ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘু, বিশেষ করে মুসলমানদের ক্রমবর্ধমান সংকট ও উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রভাব নিয়ে একটি বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) কীভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) ক্ষমতায় আনার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে এবং নরেন্দ্র মোদির শাসনামলে ভারতের অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরএসএসের আদর্শিক ভিত্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সংগঠনটি নাৎসি আদর্শে অনুপ্রাণিত এবং তাদের রাজনৈতিক দর্শন মূলত খ্রিষ্টান ও ইসলামবিদ্বেষী। জাতিসংঘ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিভিন্ন তথ্যের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বৈষম্য, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং ঘরবাড়ি ধ্বংসের মতো ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে উচ্ছেদ অভিযানের নামে প্রশাসনিকভাবে মুসলমানদের লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টিও আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচিত হচ্ছে।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপ এবং ইন্ডিয়া হেট ল্যাবের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে মুসলমানদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব যেমন কমছে, তেমনি তাদের ওপর ধর্মীয় বৈষম্য ও হামলার ঘটনাও বাড়ছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর লোকসভায় মুসলিম সদস্য সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪.৪ শতাংশে এবং বর্তমান কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় কোনো মুসলিম প্রতিনিধি নেই। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, গরু রক্ষার নামে গণপিটুনি এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর ক্রমবর্ধমান বিধিনিষেধ ভারতের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সংকটের মুখে ফেলেছে।
রিপোর্টারের নাম 
























