ঢাকা ১০:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজারে টানা বর্ষণ: চকরিয়া-মাতামুহুরিতে ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি, চরম দুর্ভোগ

কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরি উপজেলায় দুই দিনের টানা ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুই উপজেলার অন্তত ১২টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে, যার ফলে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বৃষ্টির পানি ও মাতামুহুরি নদীর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকার বেশ কিছু গ্রামীণ সড়কও তলিয়ে গেছে, যা যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী থেকে মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজে অপরিকল্পিতভাবে মাটির বাঁধ দেওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ও চিরিঙ্গা ইউনিয়নের অন্তত ৬টি গ্রামে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ওই এলাকার বাসিন্দারা নিজেদের সহায়-সম্পদ রক্ষায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স গ্রুপের দেওয়া অপরিকল্পিত মাটির বাঁধ অপসারণে কাজ করছেন বলেও জানা গেছে।

এদিকে, টানা ভারী বর্ষণের কারণে মাতামুহুরি নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধি পেলেও সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। তবে এখনো ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পাহাড়বেষ্টিত গ্রামীণ জনপদে পাহাড় ধসের পাশাপাশি বন্যার আশঙ্কা করছেন দুই উপজেলার নিচু এলাকার সাধারণ মানুষ। সম্ভাব্য পাহাড় ধসের আশঙ্কায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছালেকুজ্জামান জানিয়েছেন, তার ইউনিয়নের ডেইঙ্গাকাটা, শান্তির বাজার, বিবিরখিল, রসুলাবাদসহ বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের অন্তত ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এছাড়া সোনাইছড়ি নদীতে তীব্র পাহাড়ি ঢলের তোড়ে এই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছমন্নির ঘাটা এলাকার সড়ক ভেঙে গিয়ে লোকালয়ে ঢলের পানি ঢুকছে। সোনাইছড়ি নদীর অববাহিকায় পানির স্রোত বাড়তে থাকায় ৩, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নদী তীরবর্তী জায়গা তীব্র ভাঙনের কবলে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করতে পারে। অন্যান্য ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরাও তাদের এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন, যেখানে আরও প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্ষমতার পাঁচ মাস: তৃণমূল ও কেন্দ্রে বিএনপির সাংগঠনিক জড়তা কাটাতে কাউন্সিলের অপেক্ষা

কক্সবাজারে টানা বর্ষণ: চকরিয়া-মাতামুহুরিতে ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি, চরম দুর্ভোগ

আপডেট সময় : ০৮:৪৪:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরি উপজেলায় দুই দিনের টানা ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুই উপজেলার অন্তত ১২টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে, যার ফলে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বৃষ্টির পানি ও মাতামুহুরি নদীর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকার বেশ কিছু গ্রামীণ সড়কও তলিয়ে গেছে, যা যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী থেকে মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজে অপরিকল্পিতভাবে মাটির বাঁধ দেওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ও চিরিঙ্গা ইউনিয়নের অন্তত ৬টি গ্রামে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ওই এলাকার বাসিন্দারা নিজেদের সহায়-সম্পদ রক্ষায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স গ্রুপের দেওয়া অপরিকল্পিত মাটির বাঁধ অপসারণে কাজ করছেন বলেও জানা গেছে।

এদিকে, টানা ভারী বর্ষণের কারণে মাতামুহুরি নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধি পেলেও সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। তবে এখনো ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পাহাড়বেষ্টিত গ্রামীণ জনপদে পাহাড় ধসের পাশাপাশি বন্যার আশঙ্কা করছেন দুই উপজেলার নিচু এলাকার সাধারণ মানুষ। সম্ভাব্য পাহাড় ধসের আশঙ্কায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছালেকুজ্জামান জানিয়েছেন, তার ইউনিয়নের ডেইঙ্গাকাটা, শান্তির বাজার, বিবিরখিল, রসুলাবাদসহ বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের অন্তত ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এছাড়া সোনাইছড়ি নদীতে তীব্র পাহাড়ি ঢলের তোড়ে এই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছমন্নির ঘাটা এলাকার সড়ক ভেঙে গিয়ে লোকালয়ে ঢলের পানি ঢুকছে। সোনাইছড়ি নদীর অববাহিকায় পানির স্রোত বাড়তে থাকায় ৩, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নদী তীরবর্তী জায়গা তীব্র ভাঙনের কবলে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করতে পারে। অন্যান্য ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরাও তাদের এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন, যেখানে আরও প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন।