ঢাকা ০৪:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

পদ্মায় অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব: ভাঙন আতঙ্কে নড়িয়ার হাজারো মানুষ

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এতে নতুন করে নদী ভাঙনের কবলে পড়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৫০টি ড্রেজার বসিয়ে দিন-রাত প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, যার ফলে বসারচর ও চরআত্রা মৌজার অন্তত ৫ হাজার একর ফসলি জমি চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

অভিযোগের তীর নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ রয়েলের দিকে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তার নেতৃত্বাধীন একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে বালু তুলে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে। তবে অভিযুক্ত নেতা এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তিনি নিয়ম মেনে নিলামে কেনা চরের বালু অপসারণ করছেন, নদীর তলদেশ থেকে নয়। এদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর বুক চিরে সারিবদ্ধ ড্রেজারের বিকট শব্দে পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং উত্তোলিত বালু বাল্কহেডের মাধ্যমে ঢাকা, চাঁদপুর ও মুন্সিগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত এক দশকে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে নড়িয়ার হাজার হাজার পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। সেই ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকার কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করলেও, বর্তমানের এই অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন সেই বাঁধ ও জনপদকে পুনরায় হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টির ওপর নজর রাখছে বলে জানা গেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এশিয়ার বৃহত্তম কর্ণফুলী পেপার মিল পরিদর্শনে বিভাগীয় কমিশনার, সচল করার তাগিদ

পদ্মায় অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব: ভাঙন আতঙ্কে নড়িয়ার হাজারো মানুষ

আপডেট সময় : ০২:৫১:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এতে নতুন করে নদী ভাঙনের কবলে পড়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৫০টি ড্রেজার বসিয়ে দিন-রাত প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, যার ফলে বসারচর ও চরআত্রা মৌজার অন্তত ৫ হাজার একর ফসলি জমি চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

অভিযোগের তীর নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ রয়েলের দিকে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তার নেতৃত্বাধীন একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে বালু তুলে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে। তবে অভিযুক্ত নেতা এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তিনি নিয়ম মেনে নিলামে কেনা চরের বালু অপসারণ করছেন, নদীর তলদেশ থেকে নয়। এদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর বুক চিরে সারিবদ্ধ ড্রেজারের বিকট শব্দে পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং উত্তোলিত বালু বাল্কহেডের মাধ্যমে ঢাকা, চাঁদপুর ও মুন্সিগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত এক দশকে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে নড়িয়ার হাজার হাজার পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। সেই ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকার কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করলেও, বর্তমানের এই অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন সেই বাঁধ ও জনপদকে পুনরায় হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টির ওপর নজর রাখছে বলে জানা গেছে।