ঢাকা ১২:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

এক টাকার বেতন আর এক সমুদ্র উদারতা: সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অজানা মানবিক দিক

প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বদান্যতা এবং উদারতার এক অজানা দিক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন তার সাবেক প্রেস সচিব ও সিনিয়র সাংবাদিক মারুফ কামাল খান। বিভিন্ন সময়ে বেগম জিয়ার আপসহীন মনোভাব এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও ত্যাগের কথা তুলে ধরার ধারাবাহিকতায় এবার তিনি জানালেন যে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী নিজের বেতনের পুরো টাকা এতিমখানায় দিয়ে দিতেন। সোমবার দিবাগত রাত বারোটার দিকে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের জন্ম দিয়েছে।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মারুফ কামাল খান তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে নব্বইয়ের দশকের ছাত্র ও গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের পর একানব্বই সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম এবং সমগ্র মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী। ওই ঐতিহাসিক সময়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রাপ্য বেতন বা রেমুনারেশন থেকে মাত্র এক টাকা নিজের জন্য নিতেন এবং বাকি পুরো টাকাটাই অত্যন্ত নীরবে এতিমখানায় দান করে দিতেন।

সাবেক এই প্রেস সচিব আরও জানান যে পরবর্তীতে তিনি যখন পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন এবং দুই দফায় বিরোধীদলীয় নেত্রীর গুরুদায়িত্ব পালন করেন তখনও তার এই মানবিক ধারা অব্যাহত ছিল। সেই সময়গুলোতে তিনি যে বেতন পেতেন তার একটি বিশাল অংশ চ্যারিটি বা দাতব্য কাজে খরচ করতেন। দুঃস্থ ও দরিদ্র এবং এতিম মানুষদের সার্বিক সাহায্য করার পাশাপাশি অনেকের চিকিৎসার ব্যবস্থাও তিনি করতেন। এমনকি দরিদ্র পরিবারের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার সম্পূর্ণ খরচও তিনি বহন করতেন। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো তিনি কখনোই চাইতেন না যে তার এই মহৎ কাজগুলো জনসমক্ষে প্রচার হোক।

এই নীরব বদান্যতার একটি বাস্তব ও দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ দিতে গিয়ে মারুফ কামাল খান জানান যে দুই হাজার এক সালে ম্যাডাম জিয়া যখন পুনরায় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন একটি ছেলে মাধ্যমিক বা এসএসসি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে। প্রধানমন্ত্রী যখন জানতে পারেন যে ছেলেটি একটি অতিশয় দরিদ্র পরিবারের সন্তান এবং তাদের পক্ষে কোনোভাবেই লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় তখন তিনি স্বপ্রণোদিত হয়ে ওই আর্থিক সঙ্গতিহীন ছেলেটির লেখাপড়ার যাবতীয় ব্যয়ভার গ্রহণ করেন। বেগম খালেদা জিয়ার এই সহায়তায় ছেলেটি পরবর্তীতে অত্যন্ত কৃতিত্বের সঙ্গে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় এবং বর্তমানে সে বাংলাদেশ সরকারের একজন যুগ্মসচিব হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতিসংঘে বাংলাদেশের জোরালো প্রস্তাব

এক টাকার বেতন আর এক সমুদ্র উদারতা: সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অজানা মানবিক দিক

আপডেট সময় : ১১:২৩:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বদান্যতা এবং উদারতার এক অজানা দিক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন তার সাবেক প্রেস সচিব ও সিনিয়র সাংবাদিক মারুফ কামাল খান। বিভিন্ন সময়ে বেগম জিয়ার আপসহীন মনোভাব এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও ত্যাগের কথা তুলে ধরার ধারাবাহিকতায় এবার তিনি জানালেন যে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী নিজের বেতনের পুরো টাকা এতিমখানায় দিয়ে দিতেন। সোমবার দিবাগত রাত বারোটার দিকে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের জন্ম দিয়েছে।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মারুফ কামাল খান তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে নব্বইয়ের দশকের ছাত্র ও গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের পর একানব্বই সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম এবং সমগ্র মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী। ওই ঐতিহাসিক সময়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রাপ্য বেতন বা রেমুনারেশন থেকে মাত্র এক টাকা নিজের জন্য নিতেন এবং বাকি পুরো টাকাটাই অত্যন্ত নীরবে এতিমখানায় দান করে দিতেন।

সাবেক এই প্রেস সচিব আরও জানান যে পরবর্তীতে তিনি যখন পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন এবং দুই দফায় বিরোধীদলীয় নেত্রীর গুরুদায়িত্ব পালন করেন তখনও তার এই মানবিক ধারা অব্যাহত ছিল। সেই সময়গুলোতে তিনি যে বেতন পেতেন তার একটি বিশাল অংশ চ্যারিটি বা দাতব্য কাজে খরচ করতেন। দুঃস্থ ও দরিদ্র এবং এতিম মানুষদের সার্বিক সাহায্য করার পাশাপাশি অনেকের চিকিৎসার ব্যবস্থাও তিনি করতেন। এমনকি দরিদ্র পরিবারের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার সম্পূর্ণ খরচও তিনি বহন করতেন। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো তিনি কখনোই চাইতেন না যে তার এই মহৎ কাজগুলো জনসমক্ষে প্রচার হোক।

এই নীরব বদান্যতার একটি বাস্তব ও দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ দিতে গিয়ে মারুফ কামাল খান জানান যে দুই হাজার এক সালে ম্যাডাম জিয়া যখন পুনরায় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন একটি ছেলে মাধ্যমিক বা এসএসসি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে। প্রধানমন্ত্রী যখন জানতে পারেন যে ছেলেটি একটি অতিশয় দরিদ্র পরিবারের সন্তান এবং তাদের পক্ষে কোনোভাবেই লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় তখন তিনি স্বপ্রণোদিত হয়ে ওই আর্থিক সঙ্গতিহীন ছেলেটির লেখাপড়ার যাবতীয় ব্যয়ভার গ্রহণ করেন। বেগম খালেদা জিয়ার এই সহায়তায় ছেলেটি পরবর্তীতে অত্যন্ত কৃতিত্বের সঙ্গে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় এবং বর্তমানে সে বাংলাদেশ সরকারের একজন যুগ্মসচিব হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছে।