আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের কথিত ‘পুশ ইন’ বা জোরপূর্বক বাংলাদেশে লোক পাঠানোর অভিযোগকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই দিল্লিতে শুরু হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক। তবে বাংলাদেশ এ বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হিসেবে তুলতে চাইলেও ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক এজেন্ডায় পুশ ইন প্রসঙ্গ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে জানা গেছে।
সোমবার চার দিনব্যাপী এ সম্মেলনে অংশ নিতে ১৪ সদস্যের বিজিবি প্রতিনিধিদল নয়াদিল্লিতে পৌঁছায়। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। অন্যদিকে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন বিএসএফ মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সীমান্ত হত্যা, অবৈধ পুশ ইন এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে বাংলাদেশ আলোচনা করতে আগ্রহী হলেও বিএসএফের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তসীমান্ত অপরাধ, অনুপ্রবেশ, সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া লঙ্ঘন এবং সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখানে পুশ ইন প্রসঙ্গের উল্লেখ নেই।
বাংলাদেশের অভিযোগ, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আটক ব্যক্তিদের জাতীয়তা যাচাই এবং প্রচলিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আসাম, দিল্লি, গুজরাট, রাজস্থান, ওডিশা, উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্র থেকে আটক ব্যক্তিদের নিয়ে এমন অভিযোগ সামনে এসেছে।
ঢাকার অবস্থান হলো, কোনো ব্যক্তিকে প্রত্যাবাসনের আগে তার নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিয়ম। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে ভারতের কাছে একাধিকবার আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে।
রোববার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং পুশ ইন ইস্যু বিজিবির পক্ষ থেকে বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হবে। তিনি জানান, বাংলাদেশ এ বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখবে এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসরণের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরবে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থলসীমান্ত রয়েছে। দীর্ঘ এই সীমান্তে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, সীমান্ত হত্যা এবং নাগরিক প্রত্যাবাসন দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিশ্লেষকদের মতে, পুশ ইন ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থানে পার্থক্য থাকলেও দিল্লির এ বৈঠক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে পুশ ইন প্রশ্নে কোনো অগ্রগতি বা সমঝোতা হয় কি না, সেদিকে নজর থাকবে দুই দেশের কূটনৈতিক মহলের।
রিপোর্টারের নাম 























