ঢাকা ১২:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

পদ্মা, যমুনা ও সুরমার ভয়াবহ ভাঙন: ভিটেমাটি হারিয়ে দিশাহারা হাজারো মানুষ, বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও স্থাপনা

দেশের প্রধান তিন নদী পদ্মা, যমুনা ও সুরমার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন, যা কেড়ে নিচ্ছে হাজারো মানুষের বসতভিটা, ফসলি জমি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। স্কুল, মাদরাসা, মসজিদ ও কলেজসহ বহু প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। অনেক স্থানে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এর ফলে নদীভাঙনের শিকার মানুষ চরম অনিশ্চয়তা ও দিশাহারা অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

সুনামগঞ্জ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সুরমা নদীতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিনে গ্রামীণ সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। শান্তিগঞ্জ উপজেলার তিনটি গ্রামের শত শত মানুষ ভাঙনের কবলে পড়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এর আগেও এই এলাকায় মসজিদ ও বিদ্যালয় নদীতে বিলীন হয়েছে। অসংখ্য পরিবারের বাড়িঘর ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। নদীপাড়ের শত শত পরিবার ভাঙন ঠেকানোর কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়রা জানান, অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন এবং শত শত পরিবার ভাঙন আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন।

ইউপি সদস্য আব্দুল মছাব্বির বলেন, গত ২০ বছর ধরে সুরমা নদীর ভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদুল হক জানিয়েছেন, ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে স্থায়ী প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কয়ছর এম আহমেদ জানান, তিনি তার নির্বাচনি এলাকার ভাঙনের খবর জেনেছেন এবং দ্রুত ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।

এদিকে, বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙনও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও তা কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। ভাঙন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও জনবসতির দিকে ধেয়ে আসছে, যা নদীপাড়ের মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। গত মঙ্গলবার সকালে উপজেলার শহরাবাড়ি যমুনা নদীর ঘাট এলাকায় জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলার স্থানে ফের ভাঙন দেখা দেয়। ভয়াবহ ভাঙনে প্রায় ৫৫ মিটার অংশের জিও ব্যাগ ও টিউবসহ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। গত তিন দিনে প্রায় ১৫০ মিটার অংশ নদীতে বিলীন হওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজায় শিশুদের লক্ষ্য করে সুপরিকল্পিত গণহত্যা চালাচ্ছে ইসরাইল: জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদন

পদ্মা, যমুনা ও সুরমার ভয়াবহ ভাঙন: ভিটেমাটি হারিয়ে দিশাহারা হাজারো মানুষ, বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও স্থাপনা

আপডেট সময় : ১১:২৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

দেশের প্রধান তিন নদী পদ্মা, যমুনা ও সুরমার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন, যা কেড়ে নিচ্ছে হাজারো মানুষের বসতভিটা, ফসলি জমি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। স্কুল, মাদরাসা, মসজিদ ও কলেজসহ বহু প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। অনেক স্থানে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এর ফলে নদীভাঙনের শিকার মানুষ চরম অনিশ্চয়তা ও দিশাহারা অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

সুনামগঞ্জ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সুরমা নদীতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিনে গ্রামীণ সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। শান্তিগঞ্জ উপজেলার তিনটি গ্রামের শত শত মানুষ ভাঙনের কবলে পড়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এর আগেও এই এলাকায় মসজিদ ও বিদ্যালয় নদীতে বিলীন হয়েছে। অসংখ্য পরিবারের বাড়িঘর ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। নদীপাড়ের শত শত পরিবার ভাঙন ঠেকানোর কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়রা জানান, অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন এবং শত শত পরিবার ভাঙন আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন।

ইউপি সদস্য আব্দুল মছাব্বির বলেন, গত ২০ বছর ধরে সুরমা নদীর ভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদুল হক জানিয়েছেন, ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে স্থায়ী প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কয়ছর এম আহমেদ জানান, তিনি তার নির্বাচনি এলাকার ভাঙনের খবর জেনেছেন এবং দ্রুত ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।

এদিকে, বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙনও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও তা কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। ভাঙন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও জনবসতির দিকে ধেয়ে আসছে, যা নদীপাড়ের মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। গত মঙ্গলবার সকালে উপজেলার শহরাবাড়ি যমুনা নদীর ঘাট এলাকায় জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলার স্থানে ফের ভাঙন দেখা দেয়। ভয়াবহ ভাঙনে প্রায় ৫৫ মিটার অংশের জিও ব্যাগ ও টিউবসহ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। গত তিন দিনে প্রায় ১৫০ মিটার অংশ নদীতে বিলীন হওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।