ঢাকা ০৩:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

মহররম মাস: ঐতিহাসিক তাৎপর্য ও আশুরার বহুমুখী শিক্ষা

হিজরি সনের প্রথম মাস মহররম, যা একইসঙ্গে চারটি সম্মানিত মাসের অন্যতম। আরবের অন্ধকার যুগেও এই মাসকে বিশেষ সম্মান ও মর্যাদার চোখে দেখা হতো। শরিয়তের দৃষ্টিতে এ মাস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং এর সঙ্গে বহু ঐতিহাসিক ঘটনা জড়িত। মহররম মাস ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী, যেখানে ইসলামের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল। শুধু উম্মতে মুহাম্মদিই নয়, বরং পূর্ববর্তী অনেক উম্মত ও নবীদের জীবনে অবিস্মরণীয় ঘটনাপ্রবাহ এই মাসেই ঘটেছিল।

‘মহররম’ নামের মধ্যেই এর ফজিলত নিহিত। মহররম শব্দের অর্থ ‘মর্যাদাপূর্ণ’ ও ‘তাৎপর্যপূর্ণ’। এই মাসকে ঘিরে যেহেতু অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্য ও রহস্যময় তাৎপর্য নিহিত রয়েছে এবং এ মাসে যুদ্ধবিগ্রহ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ছিল, এসব কারণেই এটি মর্যাদাপূর্ণ। পবিত্র কোরআনে মহররম (যা আশহুরে হুরুমের অন্তর্ভুক্ত তথা নিষিদ্ধ মাস) সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর বিধান ও গণনায় মাসের সংখ্যা ১২। যেদিন থেকে তিনি সব আসমান ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। এর মধ্যে চারটি হলো সম্মানিত মাস। এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং তোমরা এ মাসগুলোর সম্মান বিনষ্ট করে নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না।’ (সুরা তওবা: ৩৬)

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত হাদিসে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘এক বছরে ১২ মাস। এর মধ্যে চার মাস বিশেষ তাৎপর্যের অধিকারী। আবার এর মধ্যে তিন মাস ধারাবাহিকভাবে (অর্থাৎ জিলকদ, জিলহজ ও মহররম) এবং চতুর্থ মাস মুজর গোত্রের রজব মাস।’ (সহিহ বোখারি: ৪৬৬২ ও মুসলিম: ১৬৭৯)

মহররম মাস সম্মানিত হওয়ার পেছনে অন্যতম বিশেষ কারণ হচ্ছে আশুরা বা মহররমের ১০ তারিখ। এ বসুন্ধরার ঊষালগ্ন থেকে আশুরার দিনে অসংখ্য ঐতিহাসিক ঘটনা ও হৃদয়বিদারক কাহিনি সংঘটিত হয়েছে। অনেকেই না বুঝে অথবা ভ্রান্ত প্ররোচনায় পড়ে আশুরার ঐতিহ্য বলতে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয়তম দৌহিত্র, জান্নাতের যুবকদের সরদার হজরত হুসাইন (রা.)-এর শাহাদত ও নবী পরিবারের কয়েকজন সম্মানিত সদস্যের রক্তে রঞ্জিত কারবালার ইতিহাসকেই কেবল বুঝে থাকেন। তাদের অবস্থা ও কার্যাদি অবলোকন করে মনে হয়, কারবালার ইতিহাস ঘিরেই আশুরার সব ঐতিহ্য, এতেই রয়েছে আশুরার সব রহস্য। অথচ আশুরার তাৎপর্য কারবালার ঘটনার চেয়েও ব্যাপক ও গভীর।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরাকে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ইরানের নতুন গোপন সেল গঠন

মহররম মাস: ঐতিহাসিক তাৎপর্য ও আশুরার বহুমুখী শিক্ষা

আপডেট সময় : ১২:৫২:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

হিজরি সনের প্রথম মাস মহররম, যা একইসঙ্গে চারটি সম্মানিত মাসের অন্যতম। আরবের অন্ধকার যুগেও এই মাসকে বিশেষ সম্মান ও মর্যাদার চোখে দেখা হতো। শরিয়তের দৃষ্টিতে এ মাস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং এর সঙ্গে বহু ঐতিহাসিক ঘটনা জড়িত। মহররম মাস ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী, যেখানে ইসলামের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল। শুধু উম্মতে মুহাম্মদিই নয়, বরং পূর্ববর্তী অনেক উম্মত ও নবীদের জীবনে অবিস্মরণীয় ঘটনাপ্রবাহ এই মাসেই ঘটেছিল।

‘মহররম’ নামের মধ্যেই এর ফজিলত নিহিত। মহররম শব্দের অর্থ ‘মর্যাদাপূর্ণ’ ও ‘তাৎপর্যপূর্ণ’। এই মাসকে ঘিরে যেহেতু অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্য ও রহস্যময় তাৎপর্য নিহিত রয়েছে এবং এ মাসে যুদ্ধবিগ্রহ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ছিল, এসব কারণেই এটি মর্যাদাপূর্ণ। পবিত্র কোরআনে মহররম (যা আশহুরে হুরুমের অন্তর্ভুক্ত তথা নিষিদ্ধ মাস) সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর বিধান ও গণনায় মাসের সংখ্যা ১২। যেদিন থেকে তিনি সব আসমান ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। এর মধ্যে চারটি হলো সম্মানিত মাস। এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং তোমরা এ মাসগুলোর সম্মান বিনষ্ট করে নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না।’ (সুরা তওবা: ৩৬)

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত হাদিসে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘এক বছরে ১২ মাস। এর মধ্যে চার মাস বিশেষ তাৎপর্যের অধিকারী। আবার এর মধ্যে তিন মাস ধারাবাহিকভাবে (অর্থাৎ জিলকদ, জিলহজ ও মহররম) এবং চতুর্থ মাস মুজর গোত্রের রজব মাস।’ (সহিহ বোখারি: ৪৬৬২ ও মুসলিম: ১৬৭৯)

মহররম মাস সম্মানিত হওয়ার পেছনে অন্যতম বিশেষ কারণ হচ্ছে আশুরা বা মহররমের ১০ তারিখ। এ বসুন্ধরার ঊষালগ্ন থেকে আশুরার দিনে অসংখ্য ঐতিহাসিক ঘটনা ও হৃদয়বিদারক কাহিনি সংঘটিত হয়েছে। অনেকেই না বুঝে অথবা ভ্রান্ত প্ররোচনায় পড়ে আশুরার ঐতিহ্য বলতে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয়তম দৌহিত্র, জান্নাতের যুবকদের সরদার হজরত হুসাইন (রা.)-এর শাহাদত ও নবী পরিবারের কয়েকজন সম্মানিত সদস্যের রক্তে রঞ্জিত কারবালার ইতিহাসকেই কেবল বুঝে থাকেন। তাদের অবস্থা ও কার্যাদি অবলোকন করে মনে হয়, কারবালার ইতিহাস ঘিরেই আশুরার সব ঐতিহ্য, এতেই রয়েছে আশুরার সব রহস্য। অথচ আশুরার তাৎপর্য কারবালার ঘটনার চেয়েও ব্যাপক ও গভীর।