ইসলামে নারীর জন্য পর্দা একটি ফরজ বিধান, যা আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং কোরআনে নির্দেশ দিয়েছেন। সুরা নূর-এর ৩১ নম্বর আয়াতে মুমিন নারীদের দৃষ্টি সংযত রাখতে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করতে বলা হয়েছে। একই সুরার ৩০ নম্বর আয়াতে মুমিন পুরুষদের জন্যও একই নির্দেশ রয়েছে, যা ইসলামে পর্দার গুরুত্বের গভীরতা নির্দেশ করে।
কোরআনের পাশাপাশি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস এবং বিখ্যাত সাহাবিদের উক্তি থেকেও পর্দার গুরুত্ব স্পষ্ট। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আল্লাহ নারীদের চাদর দিয়ে শরীর ঢেকে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তাদের সহজেই চেনা না যায়। আলী (রা.)-এর একটি উক্তি প্রচলিত আছে যে, নারীরা যদি জানত পুরুষরা তাদের নিয়ে আড্ডায় কী আলোচনা করে বা তাদের প্রতি কেমন দৃষ্টি রাখে, তাহলে তারা নিজেদের লোহা দিয়ে ঢেকে রাখত। এই বর্ণনাগুলো ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে পর্দার অপরিহার্যতা তুলে ধরে।
তবে, বর্তমান সমাজে পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাবে এই ফরজ বিধান পালনে নারীরা নানা সামাজিক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন। তথাকথিত আধুনিকতার নামে শরীর প্রদর্শনের প্রবণতা বাড়ছে, যা পর্দানশিন নারীদের জন্য এক ভিন্ন বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে। একদল নারী যেখানে নিজেদের শরীর আবৃত রাখতে সচেষ্ট, সেখানে অন্য একদল এর বিপরীত মতাদর্শে বিশ্বাসী।
ইসলামের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে মার্জিত পোশাক পরিধানকারী নারীরা অনেক সময় উচ্চশিক্ষিত বা সাধারণ সমাজের কাছেও দৃষ্টিনন্দন হিসেবে বিবেচিত হন না। হেদায়েতপ্রাপ্ত মুসলিমদের জন্য মেঘমুক্ত আকাশ কখনোই ছিল না, আর তাই পর্দানশিনদের আকাশও প্রতিবন্ধকতামুক্ত নয়। ধর্মীয় বিধান পালনে তাদের সতত সংগ্রাম করতে হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 

























