উজানের ঢল এবং ভারী বর্ষণের প্রভাবে কুড়িগ্রামের প্রধান নদনদীগুলো, বিশেষ করে দুধকুমার, ধরলা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে দুধকুমার নদের পানি ভূরুঙ্গামারীর পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
আকস্মিক এই বন্যায় প্লাবিত এলাকার পরিবার-পরিজন ও গৃহপালিত প্রাণী নিয়ে বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। অনেক এলাকায় নতুন করে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। সোমবার দুপুর ১২টার তথ্য অনুযায়ী, দুধকুমার নদের ভূরুঙ্গামারী পাটেশ্বরী পয়েন্টে মৌসুমি বিপদসীমা ২৯ দশমিক ৬০ মিটার হলেও পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ২৯ দশমিক ৮৩ মিটার। এছাড়া, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদের পানিও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যদিও সেগুলো এখনও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে পাট, ভুট্টা, চীনাবাদাম, মরিচ, পটলসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের ক্ষেত, যা কৃষকদের ফসলহানির শঙ্কায় ফেলেছে। চর লুচনী গ্রামের বাসিন্দা হাওয়া বেগম জানান, “বন্যায় বাড়িতে পানি ঢুকেছে, চেয়ারের ওপর চুলা বসিয়ে রান্না করতে হচ্ছে। হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল এবং ছোট বাচ্চাদের নিয়ে আমাদের খুবই সমস্যা হচ্ছে।” চিলমারীর কড়াই বরিশাল চরের শামসুদ্দিন বলেন, “পানি বাড়ার কারণে আমাদের এলাকার দুটি পয়েন্টে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। গত এক সপ্তাহে প্রায় ১৫টি বাড়ি ও কয়েক একর ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে।” কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, উজানে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার নদনদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে এবং দুধকুমার নদ ইতোমধ্যে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে।
রিপোর্টারের নাম 























