রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের মুসলিমপাড়া গ্রামে একটি ফোরকানিয়া মাদ্রাসার জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের ঘটনায় পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী দাবি করা একটি পরিবার। মঙ্গলবার বিকেলে আয়োজিত এই সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে আব্দুল হালিম।
আব্দুল হালিম অভিযোগ করেন, তার বাবা ১৯৮৭ সালে বাড়ির পাশে একটি ফোরকানিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ওয়াকফ দলিলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির নামে ১ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। কিন্তু চার বছর আগে তার বাবার মৃত্যুর পর চাচা আব্দুল খালেক এবং সৎভাইসহ কয়েকজন ওই ১ শতাংশের বাইরে আরও ৭ শতাংশ জমি মাদ্রাসার নামে জোরপূর্বক দখলে নিয়েছেন।
তিনি জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালতের নির্দেশে গোপালপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রতন চন্দ্র তদন্ত করেন। তবে আব্দুল হালিমের অভিযোগ, তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রকৃত ঘটনা গোপন রেখে একটি মনগড়া প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।
তার দাবি, বিতর্কিত অতিরিক্ত ৭ শতাংশসহ মোট ৮ শতাংশ জমির দাবির পক্ষে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির কাছে কোনো বৈধ দলিল বা কাগজপত্র নেই। এই ত্রুটিপূর্ণ তদন্ত প্রতিবেদনের কারণে তিনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল হালিম আরও বলেন, বাবার প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা নিয়ে তার কোনো আপত্তি নেই এবং দলিল অনুযায়ী দান করা ১ শতাংশ জমি মাদ্রাসারই থাকবে। তবে অতিরিক্ত ৭ শতাংশ জমি পরিকল্পিতভাবে দখল করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও দাবি করেন, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ৮ শতাংশ জমির দাবি করলেও এ-সংক্রান্ত কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
আব্দুল হালিমের অভিযোগ, মাদ্রাসাটি জনস্বার্থের পরিবর্তে ব্যক্তিস্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে এবং একটি পক্ষ একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে। তিনি একটি নিরপেক্ষ পুনঃতদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রংপুরের জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























