সমালোচনার জবাব দিতে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর চেয়ে ভালো আর কেউ হয়তো জানেন না। ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে এসে যখনই তাকে বাতিলের খাতায় ফেলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে, তখনই তিনি রাজকীয়ভাবে ফিরে এসেছেন। বিশ্বকাপের মঞ্চে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে পর্তুগালের দাপুটে জয়ে সেই চেনা রোনালদোকেই দেখল ফুটবল বিশ্ব। ৪১ বছর বয়সেও জোড়া গোল করে তিনি প্রমাণ করলেন, সেরাদের তালিকায় তার নাম কেন সবার আগে উচ্চারিত হয়।
হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই উজবেকিস্তানের রক্ষণকে চাপে রাখে পর্তুগাল। ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটেই জোয়াও ক্যানসেলোর নিখুঁত ক্রস থেকে চমৎকার এক শটে বল জালে জড়ান সিআর সেভেন। এই গোলের মাধ্যমে তিনি ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য এক কীর্তি গড়েন। ২০০২ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত দীর্ঘ দুই যুগের এই পথচলায় তার ধারাবাহিকতা ফুটবল বিশ্বকে আরও একবার বিস্মিত করেছে।
পর্তুগালের আক্রমণের ধার বজায় রেখে প্রথমার্ধেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নুনো মেন্ডেস। তবে রাতটি ছিল একান্তই রোনালদোর। ৩৯ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেসের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি পূর্ণ করেন তিনি। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১০-এ নিয়ে যান এই মহাতারকা, যা তাকে পর্তুগালের কিংবদন্তি ইউসেবিওকে ছাড়িয়ে দেশের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসিয়েছে।
পুরো ম্যাচে পর্তুগালের আক্রমণভাগের রসায়ন ছিল দেখার মতো। ব্রুনো ফার্নান্দেস, জোয়াও ফেলিক্স এবং ক্যানসেলোদের সমন্বিত আক্রমণে দিশেহারা ছিল প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ। শেষ পর্যন্ত ৫-০ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পর্তুগাল। রোনালদোর এই বিধ্বংসী ফর্ম পর্তুগিজ সমর্থকদের মনে শিরোপার নতুন স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছে।
রিপোর্টারের নাম 
























