বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জাপানের বিপক্ষে ২-১ গোলের এক শ্বাসরুদ্ধকর জয়ের পর কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ইতালিয়ান এই কোচ অবশ্য কেবল শেষ মুহূর্তের জয়েই ভেসে যাননি, বরং কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরে সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফল হিসেবেই এই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এসেছে বলে মনে করেন তিনি।
হিউস্টনে ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি জানান, প্রথমার্ধে তার দল খারাপ খেলেনি। তবে জাপানের জমাট রক্ষণব্যূহ ভাঙতে দ্বিতীয়ার্ধে কৌশলে পরিবর্তন আনা জরুরি ছিল। তার ভাষ্যমতে, ‘আমরা ধৈর্য হারাইনি। প্রথমার্ধেও আমরা ভালো খেলছিলাম। দ্বিতীয়ার্ধে বক্সে আরও বেশি ক্রস তুলেছি এবং আরও কার্যকরভাবে আক্রমণ করেছি।’
ব্রাজিল কোচের বিশ্বাস, খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘ফুটবলে ভুল হবেই, কেউই নিখুঁত নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া। দ্বিতীয়ার্ধে দল ঠিক সেটাই করেছে। আমি কখনো বিশ্বাস করিনি যে, এই দল গোল করতে পারবে না।’ ম্যাচের শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও তিনি আতঙ্কিত হননি। আনচেলত্তি ব্যাখ্যা করেন, ‘কষ্ট পাওয়া স্বাভাবিক, আধুনিক ফুটবলে এটাই বাস্তবতা। সমর্থকরা হয়তো আমার চেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছেন; কিন্তু আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। আমরা গোল করব—এই বিশ্বাস কখনো হারাইনি। কষ্ট যেমন স্বাভাবিক, তেমনি জয় পাওয়ার স্বস্তিও স্বাভাবিক।’
আনচেলত্তি প্রতিপক্ষ জাপানেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন। তার মতে, এশিয়ার এই দলটি ছিল অত্যন্ত সুসংগঠিত, শারীরিকভাবে শক্তিশালী এবং রক্ষণে ছিল শৃঙ্খলবদ্ধ। তিনি বলেন, ‘জাপানকে হারানো সহজ ছিল না। তারা খুব ভালোভাবে রক্ষণ সামলেছে এবং আমাদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।’
নিজের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সেও সন্তুষ্ট ব্রাজিল কোচ। তিনি বলেন, ‘আমাদের দলে অনেক বিকল্প আছে; মাঠে যেমন, বেঞ্চেও তেমন। সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় হলো, সবাই ব্যক্তিগতভাবে ভালো অবস্থায় আছে এবং দল হিসেবেও একসঙ্গে কাজ করছে।’ তার মতে, এই জয় চলতি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সবচেয়ে পরিপূর্ণ পারফরম্যান্স। ইতালিয়ান এই কোচ বেশ খুশি হয়ে বলেন, ‘মনে হয় এ বিশ্বকাপে এটাই ছিল আমাদের সবচেয়ে সম্পূর্ণ ম্যাচ।’
ম্যাচে তারকা খেলোয়াড় নেইমারকে কেন নামানো হয়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে আনচেলত্তি জানান, অতিরিক্ত সময়ের জন্যই তাকে তুলে রাখা হয়েছিল। ব্রাজিল বসের ভাষ্য, ‘আমি নেইমারকে অতিরিক্ত সময়ের জন্য রেখে দিয়েছিলাম। ওর সঙ্গে এ নিয়ে কথাও হয়েছিল। যদি আমরা সমতায় ফিরতে না পারতাম, তাহলে ৬০ বা ৬৫ মিনিটেই তাকে নামাতাম। কিন্তু সমতা ফেরানোর পর আমি দলের খেলা বদলাতে চাইনি।’
রিপোর্টারের নাম 












