রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো জাতীয় বাজেট, যা একটি দেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, উন্নয়ন কর্মসূচি এবং ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রার রূপরেখা তৈরি করে। বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, এটি একটি রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি এবং দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। তবে, বাজেট যতই বড় হোক না কেন, যদি তাতে অপচয়, অদক্ষতা ও অনিয়মের স্থান থাকে, তাহলে জনগণের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন কখনোই অর্জিত হয় না। তাই একটি কার্যকর ও জনকল্যাণমুখী বাজেটের অন্যতম শর্ত হলো অপচয়মুক্ত ব্যয়ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
ইসলাম মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা, ভারসাম্য ও দায়িত্বশীলতার শিক্ষা দেয়। ব্যক্তিগত জীবনে যেমন অপচয় নিষিদ্ধ, তেমনি রাষ্ট্রের অর্থ ব্যবস্থাপনায়ও অপচয় ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয়কে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। জাতীয় বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও ইসলামের এই শিক্ষা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা অপচয় সম্পর্কে ইরশাদ করেন, ‘তোমরা খাও, পান করো; কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।’ (সুরা আল-আরাফ: ৩১) অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই, আর শয়তান তার প্রতিপালকের প্রতি অত্যন্ত অকৃতজ্ঞ।’ (সুরা আল-ইসরা: ২৭) এই আয়াতগুলো থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, ইসলাম শুধু ব্যক্তিগত জীবনে নয়, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রেও সম্পদের যথাযথ ব্যবহারকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। কারণ, সম্পদ মানুষের ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকলেও তার প্রকৃত মালিক আল্লাহ তায়ালা। মানুষ কেবল এর আমানতদার।
জাতীয় বাজেটের অর্থ মূলত জনগণের অর্থ। কর, ভ্যাট, শুল্ক ও বিভিন্ন খাত থেকে অর্জিত রাজস্ব জনগণের শ্রম ও অবদানের ফল। তাই সরকার ও রাষ্ট্র পরিচালনাকারীরা এ সম্পদের মালিক নন, বরং আমানতদার। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।’ (সহিহ বুখারি) এই হাদিসের আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনাকারীদের প্রতিটি ব্যয়, প্রতিটি প্রকল্প এবং প্রতিটি সিদ্ধান্তের জবাবদিহি রয়েছে। সুতরাং জনগণের অর্থে বিলাসিতা, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বা অব্যবস্থাপনা ইসলামি দৃষ্টিতে গুরুতর দায়িত্বহীনতা।
রিপোর্টারের নাম 
























