ঢাকা ০৪:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

বাংলার বর্ষা: কদম, শাপলা, হিজল ও করচ—প্রকৃতির চার নীরব দূত

বর্ষা এলেই বাংলার প্রকৃতি যেন এক নতুন রূপে সেজে ওঠে। আকাশভরা মেঘ, মাটির সোঁদা গন্ধ, অবিরাম বৃষ্টির শব্দ আর সবুজে মোড়ানো মাঠ—এসব মিলিয়ে বর্ষা শুধু ঋতু পরিবর্তন নয়, এক গভীর অনুভূতির নাম। আর এই বর্ষাকে সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান করে তোলে কিছু চিরচেনা ফুল ও গাছ। কদম, শাপলা, হিজল ও করচ—এরা যেন বাংলার বর্ষার চার নীরব দূত, যারা প্রকৃতির বার্তা নিয়ে আসে।

বর্ষার শুরুতেই ফুটতে দেখা যায় কদম। গোলাকার হলুদাভ এই ফুল মেঘলা আকাশের নিচে এক ছোট্ট সূর্যের মতো। গ্রামীণ পথে, নদীর ধারে বা কোনো পুরোনো বাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কদমগাছ সহজেই মানুষের মনে এক ধরনের নস্টালজিয়া জাগায়। বাংলা সাহিত্য ও গানে কদম দীর্ঘদিন ধরে প্রেম, অপেক্ষা ও বর্ষার আবেগের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা, বর্ষায় বিল, হাওর ও পুকুরজুড়ে ভেসে থাকে। সাদা, গোলাপি বা লাল শাপলা শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এটি গ্রামীণ জীবনেরও অবিচ্ছেদ্য অংশ। একসময় গ্রামের শিশুরা শাপলা তুলত এবং এর ডাঁটা রান্নার কাজে ব্যবহৃত হতো। তবে জলাভূমি ভরাট ও পরিবেশ দূষণের কারণে অনেক এলাকায় শাপলার দেখা এখন কমে গেছে, যা আমাদের এক জলজ ঐতিহ্যের বিলীন হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

হাওর-বিল অঞ্চলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত হিজল গাছ। বর্ষাকালে পানির মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা হিজলগাছ এক নীরব কবিতার মতো লাগে। এর ডালে পাখিরা আশ্রয় নেয় এবং এর নিচে নানা জলজ প্রাণের জীবনচক্র সম্পন্ন হয়। বাংলার জলাভূমির পরিবেশ রক্ষায় হিজল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু নগরায়ণ, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ ও জলাভূমি ধ্বংসের কারণে এই গাছটিও আজ হুমকির মুখে।

নদীপাড়, বিল ও জলাভূমি এলাকায় করচ গাছ বেশি দেখা যায়। বর্ষায় এর সাদা ফুল ও সবুজ পাতা চারপাশকে এক ভিন্ন সৌন্দর্য দেয়। এটি মাটিক্ষয় রোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলার নদীনির্ভর জীবনের সঙ্গে করচের সম্পর্ক বহু পুরোনো। তবে নদীভাঙন, বন উজাড় ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে এই গাছটিও এখন সংকটের মুখে পড়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এশিয়ার বৃহত্তম কর্ণফুলী পেপার মিল পরিদর্শনে বিভাগীয় কমিশনার, সচল করার তাগিদ

বাংলার বর্ষা: কদম, শাপলা, হিজল ও করচ—প্রকৃতির চার নীরব দূত

আপডেট সময় : ০২:৪৭:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

বর্ষা এলেই বাংলার প্রকৃতি যেন এক নতুন রূপে সেজে ওঠে। আকাশভরা মেঘ, মাটির সোঁদা গন্ধ, অবিরাম বৃষ্টির শব্দ আর সবুজে মোড়ানো মাঠ—এসব মিলিয়ে বর্ষা শুধু ঋতু পরিবর্তন নয়, এক গভীর অনুভূতির নাম। আর এই বর্ষাকে সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান করে তোলে কিছু চিরচেনা ফুল ও গাছ। কদম, শাপলা, হিজল ও করচ—এরা যেন বাংলার বর্ষার চার নীরব দূত, যারা প্রকৃতির বার্তা নিয়ে আসে।

বর্ষার শুরুতেই ফুটতে দেখা যায় কদম। গোলাকার হলুদাভ এই ফুল মেঘলা আকাশের নিচে এক ছোট্ট সূর্যের মতো। গ্রামীণ পথে, নদীর ধারে বা কোনো পুরোনো বাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কদমগাছ সহজেই মানুষের মনে এক ধরনের নস্টালজিয়া জাগায়। বাংলা সাহিত্য ও গানে কদম দীর্ঘদিন ধরে প্রেম, অপেক্ষা ও বর্ষার আবেগের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা, বর্ষায় বিল, হাওর ও পুকুরজুড়ে ভেসে থাকে। সাদা, গোলাপি বা লাল শাপলা শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এটি গ্রামীণ জীবনেরও অবিচ্ছেদ্য অংশ। একসময় গ্রামের শিশুরা শাপলা তুলত এবং এর ডাঁটা রান্নার কাজে ব্যবহৃত হতো। তবে জলাভূমি ভরাট ও পরিবেশ দূষণের কারণে অনেক এলাকায় শাপলার দেখা এখন কমে গেছে, যা আমাদের এক জলজ ঐতিহ্যের বিলীন হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

হাওর-বিল অঞ্চলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত হিজল গাছ। বর্ষাকালে পানির মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা হিজলগাছ এক নীরব কবিতার মতো লাগে। এর ডালে পাখিরা আশ্রয় নেয় এবং এর নিচে নানা জলজ প্রাণের জীবনচক্র সম্পন্ন হয়। বাংলার জলাভূমির পরিবেশ রক্ষায় হিজল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু নগরায়ণ, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ ও জলাভূমি ধ্বংসের কারণে এই গাছটিও আজ হুমকির মুখে।

নদীপাড়, বিল ও জলাভূমি এলাকায় করচ গাছ বেশি দেখা যায়। বর্ষায় এর সাদা ফুল ও সবুজ পাতা চারপাশকে এক ভিন্ন সৌন্দর্য দেয়। এটি মাটিক্ষয় রোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলার নদীনির্ভর জীবনের সঙ্গে করচের সম্পর্ক বহু পুরোনো। তবে নদীভাঙন, বন উজাড় ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে এই গাছটিও এখন সংকটের মুখে পড়েছে।