ঢাকা ১১:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের নিরাপত্তা পরিষদের

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ। পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও এর নির্দেশদাতাদের উপযুক্ত সময়ে শাস্তির মুখোমুখি করা হবে। খামেনির জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতির মধ্যেই এই কঠোর হুঁশিয়ারি এলো।

বুধবার এক বিবৃতিতে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ বাকের জোলকাদর বলেন, ‘শহীদ নেতার বিদায়ের মুহূর্তে তার মুষ্টিবদ্ধ হাত ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা নীতির এক স্থায়ী প্রতীক হয়ে থাকবে।’ ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সাবেক এই কমান্ডার গত ২৪ মার্চ পরিষদের সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় পরিষদের তৎকালীন সচিব আলী লারিজানি নিহত হওয়ার পর তিনি এই পদে আসেন।

জোলকাদর আরও বলেন, ‘মহান খামেনি এবং ইরানের নির্যাতিত শহীদদের পবিত্র রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়টি এখনো খোলা রয়েছে। যারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং যারা এর নির্দেশ দিয়েছে, তারা খুব শিগগিরই উপযুক্ত সময়ে সৎ ও ন্যায়পরায়ণ শক্তির মাধ্যমে ন্যায্য শাস্তির মুখোমুখি হবে।’

এদিকে, পৃথক এক বিবৃতিতে ইরানের গার্ডিয়ান কাউন্সিল এই ‘জঘন্য অপরাধের’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। কাউন্সিল বলেছে, ইরানি জাতির মনোবল ভেঙে দেওয়ার উদ্দেশ্যে শত্রুরা এই অপরাধ সংঘটিত করেছে। তবে তারা বুঝতে পারেনি যে, নেতার শাহাদাতই প্রতিরোধের নতুন প্রেরণা এবং বিজয়ের পথপ্রদর্শক হয়ে উঠবে।

গার্ডিয়ান কাউন্সিল খামেনির জানাজাকে ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার দৃঢ়তা ও স্থিতিশীলতার ইতিহাসে একটি ‘ঐতিহাসিক মোড়’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের ভাষ্য, মহান নেতার পবিত্র রক্ত চূড়ান্ত বিজয় পর্যন্ত সত্যের পথ আলোকিত করবে এবং শত্রুপক্ষকে আরও হতাশ করবে। কাউন্সিল ইরানের জনগণের প্রতি বিপুল সংখ্যায় জানাজার শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, এতে জাতি ও ইসলামি বিপ্লবের মধ্যকার অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক আবারও বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা হবে। এটি শুধু একটি শোকানুষ্ঠান নয়, বরং এমন একটি জাতির বিশ্বাস ও আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ, যারা দীর্ঘদিন ধরে নেতার দিকনির্দেশনায় মর্যাদা ও প্রতিরোধের পথ অনুসরণ করে এসেছে। এই মহাসমাবেশ ইরানের শক্তির প্রতীক এবং বিপ্লবের আদর্শের প্রতি আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত করার একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উপাচার্যের আশ্বাসে আস্থা নেই, আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বেরোবি কর্মকর্তারা

খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের নিরাপত্তা পরিষদের

আপডেট সময় : ০৯:৪৫:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ। পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও এর নির্দেশদাতাদের উপযুক্ত সময়ে শাস্তির মুখোমুখি করা হবে। খামেনির জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতির মধ্যেই এই কঠোর হুঁশিয়ারি এলো।

বুধবার এক বিবৃতিতে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ বাকের জোলকাদর বলেন, ‘শহীদ নেতার বিদায়ের মুহূর্তে তার মুষ্টিবদ্ধ হাত ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা নীতির এক স্থায়ী প্রতীক হয়ে থাকবে।’ ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সাবেক এই কমান্ডার গত ২৪ মার্চ পরিষদের সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় পরিষদের তৎকালীন সচিব আলী লারিজানি নিহত হওয়ার পর তিনি এই পদে আসেন।

জোলকাদর আরও বলেন, ‘মহান খামেনি এবং ইরানের নির্যাতিত শহীদদের পবিত্র রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়টি এখনো খোলা রয়েছে। যারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং যারা এর নির্দেশ দিয়েছে, তারা খুব শিগগিরই উপযুক্ত সময়ে সৎ ও ন্যায়পরায়ণ শক্তির মাধ্যমে ন্যায্য শাস্তির মুখোমুখি হবে।’

এদিকে, পৃথক এক বিবৃতিতে ইরানের গার্ডিয়ান কাউন্সিল এই ‘জঘন্য অপরাধের’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। কাউন্সিল বলেছে, ইরানি জাতির মনোবল ভেঙে দেওয়ার উদ্দেশ্যে শত্রুরা এই অপরাধ সংঘটিত করেছে। তবে তারা বুঝতে পারেনি যে, নেতার শাহাদাতই প্রতিরোধের নতুন প্রেরণা এবং বিজয়ের পথপ্রদর্শক হয়ে উঠবে।

গার্ডিয়ান কাউন্সিল খামেনির জানাজাকে ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার দৃঢ়তা ও স্থিতিশীলতার ইতিহাসে একটি ‘ঐতিহাসিক মোড়’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের ভাষ্য, মহান নেতার পবিত্র রক্ত চূড়ান্ত বিজয় পর্যন্ত সত্যের পথ আলোকিত করবে এবং শত্রুপক্ষকে আরও হতাশ করবে। কাউন্সিল ইরানের জনগণের প্রতি বিপুল সংখ্যায় জানাজার শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, এতে জাতি ও ইসলামি বিপ্লবের মধ্যকার অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক আবারও বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা হবে। এটি শুধু একটি শোকানুষ্ঠান নয়, বরং এমন একটি জাতির বিশ্বাস ও আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ, যারা দীর্ঘদিন ধরে নেতার দিকনির্দেশনায় মর্যাদা ও প্রতিরোধের পথ অনুসরণ করে এসেছে। এই মহাসমাবেশ ইরানের শক্তির প্রতীক এবং বিপ্লবের আদর্শের প্রতি আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত করার একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হবে।