হলিউডের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় তারকাদের একজন Marilyn Monroe। মৃত্যুর ছয় দশকেরও বেশি সময় পর আজও তিনি বিশ্বজুড়ে সৌন্দর্য, গ্ল্যামার ও তারকাখ্যাতির এক অনন্য প্রতীক। তার জন্মের একশ বছর পূর্তি উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের হলিউডে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী নানা আয়োজন, প্রদর্শনী ও স্মরণানুষ্ঠান।

১৯২৬ সালের ১ জুন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে জন্ম নেওয়া মেরিলিন মনরোর শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার স্মৃতিবিজড়িত নানা স্থানে ভক্ত, গবেষক এবং চলচ্চিত্রপ্রেমীরা একত্রিত হয়েছেন। জন্মশতবর্ষ উদযাপনে বিশেষ প্রদর্শনী, চলচ্চিত্র প্রদর্শন, স্মারক নিলাম এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে হলিউড।

হলিউডের ঐতিহাসিক চাইনিজ থিয়েটারে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ অনুষ্ঠান। ১৯৫৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত Gentlemen Prefer Blondes চলচ্চিত্রে সহশিল্পী Jane Russell-এর সঙ্গে মেরিলিনের হাতের ছাপ সংরক্ষিত রয়েছে এই থিয়েটারে। জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সেখানে রাখা হয়েছে ১০০টি গোলাপ এবং বিশেষভাবে তৈরি একটি কেক। ভক্তরা সমবেত হয়ে তার স্মরণে জন্মদিনের গানও গেয়েছেন।

উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে Academy Museum of Motion Pictures-এ আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী। ‘মেরিলিন মনরো: হলিউড আইকন’ শীর্ষক এই প্রদর্শনীতে তার জীবনের শত শত দুর্লভ স্মারক স্থান পেয়েছে। প্রদর্শনীটি আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে।

এখানে দর্শনার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে মেরিলিনের ব্যবহৃত নানা সামগ্রী, অপ্রকাশিত আলোকচিত্র, ব্যক্তিগত নথি এবং তার অভিনয়জীবনের স্মরণীয় উপকরণ। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে ‘ডায়মন্ডস আর আ গার্লস বেস্ট ফ্রেন্ড’ গানের পরিবেশনার সময় পরা তার বিখ্যাত গোলাপি পোশাক, যা আজও চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম পরিচিত পোশাক হিসেবে বিবেচিত হয়।

একই সঙ্গে পুরো জুন মাসজুড়ে মেরিলিনের জনপ্রিয় চলচ্চিত্রগুলোর বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে The Asphalt Jungle, Niagara, The Seven Year Itch, Some Like It Hot এবং The Misfits।

জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ নিলামেরও আয়োজন করেছে বিখ্যাত নিলাম প্রতিষ্ঠান Julien’s Auctions। ‘১০০ ইয়ার্স অব মেরিলিন’ শিরোনামের এই নিলামে তার ব্যবহৃত প্রায় ২০০টি ব্যক্তিগত সামগ্রী বিক্রির জন্য তোলা হবে। এর মধ্যে রয়েছে অপ্রকাশিত ছবি, হাতে লেখা নোট, ব্যক্তিগত রেসিপি, প্রসাধনী সামগ্রী এবং তার অসমাপ্ত চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যের অংশ।

তবে মেরিলিন মনরোর জীবন শুধু সাফল্যের গল্প নয়, সংগ্রাম ও আত্মপ্রতিষ্ঠার এক অনন্য অধ্যায়ও। শৈশবে তিনি এতিমখানা ও বিভিন্ন পালক পরিবারের আশ্রয়ে বড় হয়েছেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে প্রথমবার বিয়ে করেন। পরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে একটি কারখানায় কাজ করার সময় এক আলোকচিত্রীর নজরে আসেন এবং সেখান থেকেই শুরু হয় তার মডেলিং জীবন।

পরবর্তীতে অভিনয় জগতে প্রবেশ করে তিনি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। নিজের স্বকীয় ব্যক্তিত্ব, অভিনয় দক্ষতা এবং আকর্ষণীয় উপস্থিতির মাধ্যমে তিনি বিশ্বব্যাপী খ্যাতি লাভ করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই নিজেকে হলিউডের সবচেয়ে আলোচিত তারকাদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

পর্দার বাইরেও তিনি ছিলেন সাহসী ও আত্মপ্রত্যয়ী। নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গঠন করা থেকে শুরু করে অভিনয়ের দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ—সব ক্ষেত্রেই তিনি প্রচলিত ধ্যানধারণার বাইরে গিয়ে কাজ করেছেন। নারী শিল্পীদের প্রতি বৈষম্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধেও তিনি সরব ছিলেন, যা পরবর্তী সময়ে আরও বেশি গুরুত্ব পায়।

১৯৬২ সালের আগস্টে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে তার জীবনাবসান ঘটে। অকালমৃত্যুর পরও তার জনপ্রিয়তা কমেনি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি পরিণত হয়েছেন একটি সাংস্কৃতিক প্রতীকে, যার প্রভাব আজও চলচ্চিত্র, ফ্যাশন ও জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে দৃশ্যমান।

জন্মের একশ বছর পরও হলিউডের এই কিংবদন্তিকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ ও ভালোবাসা প্রমাণ করে, মেরিলিন মনরো শুধু একজন অভিনেত্রী নন; তিনি এক অমর ইতিহাস, যিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন।
রিপোর্টারের নাম 
























