ঢাকা ১২:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

রোনালদোর জোড়া গোলে পর্তুগালের হিউস্টন জয়, ভাঙলেন একাধিক বিশ্বকাপ রেকর্ড

সমালোচনার ঝড় যেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে আরও ভয়ংকর করে তোলে, ক্যারিয়ারের দীর্ঘ দুই দশকে বারবারই এই দৃশ্য দেখা গেছে। যখনই তার সময় শেষ বলে গুঞ্জন উঠেছে, তখনই তিনি নতুন করে নিজের অস্তিত্ব জানান দিয়েছেন। বিশ্বকাপের মঞ্চেও সেই পুরোনো গল্পেরই পুনরাবৃত্তি হলো, যেখানে পর্তুগালের ৫-০ গোলের দাপুটে জয়ে রোনালদো জোড়া গোল করে প্রমাণ করলেন, তিনি এখনো বিশ্বসেরাদের কাতারে আছেন এবং বেশ ভালোভাবেই আছেন।

ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে গোল করতে না পারায় এবং টানা দশটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোলশূন্য থাকার কারণে সমালোচনার তির ছুটে এসেছিল চারদিক থেকে। ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে ঘিরে পর্তুগালের এত নির্ভরতা এখনো যৌক্তিক কিনা, সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে রোনালদোর সময় লাগল মাত্র ছয় মিনিট।

হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই পর্তুগালের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। ডান দিক দিয়ে জোয়াও ক্যানসেলোর দুর্দান্ত দৌড় এবং নিখুঁত ক্রস থেকে বল পেয়ে কাছের পোস্টে ঝাঁপিয়ে পড়ে রোনালদো বল জালে জড়িয়ে দেন। এই গোলটি শুধু ম্যাচের প্রথম গোল ছিল না, এটি ইতিহাসেরও অংশ হয়ে রইল। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি ভিন্ন আসরে (২০০২, ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০২২ এবং ২০২৬) গোল করার অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়লেন রোনালদো।

প্রথম গোলের পর পর্তুগালের আক্রমণ আরও ধারালো হয়ে ওঠে। প্রথমার্ধের ৩৯ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেসের অসাধারণ থ্রু বল ধরে ডান পায়ের নিখুঁত ফিনিশে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন রোনালদো। এই গোলের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা দশে নিয়ে যান এবং পর্তুগালের কিংবদন্তি ইউসেবিওকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। এই রাতটি রোনালদোর জন্য ছিল রেকর্ড গড়ার এবং সমালোচকদের কড়া জবাব দেওয়ার এক রঙিন অধ্যায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজায় শিশুদের লক্ষ্য করে সুপরিকল্পিত গণহত্যা চালাচ্ছে ইসরাইল: জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদন

রোনালদোর জোড়া গোলে পর্তুগালের হিউস্টন জয়, ভাঙলেন একাধিক বিশ্বকাপ রেকর্ড

আপডেট সময় : ১১:২৭:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সমালোচনার ঝড় যেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে আরও ভয়ংকর করে তোলে, ক্যারিয়ারের দীর্ঘ দুই দশকে বারবারই এই দৃশ্য দেখা গেছে। যখনই তার সময় শেষ বলে গুঞ্জন উঠেছে, তখনই তিনি নতুন করে নিজের অস্তিত্ব জানান দিয়েছেন। বিশ্বকাপের মঞ্চেও সেই পুরোনো গল্পেরই পুনরাবৃত্তি হলো, যেখানে পর্তুগালের ৫-০ গোলের দাপুটে জয়ে রোনালদো জোড়া গোল করে প্রমাণ করলেন, তিনি এখনো বিশ্বসেরাদের কাতারে আছেন এবং বেশ ভালোভাবেই আছেন।

ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে গোল করতে না পারায় এবং টানা দশটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোলশূন্য থাকার কারণে সমালোচনার তির ছুটে এসেছিল চারদিক থেকে। ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে ঘিরে পর্তুগালের এত নির্ভরতা এখনো যৌক্তিক কিনা, সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে রোনালদোর সময় লাগল মাত্র ছয় মিনিট।

হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই পর্তুগালের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। ডান দিক দিয়ে জোয়াও ক্যানসেলোর দুর্দান্ত দৌড় এবং নিখুঁত ক্রস থেকে বল পেয়ে কাছের পোস্টে ঝাঁপিয়ে পড়ে রোনালদো বল জালে জড়িয়ে দেন। এই গোলটি শুধু ম্যাচের প্রথম গোল ছিল না, এটি ইতিহাসেরও অংশ হয়ে রইল। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি ভিন্ন আসরে (২০০২, ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০২২ এবং ২০২৬) গোল করার অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়লেন রোনালদো।

প্রথম গোলের পর পর্তুগালের আক্রমণ আরও ধারালো হয়ে ওঠে। প্রথমার্ধের ৩৯ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেসের অসাধারণ থ্রু বল ধরে ডান পায়ের নিখুঁত ফিনিশে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন রোনালদো। এই গোলের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা দশে নিয়ে যান এবং পর্তুগালের কিংবদন্তি ইউসেবিওকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। এই রাতটি রোনালদোর জন্য ছিল রেকর্ড গড়ার এবং সমালোচকদের কড়া জবাব দেওয়ার এক রঙিন অধ্যায়।