ইতালির পিসার হেলানো টাওয়ার বিশ্বজুড়ে পরিচিত একটি প্রতীকী স্থাপনা। তবে শুধু পিসার টাওয়ারই নয়, নেদারল্যান্ডসের ড্যান্সিং হাউস কিংবা চীনের টাইগার হিল প্যাগোডার মতো আরও অনেক হেলে থাকা ভবন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। প্রশ্ন জাগতে পারে, এসব ভবন কেন হেলে থাকে এবং হেলে থাকার পরও কিভাবে তারা ভেঙে না পড়ে টিকে থাকে?
নেদারল্যান্ডসের ডেলফ্ট ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি এবং ডেল্টারেস-এর সহযোগী অধ্যাপক ড. ম্যান্ডি কর্ফ ব্যাখ্যা করেন, কোনো কাঠামো একপাশে হেলে থাকার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। অনেক সময় ভবনের ভিত্তির ধরনের কারণে এমনটি হয়। উদাহরণস্বরূপ, আমস্টারডামের ড্যান্সিং হাউসের মতো অনেক ভবন নরম কাদা, পিট বা বালুযুক্ত মাটির প্রায় ১২ মিটার গভীরে স্থাপিত কাঠের খুঁটির ওপর নির্মিত। যদি এই খুঁটিগুলো ক্ষয় হতে শুরু করে বা পচে যায়, তবে ফাটল দেখা দেয় এবং ওজনের অসম বণ্টনের ফলে ভবন সময়ের সাথে সাথে হেলে পড়তে পারে।
মাটির অবস্থার কারণেও ভবন হেলতে পারে, যেমনটি পিসার টাওয়ারের ক্ষেত্রে ঘটেছে। ইউনিভার্সটি অফ পিসার অধ্যাপক নুনজিয়ান্তে স্কুয়েগলিয়া জানান, অত্যন্ত নরম মাটির কারণে পিসার টাওয়ার নির্মাণের শুরু থেকেই হেলতে শুরু করে এবং এটি মাটিতে প্রায় তিন থেকে চার মিটার পর্যন্ত দেবে গিয়েছিল।
মানুষের সৃষ্ট পরিবেশগত পরিবর্তনও ভবন হেলানোর কারণ হতে পারে। ডেলফ্টের প্রাচীনতম গীর্জা ‘আউডা কার্ক’-এর টাওয়ারটি খালের দিকে হেলে আছে, কারণ খালের জন্য একপাশের মাটি খনন করায় সেখানকার মাটি নরম হয়ে যায় এবং নির্মাণের সময় থেকেই এটি হেলতে শুরু করে। এছাড়া, ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের পরিবর্তনও ভবনের হেলানোর কারণ হতে পারে।
তবে, কিছু ভবন ইচ্ছাকৃতভাবে হেলানো আকারে তৈরি করা হয়। আমস্টারডামের অনেক বাণিজ্যিক ভবন ও খালের ধারের গুদামঘর সামনের দিকে হেলানো অবস্থায় নির্মিত হতো, যাতে পণ্য সহজে ওপরে তোলা যায়। ড. কর্ফের মতে, সামনে হেলানো ডিজাইন পরিকল্পিত হলেও পাশের দিকে হেলানো সাধারণত কোনো সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। যদিও এই ভবনগুলো হেলে থাকে, প্রকৌশলগত স্থিতিশীলতা ও সময়োপযোগী সংস্কারের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই তারা টিকে থাকতে সক্ষম হয়।
রিপোর্টারের নাম 

























