ঢাকা ১১:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

মুদ্রানীতিতে বাজেটের সুফল ম্লান হওয়ার আশঙ্কা: ডিসিসিআই

জাতীয় বাজেটে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন কর ও শুল্ক-সুবিধা দেওয়া হলেও কঠোর সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কারণে এর প্রত্যাশিত সুফল মিলবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সংগঠনটির মতে, রাজস্বনীতি ও মুদ্রানীতির মধ্যে বিদ্যমান নীতিগত অসামঞ্জস্য দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও মন্থর করে দিতে পারে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী ছয় মাসের জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ডিসিসিআই এই উদ্বেগ জানায়। তারা বলেছে, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ইতোমধ্যে মাত্র ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতেও নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক।

ডিসিসিআই আরও উল্লেখ করেছে, গত চার বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হলেও মূল্যস্ফীতি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নামানো যায়নি। বরং চলতি বছরের মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। উচ্চ সুদহার বহাল থাকায় ঋণের ব্যয় কমার সুযোগ সীমিত হয়েছে, ফলে নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণ নিরুৎসাহিত হচ্ছে।

সংগঠনটির ভাষ্য, সদ্য অনুমোদিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটে উৎপাদন, শিল্পায়ন ও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে যেসব রাজস্ব প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে মুদ্রানীতির সামঞ্জস্য নেই। পর্যাপ্ত ও সাশ্রয়ী অর্থায়নের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে বাজেটে দেওয়া কর ও শুল্ক-সুবিধা প্রত্যাশিত ফল দেবে না।

ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ বেড়ে যাওয়াকেও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে ডিসিসিআই। তাদের মতে, সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি প্রায় ২৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক বেশি। এতে ব্যাংকগুলোর সীমিত তারল্যের বড় অংশ সরকারি খাতে চলে যাচ্ছে এবং বেসরকারি উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণপ্রাপ্তি আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জন বাস্তবসম্মত হবে না বলেও মনে করছে সংগঠনটি।

তবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিলকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার। একই সঙ্গে সংস্থাটি অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনতে ব্যাংকগুলোর তারল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালন ব্যয় কমানোর ওপর জোর দিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানকে হারিয়ে স্বস্তিতে আনচেলত্তি: ‘ধৈর্য হারাইনি, এটাই পরিপূর্ণ পারফরম্যান্স’

মুদ্রানীতিতে বাজেটের সুফল ম্লান হওয়ার আশঙ্কা: ডিসিসিআই

আপডেট সময় : ০৯:৪৭:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

জাতীয় বাজেটে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন কর ও শুল্ক-সুবিধা দেওয়া হলেও কঠোর সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কারণে এর প্রত্যাশিত সুফল মিলবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সংগঠনটির মতে, রাজস্বনীতি ও মুদ্রানীতির মধ্যে বিদ্যমান নীতিগত অসামঞ্জস্য দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও মন্থর করে দিতে পারে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী ছয় মাসের জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ডিসিসিআই এই উদ্বেগ জানায়। তারা বলেছে, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ইতোমধ্যে মাত্র ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতেও নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক।

ডিসিসিআই আরও উল্লেখ করেছে, গত চার বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হলেও মূল্যস্ফীতি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নামানো যায়নি। বরং চলতি বছরের মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। উচ্চ সুদহার বহাল থাকায় ঋণের ব্যয় কমার সুযোগ সীমিত হয়েছে, ফলে নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণ নিরুৎসাহিত হচ্ছে।

সংগঠনটির ভাষ্য, সদ্য অনুমোদিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটে উৎপাদন, শিল্পায়ন ও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে যেসব রাজস্ব প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে মুদ্রানীতির সামঞ্জস্য নেই। পর্যাপ্ত ও সাশ্রয়ী অর্থায়নের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে বাজেটে দেওয়া কর ও শুল্ক-সুবিধা প্রত্যাশিত ফল দেবে না।

ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ বেড়ে যাওয়াকেও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে ডিসিসিআই। তাদের মতে, সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি প্রায় ২৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক বেশি। এতে ব্যাংকগুলোর সীমিত তারল্যের বড় অংশ সরকারি খাতে চলে যাচ্ছে এবং বেসরকারি উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণপ্রাপ্তি আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জন বাস্তবসম্মত হবে না বলেও মনে করছে সংগঠনটি।

তবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিলকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার। একই সঙ্গে সংস্থাটি অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনতে ব্যাংকগুলোর তারল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালন ব্যয় কমানোর ওপর জোর দিয়েছে।