ঢাকা ০৩:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

ফেনীতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতা বৃদ্ধি, পলাতক আসামিদের নেতৃত্বে মিছিল

এস এম ইউসুফ আলী, ফেনী: ফেনীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের তৎপরতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। জুলাই হত্যা মামলার আসামি ও দলটির পলাতক নেতারা এই কার্যক্রমের অর্থায়ন ও নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার সকালে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কর্মীরা শহরের স্টেশন রোডে একটি ঝটিকা মিছিল বের করে। তাৎক্ষণিকভাবে নিজের ছবিসহ ব্যানার নিয়ে মিছিলের ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকে শেয়ার করে শেখ রেহানার ক্যাশিয়ার ও জুলাই হত্যা মামলার পলাতক আসামি আলাউদ্দিন নাসিম সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

যদিও দলীয় একটি পেইজ থেকে মিছিলটি কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের সদর উপজেলা সেক্রেটারি শুসেন চন্দ্র শীলের নেতৃত্বে হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার পাশাপাশি এর জন্য বিএনপি-জামায়াতের স্থানীয় নেতৃত্বকে দুষছেন ক্ষমতাসীন দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

অন্যদিকে, গত ২৪শে আগস্ট মহিপালে ছাত্র-জনতার অবস্থান কর্মসূচিতে গুলি চালিয়ে ৯ জনকে হত্যা এবং শেখ হাসিনার পতনের পর দলটির স্থানীয় অভিভাবক ও গডফাদারসহ শীর্ষ সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়ার পর বাকিরা গাঢাকা দিলেও, কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়ে দলীয় প্রচারণামূলক নানা পোস্ট ও হুমকি-ধমকি দিচ্ছে তারা।

গত ২ জুন নিজের ফেসবুকে প্রশাসনকে হুমকি দিয়ে একটি পোস্ট করেছিলেন পতিত সরকারের সদস্য আলাউদ্দিন নাসিম। এতে তিনি লিখেছিলেন, ‘প্রশাসন এবং পুলিশের অতি উৎসাহী কর্মকর্তাদের বলছি, অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করবেন না। জোয়ার ভাটার এ দেশে কখন কি হয় বলা যায় না। গণেশ উল্টে গেলে যাতে বিপদে পড়ে না যান, সেটা চিন্তা করে কাজ করবেন।’

অনলাইনে সংঘবদ্ধ হয়ে এদের মাধ্যমে মিছিলসহ নাশতার নানা পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে মহিপালে ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার পলাতক আসামি নাসিম, নিজাম, দিদার, শুসেন, স্বপন, সোহেল, লিপটন, সাজেল, রফিক, ফারুক, মামুন, মিলনসহ আওয়ামী ঘরানার চিহ্নিত কিছু সাংবাদিক, আইনজীবী ও ফ্যাসিস্টদের দোসর, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেশ কয়েকজন গুপ্ত সদস্য। এর ফলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির চিহ্নিত ক্যাডার-সন্ত্রাসীরা জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রকাশ্যে চলাফেরা করার সাহস পাচ্ছে। বিশ্বস্ত সূত্রমতে, এদের প্রত্যেককে প্রতিনিয়ত দেশ-বিদেশ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থের জোগান ও নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলটির পলাতক নেতারা।

অপরদিকে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের পলাতক সব নেতাদের ফেলে যাওয়া অর্থ-সম্পদ, বাড়িভাড়া, ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি বিষয়গুলোও তাদের তৎপরতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরাকে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ইরানের নতুন গোপন সেল গঠন

ফেনীতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতা বৃদ্ধি, পলাতক আসামিদের নেতৃত্বে মিছিল

আপডেট সময় : ০৪:১৮:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

এস এম ইউসুফ আলী, ফেনী: ফেনীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের তৎপরতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। জুলাই হত্যা মামলার আসামি ও দলটির পলাতক নেতারা এই কার্যক্রমের অর্থায়ন ও নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার সকালে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কর্মীরা শহরের স্টেশন রোডে একটি ঝটিকা মিছিল বের করে। তাৎক্ষণিকভাবে নিজের ছবিসহ ব্যানার নিয়ে মিছিলের ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকে শেয়ার করে শেখ রেহানার ক্যাশিয়ার ও জুলাই হত্যা মামলার পলাতক আসামি আলাউদ্দিন নাসিম সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

যদিও দলীয় একটি পেইজ থেকে মিছিলটি কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের সদর উপজেলা সেক্রেটারি শুসেন চন্দ্র শীলের নেতৃত্বে হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার পাশাপাশি এর জন্য বিএনপি-জামায়াতের স্থানীয় নেতৃত্বকে দুষছেন ক্ষমতাসীন দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

অন্যদিকে, গত ২৪শে আগস্ট মহিপালে ছাত্র-জনতার অবস্থান কর্মসূচিতে গুলি চালিয়ে ৯ জনকে হত্যা এবং শেখ হাসিনার পতনের পর দলটির স্থানীয় অভিভাবক ও গডফাদারসহ শীর্ষ সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়ার পর বাকিরা গাঢাকা দিলেও, কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়ে দলীয় প্রচারণামূলক নানা পোস্ট ও হুমকি-ধমকি দিচ্ছে তারা।

গত ২ জুন নিজের ফেসবুকে প্রশাসনকে হুমকি দিয়ে একটি পোস্ট করেছিলেন পতিত সরকারের সদস্য আলাউদ্দিন নাসিম। এতে তিনি লিখেছিলেন, ‘প্রশাসন এবং পুলিশের অতি উৎসাহী কর্মকর্তাদের বলছি, অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করবেন না। জোয়ার ভাটার এ দেশে কখন কি হয় বলা যায় না। গণেশ উল্টে গেলে যাতে বিপদে পড়ে না যান, সেটা চিন্তা করে কাজ করবেন।’

অনলাইনে সংঘবদ্ধ হয়ে এদের মাধ্যমে মিছিলসহ নাশতার নানা পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে মহিপালে ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার পলাতক আসামি নাসিম, নিজাম, দিদার, শুসেন, স্বপন, সোহেল, লিপটন, সাজেল, রফিক, ফারুক, মামুন, মিলনসহ আওয়ামী ঘরানার চিহ্নিত কিছু সাংবাদিক, আইনজীবী ও ফ্যাসিস্টদের দোসর, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেশ কয়েকজন গুপ্ত সদস্য। এর ফলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির চিহ্নিত ক্যাডার-সন্ত্রাসীরা জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রকাশ্যে চলাফেরা করার সাহস পাচ্ছে। বিশ্বস্ত সূত্রমতে, এদের প্রত্যেককে প্রতিনিয়ত দেশ-বিদেশ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থের জোগান ও নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলটির পলাতক নেতারা।

অপরদিকে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের পলাতক সব নেতাদের ফেলে যাওয়া অর্থ-সম্পদ, বাড়িভাড়া, ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি বিষয়গুলোও তাদের তৎপরতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।