ নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের অভিমত, উগ্রবাদকে কখনোই অতীতের বিষয় হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। মতাদর্শের বিস্তার, অনলাইন চরমপন্থা, বিচ্ছিন্ন সাংগঠনিক তৎপরতা এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সতর্কতা, কার্যকর গোয়েন্দা নজরদারি, সাইবার পর্যবেক্ষণ এবং সামাজিক সচেতনতা অব্যাহত রাখাই ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায়।