ঢাকা ০২:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও হুসাইন (রা.)-এর পবিত্র মস্তক সম্পর্কিত মতভেদ

মহররম মাসের দশম তারিখে কারবালার প্রান্তরে নবী পরিবারের ওপর সংঘটিত মর্মান্তিক ঘটনা মুসলিম বিশ্বে আজও শোষণ ও জুলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং গভীর বেদনার প্রতীক হিসেবে স্মরণীয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বহু কবি সাহিত্য রচনা করেছেন, বহু হৃদয় বিদীর্ণ হয়েছে এবং অশ্রুসিক্ত হয়েছে।

৬১ হিজরির কারবালার ভয়াবহ ঘটনার পর হযরত হুসাইন (রা.)-এর পবিত্র মস্তক মোবারকের পরিণতি সম্পর্কে ইতিহাসে বিভিন্ন মত প্রচলিত আছে। তাঁর দেহ কারবালাতেই সমাহিত করা হয়, তবে খণ্ডিত মস্তক মোবারক দামেস্কে ইয়াজিদের দরবারে আনা হয়েছিল বলে অধিকাংশ ঐতিহাসিক সূত্র উল্লেখ করে। দামেস্ক থেকে এরপর তাঁর মস্তক কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, এ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ দেখা যায়।

ঐতিহাসিকদের একটি অংশের মতে, দামেস্ক থেকে হুসাইন (রা.)-এর মাথা মোবারক পুনরায় কারবালায় এনে দাফন করা হয়। অন্য একটি মতানুসারে, এটি সিরিয়ার আলেপ্পোতে সমাহিত করা হয়েছিল, যেখানে আজও একটি মাজার বিদ্যমান। কেউ কেউ আবার ফিলিস্তিনের আসকালানে দাফনের কথা উল্লেখ করেছেন। একটি প্রসিদ্ধ মত হলো, আসকালান থেকে ৫৪৯ হিজরি (১১৫৩ খ্রিষ্টাব্দ) সালে ক্রুসেড যুদ্ধের সময় এটি কায়রোতে স্থানান্তর করে দাফন করা হয়।

হুসাইন (রা.)-এর মস্তক মোবারক সম্পর্কিত এই স্থানগুলোতে মাজারের উপস্থিতি স্থানীয় ধর্মীয় কর্তৃত্ব এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের একটি প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হয়। ইরাক, আলেপ্পো এবং আসকালানের মাজারগুলো কারবালার ঘটনার সমসাময়িক সময়ের সাথে সম্পর্কিত। তবে কারবালার ঘটনার প্রায় ৫০০ বছর পর, অর্থাৎ ৫৪৮ হিজরি (১১৫৩ খ্রিষ্টাব্দ) সালে ফাতিমি সাম্রাজ্যের শেষ পর্যায়ে এবং চলমান ক্রুসেড যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়।

যখন ফাতিমি সাম্রাজ্যের একের পর এক অঞ্চল শত্রুদের দখলে চলে যাচ্ছিল, তখন ফিলিস্তিনের আসকালান ফাতিমিদের নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং এখানেই হুসাইন (রা.)-এর শির মোবারক দাফন করা ছিল বলে ঐতিহাসিকরা উল্লেখ করেছেন। ফাতিমিরা আহলে বাইয়াতের ঐতিহ্যকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে মিসরসহ পার্শ্ববর্তী অনেক সুন্নি অধ্যুষিত অঞ্চল শাসন করেছিল। রাষ্ট্রীয় সংকটময় পরিস্থিতিতে ফাতিমিরা আশঙ্কা করেছিল যে, হুসাইন (রা.)-এর মাশহাদ ক্রুসেডারদের হাতে চলে গেলে তা তাদের জন্য ভয়াবহ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংকট তৈরি করবে। এই অবস্থায় একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল…

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহীতে ছাদ থেকে পড়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর করুণ মৃত্যু

কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও হুসাইন (রা.)-এর পবিত্র মস্তক সম্পর্কিত মতভেদ

আপডেট সময় : ০১:১৪:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

মহররম মাসের দশম তারিখে কারবালার প্রান্তরে নবী পরিবারের ওপর সংঘটিত মর্মান্তিক ঘটনা মুসলিম বিশ্বে আজও শোষণ ও জুলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং গভীর বেদনার প্রতীক হিসেবে স্মরণীয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বহু কবি সাহিত্য রচনা করেছেন, বহু হৃদয় বিদীর্ণ হয়েছে এবং অশ্রুসিক্ত হয়েছে।

৬১ হিজরির কারবালার ভয়াবহ ঘটনার পর হযরত হুসাইন (রা.)-এর পবিত্র মস্তক মোবারকের পরিণতি সম্পর্কে ইতিহাসে বিভিন্ন মত প্রচলিত আছে। তাঁর দেহ কারবালাতেই সমাহিত করা হয়, তবে খণ্ডিত মস্তক মোবারক দামেস্কে ইয়াজিদের দরবারে আনা হয়েছিল বলে অধিকাংশ ঐতিহাসিক সূত্র উল্লেখ করে। দামেস্ক থেকে এরপর তাঁর মস্তক কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, এ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ দেখা যায়।

ঐতিহাসিকদের একটি অংশের মতে, দামেস্ক থেকে হুসাইন (রা.)-এর মাথা মোবারক পুনরায় কারবালায় এনে দাফন করা হয়। অন্য একটি মতানুসারে, এটি সিরিয়ার আলেপ্পোতে সমাহিত করা হয়েছিল, যেখানে আজও একটি মাজার বিদ্যমান। কেউ কেউ আবার ফিলিস্তিনের আসকালানে দাফনের কথা উল্লেখ করেছেন। একটি প্রসিদ্ধ মত হলো, আসকালান থেকে ৫৪৯ হিজরি (১১৫৩ খ্রিষ্টাব্দ) সালে ক্রুসেড যুদ্ধের সময় এটি কায়রোতে স্থানান্তর করে দাফন করা হয়।

হুসাইন (রা.)-এর মস্তক মোবারক সম্পর্কিত এই স্থানগুলোতে মাজারের উপস্থিতি স্থানীয় ধর্মীয় কর্তৃত্ব এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের একটি প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হয়। ইরাক, আলেপ্পো এবং আসকালানের মাজারগুলো কারবালার ঘটনার সমসাময়িক সময়ের সাথে সম্পর্কিত। তবে কারবালার ঘটনার প্রায় ৫০০ বছর পর, অর্থাৎ ৫৪৮ হিজরি (১১৫৩ খ্রিষ্টাব্দ) সালে ফাতিমি সাম্রাজ্যের শেষ পর্যায়ে এবং চলমান ক্রুসেড যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়।

যখন ফাতিমি সাম্রাজ্যের একের পর এক অঞ্চল শত্রুদের দখলে চলে যাচ্ছিল, তখন ফিলিস্তিনের আসকালান ফাতিমিদের নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং এখানেই হুসাইন (রা.)-এর শির মোবারক দাফন করা ছিল বলে ঐতিহাসিকরা উল্লেখ করেছেন। ফাতিমিরা আহলে বাইয়াতের ঐতিহ্যকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে মিসরসহ পার্শ্ববর্তী অনেক সুন্নি অধ্যুষিত অঞ্চল শাসন করেছিল। রাষ্ট্রীয় সংকটময় পরিস্থিতিতে ফাতিমিরা আশঙ্কা করেছিল যে, হুসাইন (রা.)-এর মাশহাদ ক্রুসেডারদের হাতে চলে গেলে তা তাদের জন্য ভয়াবহ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংকট তৈরি করবে। এই অবস্থায় একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল…