ঢাকা ১১:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

হাসানুল হক ইনুর রায় নিয়ে ক্ষোভ: ‘শহীদদের প্রতি অবমাননা’, দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের

১৯৭৫ সালের ‘জুলাই বিপ্লব’ চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যা মামলায় সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শহিদ পরিবারের সদস্য, জুলাইযোদ্ধা, রাজনৈতিক দলের নেতাসহ সাধারণ মানুষ। তারা এই রায়কে ‘শহীদদের প্রতি অবমাননা’ হিসেবে দেখছেন এবং আরও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকেলে জুলাই বিপ্লবে কুষ্টিয়ায় শহীদ বাবলু ফরাজির ছেলে সুজন মাহমুদ ফরাজি বলেন, শহিদ পরিবারের সদস্য হিসেবে এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমার বাবাকে যে পুলিশ সদস্য গুলি করেছিল এবং ঘটনাস্থলে যেসব আওয়ামী গুন্ডা উপস্থিত ছিল, তাদের নাম মামলায় নেই। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন, যেখানে তাদের সাক্ষ্য সত্ত্বেও অনেকের কিছুই হয়নি।

কুষ্টিয়ার জুলাইযোদ্ধা শোয়েব হাসান রায়ান বলেন, হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে হত্যা মামলা থেকে তাকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। কিছুদিন জেল খেটে তিনি বেরিয়ে যাবেন, যা জুলাই শহীদদের জন্য অবমাননাকর। একজন জুলাই যোদ্ধা হিসেবে আমি ইনুর ফাঁসি দাবি করছি।

জাতীয় নাগরিক পার্টির কুষ্টিয়া জেলার প্রধান সমন্বয়কারী জান্নাতুল ফেরদাউস টনি বলেন, ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডে আমরা খুশি নই। আমরা আশা করেছিলাম, আদালত তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কিংবা মৃত্যুদণ্ডের রায় দেবে। কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ আশা প্রকাশ করেন, সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে এবং সেই আপিলে তার সর্বোচ্চ সাজা হবে।

এদিকে, জেলা জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক অসিত সিংহ রায় এই রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন। গণমাধ্যমে জাসদের পাঠানো এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, সরকারপক্ষ কুষ্টিয়ায় ৬ জনের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে হাসানুল হক ইনুর সামান্যতম সংশ্লিষ্টতাও প্রমাণ করতে পারেনি। জাসদ ইনুর বিরুদ্ধে দেওয়া এই রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক রায় প্রত্যাখ্যান করছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ৫ আগস্ট ‘জুলাই বিপ্লব’ চলাকালে কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি ছোড়ে পুলিশ। তাদের গুলিতে নিহত হন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। একই সঙ্গে আহত হন বহু সাধারণ মানুষ। এই ৬ জনকে হত্যার দায়ে সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করে আদালত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানকে হারিয়ে স্বস্তিতে আনচেলত্তি: ‘ধৈর্য হারাইনি, এটাই পরিপূর্ণ পারফরম্যান্স’

হাসানুল হক ইনুর রায় নিয়ে ক্ষোভ: ‘শহীদদের প্রতি অবমাননা’, দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের

আপডেট সময় : ০৯:৪২:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

১৯৭৫ সালের ‘জুলাই বিপ্লব’ চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যা মামলায় সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শহিদ পরিবারের সদস্য, জুলাইযোদ্ধা, রাজনৈতিক দলের নেতাসহ সাধারণ মানুষ। তারা এই রায়কে ‘শহীদদের প্রতি অবমাননা’ হিসেবে দেখছেন এবং আরও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকেলে জুলাই বিপ্লবে কুষ্টিয়ায় শহীদ বাবলু ফরাজির ছেলে সুজন মাহমুদ ফরাজি বলেন, শহিদ পরিবারের সদস্য হিসেবে এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমার বাবাকে যে পুলিশ সদস্য গুলি করেছিল এবং ঘটনাস্থলে যেসব আওয়ামী গুন্ডা উপস্থিত ছিল, তাদের নাম মামলায় নেই। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন, যেখানে তাদের সাক্ষ্য সত্ত্বেও অনেকের কিছুই হয়নি।

কুষ্টিয়ার জুলাইযোদ্ধা শোয়েব হাসান রায়ান বলেন, হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে হত্যা মামলা থেকে তাকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। কিছুদিন জেল খেটে তিনি বেরিয়ে যাবেন, যা জুলাই শহীদদের জন্য অবমাননাকর। একজন জুলাই যোদ্ধা হিসেবে আমি ইনুর ফাঁসি দাবি করছি।

জাতীয় নাগরিক পার্টির কুষ্টিয়া জেলার প্রধান সমন্বয়কারী জান্নাতুল ফেরদাউস টনি বলেন, ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডে আমরা খুশি নই। আমরা আশা করেছিলাম, আদালত তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কিংবা মৃত্যুদণ্ডের রায় দেবে। কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ আশা প্রকাশ করেন, সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে এবং সেই আপিলে তার সর্বোচ্চ সাজা হবে।

এদিকে, জেলা জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক অসিত সিংহ রায় এই রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন। গণমাধ্যমে জাসদের পাঠানো এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, সরকারপক্ষ কুষ্টিয়ায় ৬ জনের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে হাসানুল হক ইনুর সামান্যতম সংশ্লিষ্টতাও প্রমাণ করতে পারেনি। জাসদ ইনুর বিরুদ্ধে দেওয়া এই রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক রায় প্রত্যাখ্যান করছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ৫ আগস্ট ‘জুলাই বিপ্লব’ চলাকালে কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি ছোড়ে পুলিশ। তাদের গুলিতে নিহত হন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। একই সঙ্গে আহত হন বহু সাধারণ মানুষ। এই ৬ জনকে হত্যার দায়ে সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করে আদালত।