ঢাকা ০৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬

জঙ্গল সলিমপুরের ‘স্বঘোষিত রাজা’ জামাই ইয়াসিন, কীভাবে গড়ে উঠল সন্ত্রাসের সাম্রাজ্য?

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এখন দেশের অন্যতম আলোচিত জনপদ। দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ঘেরা এই দুর্গম এলাকায় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে গড়ে উঠেছে এক ধরনের সমান্তরাল শাসনব্যবস্থা। স্থানীয়দের ভাষায়, এর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মো. ইয়াসিন, যিনি ‘জামাই ইয়াসিন’ নামে বেশি পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তিনি শুধু একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী নন; বরং জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকায় অবৈধ দখল, ভূমি বাণিজ্য এবং সশস্ত্র আধিপত্যের মাধ্যমে নিজেকে ‘স্বঘোষিত রাজা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

সম্প্রতি আলীনগরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় আবারও আলোচনায় এসেছে ইয়াসিনের নাম। অভিযোগ রয়েছে, ২৪ মে গভীর রাতে প্রায় ৩০০ সশস্ত্র সদস্য নিয়ে তার বাহিনী যৌথ বাহিনীর একটি ক্যাম্পে হামলা চালায়। হামলায় দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি একে-৪৭ রাইফেলের মতো অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রও ব্যবহার করা হয়। এই ঘটনার পর ইয়াসিন ও তার বাহিনীকে ঘিরে নতুন করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, নোয়াখালী থেকে ২০০৩ সালে চট্টগ্রামে আসেন ইয়াসিন। প্রথম জীবনে একটি পাটকলের শ্রমিক হিসেবে কাজ করলেও পরে আলীনগর এলাকায় বসবাস শুরু করেন। ধীরে ধীরে অপরাধ জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে ওঠেন এবং একসময় পাহাড় কেটে প্লট বিক্রি, ভূমি দখল, অবৈধ বসতি স্থাপন এবং অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়ার মাধ্যমে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।

জঙ্গল সলিমপুরে বিয়ে করার কারণে তিনি স্থানীয়ভাবে ‘জামাই ইয়াসিন’ নামে পরিচিতি পান। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের একটি সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলেন এবং এলাকার অবৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নেন। স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ বিদ্যুৎ, পানির সংযোগ, জমি দখল ও প্লট বাণিজ্যসহ প্রায় সব ধরনের অনিয়মিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার প্রভাব রয়েছে।

২০২২ সালের জুলাই মাসে সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়িবহরে হামলা এবং এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যকে মারধরের ঘটনায় ইয়াসিনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। পরে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, গুম, নাশকতা এবং অন্যান্য অপরাধে একাধিক মামলা থাকার তথ্য প্রকাশ পায়। তবে পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও এলাকায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইয়াসিনের বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ড থানাসহ বিভিন্ন থানায় ১৫টিরও বেশি মামলা রয়েছে। তবুও দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকাজুড়ে প্রভাব বজায় রাখতে সক্ষম হন। স্থানীয়রা বলছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ইয়াসিনও নিজের রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করেছেন। একসময় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে তিনি নিজেকে বিএনপির একটি অংশের অনুসারী হিসেবে পরিচয় দেন। যদিও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতারা তার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

জঙ্গল সলিমপুরের অপরাধ জগতের আরেক আলোচিত নাম রোকন উদ্দিন। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ইয়াসিন ও রোকনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছে। জঙ্গল সলিমপুরের একটি অংশ রোকন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আলীনগর এলাকায় ইয়াসিনের প্রভাব বেশি বলে স্থানীয়রা মনে করেন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে র‌্যাবের একটি দল অভিযানে গেলে সশস্ত্র হামলার শিকার হয়। ওই ঘটনায় র‌্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারীদের একজন ছিলেন ইয়াসিন। এরপরও তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

সবশেষ মে মাসে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হামলাকারীরা শুধু গুলিবর্ষণই করেনি, বরং নির্মাণাধীন একটি ক্যাম্পে বুলডোজার চালিয়ে সেটি গুঁড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি বাহিনীর চলাচল ব্যাহত করতে বিভিন্ন সড়ক কেটে ফেলার অভিযোগও উঠেছে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বর্তমানে ইয়াসিন ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারে সেনাবাহিনী, র‌্যাব এবং পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চলছে। প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব যাই থাকুক না কেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

সম্প্রতি জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করার মতো দুঃসাহস যারা দেখিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে ভূমিদস্যুতা, সন্ত্রাস ও অবৈধ দখলদারিত্বের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমও জানিয়েছেন, জঙ্গল সলিমপুরে সক্রিয় সব সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তার মতে, পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা কোটি কোটি টাকার অবৈধ প্লট বাণিজ্য এবং আধিপত্য রক্ষার লড়াই থেকেই এসব সহিংসতার জন্ম হচ্ছে। দ্রুত অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও কার্যকর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা গেলে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব হবে।

স্থানীয়দের মতে, জঙ্গল সলিমপুর এখন শুধু একটি অপরাধপ্রবণ এলাকা নয়, বরং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, ভূমিদস্যুতা এবং সশস্ত্র আধিপত্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে। আর সেই বাস্তবতায় ‘জামাই ইয়াসিন’ নামটি বর্তমানে এলাকাটির সবচেয়ে আলোচিত এবং বিতর্কিত চরিত্রে পরিণত হয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: আদালতে সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে

জঙ্গল সলিমপুরের ‘স্বঘোষিত রাজা’ জামাই ইয়াসিন, কীভাবে গড়ে উঠল সন্ত্রাসের সাম্রাজ্য?

আপডেট সময় : ০১:৫৬:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এখন দেশের অন্যতম আলোচিত জনপদ। দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ঘেরা এই দুর্গম এলাকায় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে গড়ে উঠেছে এক ধরনের সমান্তরাল শাসনব্যবস্থা। স্থানীয়দের ভাষায়, এর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মো. ইয়াসিন, যিনি ‘জামাই ইয়াসিন’ নামে বেশি পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তিনি শুধু একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী নন; বরং জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকায় অবৈধ দখল, ভূমি বাণিজ্য এবং সশস্ত্র আধিপত্যের মাধ্যমে নিজেকে ‘স্বঘোষিত রাজা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

সম্প্রতি আলীনগরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় আবারও আলোচনায় এসেছে ইয়াসিনের নাম। অভিযোগ রয়েছে, ২৪ মে গভীর রাতে প্রায় ৩০০ সশস্ত্র সদস্য নিয়ে তার বাহিনী যৌথ বাহিনীর একটি ক্যাম্পে হামলা চালায়। হামলায় দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি একে-৪৭ রাইফেলের মতো অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রও ব্যবহার করা হয়। এই ঘটনার পর ইয়াসিন ও তার বাহিনীকে ঘিরে নতুন করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, নোয়াখালী থেকে ২০০৩ সালে চট্টগ্রামে আসেন ইয়াসিন। প্রথম জীবনে একটি পাটকলের শ্রমিক হিসেবে কাজ করলেও পরে আলীনগর এলাকায় বসবাস শুরু করেন। ধীরে ধীরে অপরাধ জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে ওঠেন এবং একসময় পাহাড় কেটে প্লট বিক্রি, ভূমি দখল, অবৈধ বসতি স্থাপন এবং অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়ার মাধ্যমে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।

জঙ্গল সলিমপুরে বিয়ে করার কারণে তিনি স্থানীয়ভাবে ‘জামাই ইয়াসিন’ নামে পরিচিতি পান। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের একটি সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলেন এবং এলাকার অবৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নেন। স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ বিদ্যুৎ, পানির সংযোগ, জমি দখল ও প্লট বাণিজ্যসহ প্রায় সব ধরনের অনিয়মিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার প্রভাব রয়েছে।

২০২২ সালের জুলাই মাসে সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়িবহরে হামলা এবং এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যকে মারধরের ঘটনায় ইয়াসিনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। পরে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, গুম, নাশকতা এবং অন্যান্য অপরাধে একাধিক মামলা থাকার তথ্য প্রকাশ পায়। তবে পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও এলাকায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইয়াসিনের বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ড থানাসহ বিভিন্ন থানায় ১৫টিরও বেশি মামলা রয়েছে। তবুও দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকাজুড়ে প্রভাব বজায় রাখতে সক্ষম হন। স্থানীয়রা বলছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ইয়াসিনও নিজের রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করেছেন। একসময় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে তিনি নিজেকে বিএনপির একটি অংশের অনুসারী হিসেবে পরিচয় দেন। যদিও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতারা তার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

জঙ্গল সলিমপুরের অপরাধ জগতের আরেক আলোচিত নাম রোকন উদ্দিন। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ইয়াসিন ও রোকনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছে। জঙ্গল সলিমপুরের একটি অংশ রোকন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আলীনগর এলাকায় ইয়াসিনের প্রভাব বেশি বলে স্থানীয়রা মনে করেন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে র‌্যাবের একটি দল অভিযানে গেলে সশস্ত্র হামলার শিকার হয়। ওই ঘটনায় র‌্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারীদের একজন ছিলেন ইয়াসিন। এরপরও তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

সবশেষ মে মাসে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হামলাকারীরা শুধু গুলিবর্ষণই করেনি, বরং নির্মাণাধীন একটি ক্যাম্পে বুলডোজার চালিয়ে সেটি গুঁড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি বাহিনীর চলাচল ব্যাহত করতে বিভিন্ন সড়ক কেটে ফেলার অভিযোগও উঠেছে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বর্তমানে ইয়াসিন ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারে সেনাবাহিনী, র‌্যাব এবং পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চলছে। প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব যাই থাকুক না কেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

সম্প্রতি জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করার মতো দুঃসাহস যারা দেখিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে ভূমিদস্যুতা, সন্ত্রাস ও অবৈধ দখলদারিত্বের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমও জানিয়েছেন, জঙ্গল সলিমপুরে সক্রিয় সব সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তার মতে, পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা কোটি কোটি টাকার অবৈধ প্লট বাণিজ্য এবং আধিপত্য রক্ষার লড়াই থেকেই এসব সহিংসতার জন্ম হচ্ছে। দ্রুত অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও কার্যকর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা গেলে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব হবে।

স্থানীয়দের মতে, জঙ্গল সলিমপুর এখন শুধু একটি অপরাধপ্রবণ এলাকা নয়, বরং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, ভূমিদস্যুতা এবং সশস্ত্র আধিপত্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে। আর সেই বাস্তবতায় ‘জামাই ইয়াসিন’ নামটি বর্তমানে এলাকাটির সবচেয়ে আলোচিত এবং বিতর্কিত চরিত্রে পরিণত হয়েছে।