বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ের ১০২তম মিনিটে জার্মানির করা গোলটি ভিএআরের হস্তক্ষেপে বাতিল হয়ে গেছে, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এই সিদ্ধান্তের ফলে জার্মানি শেষ পর্যন্ত বিদায় নিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
ঘটনার সূত্রপাত কর্নার কিক থেকে। নাথানিয়েল ব্রাউনের কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করেন জার্মান ডিফেন্ডার জনাথান তাহ। তবে গোলের আগে জার্মান ডিফেন্ডার ভালদেমার অ্যান্টন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলের চলার পথে বাধা দিয়েছেন এবং তাকে ফাউল করেছেন— এমন অভিযোগে ভিএআরের পরামর্শে মনিটরে রিপ্লে দেখেন রেফারি। এরপর তিনি গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত দেন।
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সাবেক খেলোয়াড় ও কোচদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারার এটিকে ‘খুবই সফট ফাউল’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং তার মতে, এমন সংস্পর্শে গোল বাতিল করা উচিত নয়। সাবেক ডেনমার্ক কিংবদন্তি পিটার স্মাইকেলও সিদ্ধান্তটিকে ‘বেদনাদায়ক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং মনে করেন, গোলরক্ষক পরিস্থিতিকে বাড়িয়ে দেখিয়েছেন।
জার্মান কিংবদন্তি কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, যদি এটি ফাউল হয়, তাহলে সেট-পিস থেকে হওয়া অসংখ্য গোলও বাতিল করতে হতো। ম্যাজেন্টা টিভির রেফারিং বিশ্লেষক প্যাট্রিক ইট্রিখ বলেন, এটি ‘ক্লিয়ার অ্যান্ড অবভিয়াস এরর’ ছিল না, তাই ভিএআরের হস্তক্ষেপই হওয়া উচিত ছিল না। জেডডিএফের রেফারি বিশেষজ্ঞ থরস্টেন কিনহোফার সরাসরি বলেন, ‘আমি বাকরুদ্ধ’।
অন্যদিকে নিয়মের পক্ষে থাকা বিশ্লেষকদের যুক্তি হলো, গোলরক্ষকের গতিপথ ইচ্ছাকৃতভাবে বাধাগ্রস্ত হলে সেটি ফাউল হিসেবে গণ্য করা যায়। তাই রেফারি আইএফএবির আইন অনুসারেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে অনেকের মতে, এমন সংস্পর্শ পুরো ম্যাচজুড়েই একাধিকবার হয়েছে, কিন্তু সেগুলোতে ফাউল ধরা হয়নি। তাই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
জার্মান কোচ জুলিয়ান নাগেলসমান ম্যাচ শেষে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এটি বৈধ গোল ছিল। এটি বাতিল করা সম্পূর্ণ হাস্যকর।’ তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে ম্যাচকে টাইব্রেকারে নিয়ে যাওয়াটাও তাদের ব্যর্থতা। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ালে জার্মানি হেরে যায়।
রিপোর্টারের নাম 












