ঢাকা ০৫:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

ইসলামী ব্যাংকের আরডিএস প্রকল্প নিয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তথ্যে গরমিল

জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংকের পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প (আরডিএস) নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদনের বড় গরমিল পাওয়া গেছে। সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছেন, এই প্রকল্পের আওতায় ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে এবং এর মধ্যে একটি বড় অংশের কোনো হদিস নেই। তবে ব্যাংকের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, আরডিএস প্রকল্পের মোট ঋণ স্থিতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবির তিন ভাগের এক ভাগেরও কম।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প (আরডিএস) ইসলামী ব্যাংকের একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প আছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আগে ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। ৫ আগস্টের পর নির্বাচনী বৈতরণি পার হওয়ার জন্য আরও ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, যেসব টাকার কোনো হদিস নেই।’

তবে ইসলামী ব্যাংকের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই দাবির সঙ্গে বাস্তব চিত্রের কোনো মিল নেই। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে আরডিএস প্রকল্পের মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকা। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে এই ঋণ স্থিতি ছিল ৬ হাজার ৭১২ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরে এই খাতে ঋণ বেড়েছে মাত্র ৭৭ কোটি টাকা বা ১ দশমিক ১৪ শতাংশ। প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, বিতরণকৃত এই ঋণের সিংহভাগই আদায় হচ্ছে এবং খেলাপি ঋণের পরিমাণ অত্যন্ত সামান্য। মোট ঋণের মধ্যে খেলাপি হয়ে পড়েছে মাত্র ২৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা। গত বছর শেষে এই খাতের ঋণ আদায়ের হার ছিল ৯৭.৫০ শতাংশ, যা ২০২৪ সাল শেষে ছিল ৯৮.৪৯ শতাংশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরডিএস প্রকল্প শুরুর পর থেকে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ৩৫ হাজার ৩৫২টি গ্রামের ১৭ লাখ ৭৫ হাজার পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় ঋণ দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে ইসরায়েলে ‘আইন অমান্য’ আন্দোলনের ডাক

ইসলামী ব্যাংকের আরডিএস প্রকল্প নিয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তথ্যে গরমিল

আপডেট সময় : ০১:০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংকের পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প (আরডিএস) নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদনের বড় গরমিল পাওয়া গেছে। সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছেন, এই প্রকল্পের আওতায় ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে এবং এর মধ্যে একটি বড় অংশের কোনো হদিস নেই। তবে ব্যাংকের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, আরডিএস প্রকল্পের মোট ঋণ স্থিতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবির তিন ভাগের এক ভাগেরও কম।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প (আরডিএস) ইসলামী ব্যাংকের একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প আছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আগে ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। ৫ আগস্টের পর নির্বাচনী বৈতরণি পার হওয়ার জন্য আরও ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, যেসব টাকার কোনো হদিস নেই।’

তবে ইসলামী ব্যাংকের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই দাবির সঙ্গে বাস্তব চিত্রের কোনো মিল নেই। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে আরডিএস প্রকল্পের মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকা। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে এই ঋণ স্থিতি ছিল ৬ হাজার ৭১২ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরে এই খাতে ঋণ বেড়েছে মাত্র ৭৭ কোটি টাকা বা ১ দশমিক ১৪ শতাংশ। প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, বিতরণকৃত এই ঋণের সিংহভাগই আদায় হচ্ছে এবং খেলাপি ঋণের পরিমাণ অত্যন্ত সামান্য। মোট ঋণের মধ্যে খেলাপি হয়ে পড়েছে মাত্র ২৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা। গত বছর শেষে এই খাতের ঋণ আদায়ের হার ছিল ৯৭.৫০ শতাংশ, যা ২০২৪ সাল শেষে ছিল ৯৮.৪৯ শতাংশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরডিএস প্রকল্প শুরুর পর থেকে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ৩৫ হাজার ৩৫২টি গ্রামের ১৭ লাখ ৭৫ হাজার পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় ঋণ দেওয়া হয়েছে।