ঢাকা ০৩:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

ইরান চুক্তি: ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিতে তীব্র বিভেদ ও উদ্বেগ

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান চুক্তি নিয়ে তার নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেই নতুন করে বিভাজন দেখা দিয়েছে। কয়েক মাস ধরে চলা ব্যয়বহুল ও অস্বস্তিকর সামরিক অভিযানের পর ইরান থেকে যুক্তরাষ্ট্র পর্যাপ্ত সুবিধা আদায় করতে পেরেছে কিনা, তা নিয়ে ক্যাপিটল হিল এবং দলের অভ্যন্তরে প্রশ্ন উঠেছে।

বুধবার ট্রাম্প প্রশাসন চুক্তির অনুলিপি প্রকাশ করার পর বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটর তীব্র সমালোচনা, সংশয় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কংগ্রেসের বাইরের দলের পুরনো নেতারাও এই চুক্তি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, এমনকি রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যমে ট্রাম্পের মিত্ররাও উদ্বেগ জানিয়েছেন। লুইজিয়ানার রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘এই চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক আকাঙ্ক্ষা রোধ করা যায়নি।’ তিনি এই সামরিক পদক্ষেপকে গত কয়েক দশকের মধ্যে ‘সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্র নীতিগত ভুল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পাঁচ মাস আগে, ট্রাম্প এই যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে নিজের দলের মধ্যে বিভিন্ন মতামতের মুখোমুখি হচ্ছেন। এই প্রাথমিক চুক্তির আওতায় ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে এবং তাদের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের আটকে থাকা সম্পদ ছেড়ে দেওয়া হবে। এছাড়া, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক সহযোগীরা ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল গঠন করবে। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এতে কোনো বিনিয়োগ করবে না।

টেক্সাসের রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ তার একটি পডকাস্টে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এই চুক্তি কি ইরানের আয়াতুল্লাহকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে? আমি আশা করি এমনটা হবে না।’ তবে তিনি ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপ শুরুর সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে বলেন, প্রেসিডেন্ট ইরানের সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি ধ্বংস করেছেন। ট্রাম্পের সাবেক কট্টর সমর্থক এবং জর্জিয়ার সাবেক প্রতিনিধি মার্জোরি টেলর গ্রিন এই সামরিক পদক্ষেপকে ‘সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়’ বলে সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে, জাতিসংঘে ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি বলেন, ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সাইটে আঘাত করা সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল, তবে যে হুমকি আমরা ধ্বংস করেছি, তা পুনর্গঠনের জন্য অর্থ প্রদান করা একটি বিশাল ভুল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরাকে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ইরানের নতুন গোপন সেল গঠন

ইরান চুক্তি: ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিতে তীব্র বিভেদ ও উদ্বেগ

আপডেট সময় : ১০:৩৪:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান চুক্তি নিয়ে তার নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেই নতুন করে বিভাজন দেখা দিয়েছে। কয়েক মাস ধরে চলা ব্যয়বহুল ও অস্বস্তিকর সামরিক অভিযানের পর ইরান থেকে যুক্তরাষ্ট্র পর্যাপ্ত সুবিধা আদায় করতে পেরেছে কিনা, তা নিয়ে ক্যাপিটল হিল এবং দলের অভ্যন্তরে প্রশ্ন উঠেছে।

বুধবার ট্রাম্প প্রশাসন চুক্তির অনুলিপি প্রকাশ করার পর বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটর তীব্র সমালোচনা, সংশয় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কংগ্রেসের বাইরের দলের পুরনো নেতারাও এই চুক্তি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, এমনকি রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যমে ট্রাম্পের মিত্ররাও উদ্বেগ জানিয়েছেন। লুইজিয়ানার রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘এই চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক আকাঙ্ক্ষা রোধ করা যায়নি।’ তিনি এই সামরিক পদক্ষেপকে গত কয়েক দশকের মধ্যে ‘সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্র নীতিগত ভুল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পাঁচ মাস আগে, ট্রাম্প এই যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে নিজের দলের মধ্যে বিভিন্ন মতামতের মুখোমুখি হচ্ছেন। এই প্রাথমিক চুক্তির আওতায় ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে এবং তাদের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের আটকে থাকা সম্পদ ছেড়ে দেওয়া হবে। এছাড়া, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক সহযোগীরা ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল গঠন করবে। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এতে কোনো বিনিয়োগ করবে না।

টেক্সাসের রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ তার একটি পডকাস্টে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এই চুক্তি কি ইরানের আয়াতুল্লাহকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে? আমি আশা করি এমনটা হবে না।’ তবে তিনি ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপ শুরুর সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে বলেন, প্রেসিডেন্ট ইরানের সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি ধ্বংস করেছেন। ট্রাম্পের সাবেক কট্টর সমর্থক এবং জর্জিয়ার সাবেক প্রতিনিধি মার্জোরি টেলর গ্রিন এই সামরিক পদক্ষেপকে ‘সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়’ বলে সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে, জাতিসংঘে ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি বলেন, ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সাইটে আঘাত করা সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল, তবে যে হুমকি আমরা ধ্বংস করেছি, তা পুনর্গঠনের জন্য অর্থ প্রদান করা একটি বিশাল ভুল।