বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহর আজীবন ইমেরিটাস অধ্যাপক পদ বাতিল করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গত প্রায় দুই বছর ধরে ওই পদের বিপরীতে তিনি যে পরিমাণ সম্মানী ও সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছেন, তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক সমাজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, এই সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে নেওয়া হয়নি। মূলত নিয়মবহির্ভূতভাবে দেওয়া একটি নিয়োগ সংশোধনের জন্যই এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, ব্যক্তি যতই সম্মানিত হোন না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেছেন। তবে এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে ভিন্ন কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন সমালোচকদের একটি বড় অংশ।
সমালোচকদের মতে, ডা. আবদুল্লাহ ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক। বিশেষ করে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় যখন দেশে নজিরবিহীন প্রাণহানির ঘটনা ঘটছিল, তখনও তিনি তার পদে বহাল ছিলেন। এই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের সময় তার নীরবতা এবং পেশাগত অবস্থানের কারণে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। অন্যদিকে, তার সমর্থকরা এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, ডা. আবদুল্লাহ একজন প্রথিতযশা চিকিৎসক এবং তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি অসংখ্য রোগীকে সেবা দিয়েছেন, তাই তার পেশাগত সম্মানকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখা উচিত ছিল।
উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালে তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন ডা. আবদুল্লাহ। পরবর্তীতে তিনি মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ও ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালে তিনি প্রথমবারের মতো শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে নিয়োগ পান এবং ২০২৪ সালে দ্বিতীয় দফায় চুক্তিতে সচিব পদমর্যাদায় পুনরায় নিয়োগপ্রাপ্ত হন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তার এই নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের মাঝেই তার ইমেরিটাস পদ বাতিলের সিদ্ধান্তটি এলো।
রিপোর্টারের নাম 





















