ঢাকা ০৩:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ: সমঝোতা ও প্রশ্ন

গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেকার রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। এই যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা ও উদ্দেশ্য নিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই বড় প্রশ্ন উঠেছে। মাসব্যাপী এই সংঘাতে ইরান ও লেবাননে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, যাদের মধ্যে অনেকেই বেসামরিক নাগরিক।

তেহরানের শাসনব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরাশক্তি ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানের মুখে পড়লেও টিকে থাকতে সক্ষম হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা, আত্মত্যাগ এবং টিকে থাকার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ওপর ভর করে ইরানের শাসনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহের পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দেওয়ার কৌশল ইরানের জন্য একটি কার্যকর অস্ত্র প্রমাণিত হয়েছে। এই প্রণালি বন্ধ হওয়ার ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যে বিধ্বংসী প্রভাব পড়েছে, তা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কিছু ছাড় দিতে বাধ্য করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের কট্টরপন্থিদের ক্ষুব্ধ করেছে।

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বন্দর অবরোধ তুলে নেওয়া, তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং বিদেশে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করার সুযোগ পাচ্ছে। তবে এই সমঝোতা স্মারকটি কোনো চূড়ান্ত চুক্তি নয়, বরং এটি আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর একটি প্রাথমিক কাঠামো মাত্র। বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির একটি বড় ভুল এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তির সূচনা করতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরাকে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ইরানের নতুন গোপন সেল গঠন

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ: সমঝোতা ও প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০২:০২:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেকার রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। এই যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা ও উদ্দেশ্য নিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই বড় প্রশ্ন উঠেছে। মাসব্যাপী এই সংঘাতে ইরান ও লেবাননে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, যাদের মধ্যে অনেকেই বেসামরিক নাগরিক।

তেহরানের শাসনব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরাশক্তি ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানের মুখে পড়লেও টিকে থাকতে সক্ষম হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা, আত্মত্যাগ এবং টিকে থাকার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ওপর ভর করে ইরানের শাসনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহের পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দেওয়ার কৌশল ইরানের জন্য একটি কার্যকর অস্ত্র প্রমাণিত হয়েছে। এই প্রণালি বন্ধ হওয়ার ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যে বিধ্বংসী প্রভাব পড়েছে, তা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কিছু ছাড় দিতে বাধ্য করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের কট্টরপন্থিদের ক্ষুব্ধ করেছে।

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বন্দর অবরোধ তুলে নেওয়া, তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং বিদেশে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করার সুযোগ পাচ্ছে। তবে এই সমঝোতা স্মারকটি কোনো চূড়ান্ত চুক্তি নয়, বরং এটি আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর একটি প্রাথমিক কাঠামো মাত্র। বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির একটি বড় ভুল এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তির সূচনা করতে পারে।