চার বোনের পর একমাত্র ভাই টুনুর আগমনে পুরো পরিবারে যেন খুশির জোয়ার বয়ে গিয়েছিল। টুনুর শৈশব ছিল বাবার নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় ঘেরা। ছোট্ট টুনু যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকত, অফিস থেকে ফেরা বাবা তখন তাকে জাগাতেন না, বরং পরম মমতায় তার মুখে মিষ্টি তুলে দিতেন। ঘুমের ঘোরেই টুনুর সেই মিষ্টি খাওয়ার দৃশ্য আজও পরিবারের সবার স্মৃতিতে অমলিন হয়ে আছে।
বাবার ফনিক্স সাইকেলের সামনে বসে বাজারে যাওয়া ছিল টুনুর নিত্যদিনের আনন্দ। বাজারের কাজ শেষে মিষ্টির দোকানে বসে পছন্দের সব মিষ্টি খাওয়া আর বাবার কাছে বায়না ধরা—সবই ছিল এক মধুর অভ্যাস। বাবার বেতনের দিনটি ছিল আরও বিশেষ; নতুন কড়কড়ে নোট যখন টুনুর হাতে আসত, তখন সেগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে তার চিন্তার শেষ ছিল না। কখনো বালিশের নিচে, কখনো মায়ের কাছে জমা রেখে বারবার পরীক্ষা করে দেখত টাকাগুলো ঠিক আছে কি না।
স্কুলে ভর্তির সেই দিনটির কথা ভাবলে আজও টুনু আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে। দর্জির দোকানে গিয়ে নিখুঁত মাপে স্কুল ড্রেস বানানো আর ফেরার পথে খেলনা গাড়ি কিনে দেওয়া—বাবার প্রতিটি কাজ ছিল ভালোবাসায় মোড়ানো। স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় টুনু যখন দৌড়ে প্রথম হতো, অফিসের ব্যস্ততায় বাবা থাকতে না পারলেও তার গৌরব ছড়িয়ে পড়ত চারদিকে। একবার তো বাবা সারপ্রাইজ দিতে মাঠেই হাজির হয়েছিলেন। ফিনিশিং লাইন ছোঁয়ার পর বাবার সেই আলিঙ্গন আর কপালে আঁকা চুমু টুনুর জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি।
জীবনের প্রতিটি ধাপে টুনুর সাফল্যে বাবার চেয়ে বেশি আনন্দিত কেউ ছিল না। আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের কাছে ছেলের গল্প করতে তিনি কখনো ক্লান্ত হতেন না। আজ যখন টুনু তার কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত, তখন বাবার সেই পুরনো কথাগুলো কানে বাজে—’আমার ছেলেটা বড্ড আবেগি’। বাবার সেই অতিমানবিক শাসনের স্মৃতিগুলো এখন কেবলই চোখের কোণে জল আর হৃদয়ে গভীর হাহাকার তৈরি করে।
রিপোর্টারের নাম 
























