ঢাকা ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

তাপপ্রবাহে শিশুদের সুরক্ষায় প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতা

দেশজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা। অতিরিক্ত গরমে খেলাধুলা বা বাইরে অবস্থানের কারণে অনেক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ছে। কারও শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিচ্ছে, কেউ অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পড়ছে, আবার কারও মধ্যে মাথা ঘোরা বা বমির মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য অসতর্কতাও শিশুদের জন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের শরীর দ্রুত গরম হয়ে যায় এবং পরিবেশের তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাও তুলনামূলক কম। এ কারণে নবজাতক, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু এবং আগে থেকে শারীরিক জটিলতায় ভোগা শিশুরা বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে।

তাপপ্রবাহের সময় শিশুদের পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বয়স অনুযায়ী নিয়মিত পানি, ডাবের পানি, লেবুর শরবত কিংবা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর তরল পানীয় দেওয়া যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত চিনি বা কৃত্রিম উপাদানসমৃদ্ধ পানীয় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু তৃষ্ণা পেলেই নয়, নির্দিষ্ট সময় পরপর শিশুদের পানি পান করানো উচিত। কারণ অনেক শিশু খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকায় তৃষ্ণার অনুভূতি উপেক্ষা করে।

সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সূর্যের তাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই এ সময় শিশুদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাওয়া বা রোদে খেলাধুলা সীমিত রাখা প্রয়োজন। বাইরে যেতে হলে ছাতা, টুপি বা মাথা ঢাকার ব্যবস্থা রাখা উচিত।

পোশাকের ক্ষেত্রেও সচেতনতা জরুরি। হালকা রঙের, ঢিলেঢালা এবং সুতি কাপড়ের পোশাক শিশুদের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। এতে শরীরে বাতাস চলাচল সহজ হয় এবং অতিরিক্ত গরম অনুভূত হয় না।

শুধু বাইরে নয়, ঘরের পরিবেশও আরামদায়ক রাখা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা, ফ্যান ব্যবহার এবং ঘরকে ঠান্ডা রাখার মাধ্যমে শিশুদের স্বস্তি নিশ্চিত করা যায়।

তাপজনিত সমস্যার কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো— অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, অস্বাভাবিক ঘাম, শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া কিংবা আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত শিশুকে ঠান্ডা স্থানে নিয়ে গিয়ে পানি বা তরল খাবার দিতে হবে এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

অন্যদিকে, শিশুর শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে, খিঁচুনি দেখা দিলে, জ্ঞান হারানোর উপক্রম হলে বা স্বাভাবিক সাড়া না দিলে তা জরুরি চিকিৎসার বিষয় হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন।

অভিভাবকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হলো— কোনো অবস্থাতেই শিশুকে বন্ধ গাড়ির ভেতরে একা রেখে যাওয়া যাবে না। অল্প সময়ের মধ্যেই গাড়ির অভ্যন্তরের তাপমাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপপ্রবাহকে সাধারণ মৌসুমি অস্বস্তি হিসেবে না দেখে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। সচেতনতা, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ এবং রোদ থেকে সুরক্ষার মাধ্যমে শিশুদের গরমজনিত নানা জটিলতা থেকে নিরাপদ রাখা সম্ভব।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

তাপপ্রবাহে শিশুদের সুরক্ষায় প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতা

আপডেট সময় : ০২:৫৪:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

দেশজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা। অতিরিক্ত গরমে খেলাধুলা বা বাইরে অবস্থানের কারণে অনেক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ছে। কারও শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিচ্ছে, কেউ অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পড়ছে, আবার কারও মধ্যে মাথা ঘোরা বা বমির মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য অসতর্কতাও শিশুদের জন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের শরীর দ্রুত গরম হয়ে যায় এবং পরিবেশের তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাও তুলনামূলক কম। এ কারণে নবজাতক, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু এবং আগে থেকে শারীরিক জটিলতায় ভোগা শিশুরা বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে।

তাপপ্রবাহের সময় শিশুদের পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বয়স অনুযায়ী নিয়মিত পানি, ডাবের পানি, লেবুর শরবত কিংবা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর তরল পানীয় দেওয়া যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত চিনি বা কৃত্রিম উপাদানসমৃদ্ধ পানীয় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু তৃষ্ণা পেলেই নয়, নির্দিষ্ট সময় পরপর শিশুদের পানি পান করানো উচিত। কারণ অনেক শিশু খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকায় তৃষ্ণার অনুভূতি উপেক্ষা করে।

সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সূর্যের তাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই এ সময় শিশুদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাওয়া বা রোদে খেলাধুলা সীমিত রাখা প্রয়োজন। বাইরে যেতে হলে ছাতা, টুপি বা মাথা ঢাকার ব্যবস্থা রাখা উচিত।

পোশাকের ক্ষেত্রেও সচেতনতা জরুরি। হালকা রঙের, ঢিলেঢালা এবং সুতি কাপড়ের পোশাক শিশুদের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। এতে শরীরে বাতাস চলাচল সহজ হয় এবং অতিরিক্ত গরম অনুভূত হয় না।

শুধু বাইরে নয়, ঘরের পরিবেশও আরামদায়ক রাখা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা, ফ্যান ব্যবহার এবং ঘরকে ঠান্ডা রাখার মাধ্যমে শিশুদের স্বস্তি নিশ্চিত করা যায়।

তাপজনিত সমস্যার কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো— অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, অস্বাভাবিক ঘাম, শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া কিংবা আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত শিশুকে ঠান্ডা স্থানে নিয়ে গিয়ে পানি বা তরল খাবার দিতে হবে এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

অন্যদিকে, শিশুর শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে, খিঁচুনি দেখা দিলে, জ্ঞান হারানোর উপক্রম হলে বা স্বাভাবিক সাড়া না দিলে তা জরুরি চিকিৎসার বিষয় হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন।

অভিভাবকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হলো— কোনো অবস্থাতেই শিশুকে বন্ধ গাড়ির ভেতরে একা রেখে যাওয়া যাবে না। অল্প সময়ের মধ্যেই গাড়ির অভ্যন্তরের তাপমাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপপ্রবাহকে সাধারণ মৌসুমি অস্বস্তি হিসেবে না দেখে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। সচেতনতা, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ এবং রোদ থেকে সুরক্ষার মাধ্যমে শিশুদের গরমজনিত নানা জটিলতা থেকে নিরাপদ রাখা সম্ভব।